Image description

সকালের আলো তখনও ফোটেনি। হাসপাতালের করিডোরে হালকা নিস্তব্ধতা, শুধু মাঝে মাঝে নার্সদের দ্রুত পায়ের শব্দ আর দূরের কোনো মেশিনের বিপ বিপ শোনা যাচ্ছিল।

এক সময় সেই শান্ত সকালটা বদলে যায় হৃদয়বিদারক দৃশ্যে। একে একে নিভতে থাকে আলো হয়ে পৃথিবীতে আসা ৬ নবজাতকের প্রাণ।

রাজধানীর আদ্-দীন হাসপাতালে এক ওয়ার্ডে হঠাৎ করেই শুরু হয় বিশৃঙ্খলা। অভিযোগ—এয়ার কন্ডিশনারের গ্যাস লিকেজ থেকে ছড়িয়ে পড়ে অস্বাভাবিক পরিস্থিতি।

মুহূর্তের মধ্যে ওয়ার্ডের ভেতরের বাতাস ভারি হয়ে ওঠে, ছোট ছোট শিশু রোগীদের শ্বাস-প্রশ্বাসে দেখা দেয় জটিলতা। চিকিৎসক ও নার্সরা দ্রুত ছুটে আসেন, শুরু হয় জরুরি চিকিৎসা। কিন্তু সেই দ্রুততা আর আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থার সব চেষ্টা যেন সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিতে পারেনি। একে একে নিস্তব্ধ হয়ে যায় ৬টি ছোট প্রাণ।
 

এক শিশুর দাদী কান্নাজড়িত কণ্ঠে অভিযোগ করেন, চিকিৎসকেরা যদি পরিস্থিতি সামাল দিতে না পারেন, তাহলে তাদের অন্য হাসপাতালে যেতে বলা উচিত ছিল। তিনি বলেন, তার নাতনিকে আইসিইউতে নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয় এবং ওষুধ কেনার জন্য কয়েক হাজার টাকা খরচও করানো হয়। কিন্তু ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার পর গিয়ে জানতে পারেন, শিশুটি আর বেঁচে নেই।

তিনি আরো অভিযোগ করেন, রাতে ওয়ার্ডে পর্যাপ্ত ডাক্তার ও নার্স ছিলেন না। বাচ্চারা সারারাত কান্না করছিল এবং একে একে অসুস্থ হয়ে পড়ছিল।

আরেক মা, যিনি নিজের সন্তান হারিয়েছেন তিনি বলেন, রাতে ওয়ার্ডের প্রায় সব শিশুই কান্না ও বমি করছিল। তারা কেউ বুঝতে পারেননি কী ঘটছে। সকালে শিশুর অবস্থা খারাপ হলে তাকে বাইরে নেয়া হয়। পরে এনআইসিইউতে নেয়ার পর চিকিৎসকেরা প্রথমে আশ্বস্ত করলেও কিছু সময়ের মধ্যেই শিশুটির মৃত্যুর খবর দেওয়া হয়।