Image description

নাড়ির টানে বাড়ি ফেরার চিরায়ত আকুলতা ছাপিয়ে ঈদযাত্রাকে ‘সরকারি প্যাকেজে’ রূপান্তরের জাদুকরী কৌশল করেছেন বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা। বিদ্যুতের ‘লোডশেডিংয়ের বাস্তব চিত্র’ দেখার নামে সরকারি সফরে নিজ জেলায় ঈদ উদযাপনে যাচ্ছেন তারা।

এমন একজন কর্মকর্তা বিদ্যুৎ বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. মাসুদুর রহমান মাসুদ। তিনি যাবেন কুড়িগ্রামে, যেখানে তার জন্মস্থান। যদিও মাঠপর্যায়ের চিত্র বলছে ভিন্ন কথা।

কুড়িগ্রাম-লালমনিরহাট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির তথ্য অনুযায়ী, এলাকায় এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে লোডশেডিংয়ের বালাই নেই। যেখানে অন্ধকারই নেই, সেখানে ‘লোডের ওপর শেডিং’ দেখতে যাচ্ছেন এই কর্মকর্তা।

মাসুদুর রহমানের মতো এবার ঈদের ছুটিতে বাড়ি যাচ্ছেন বিদ্যুৎ বিভাগের একাধিক কর্মকর্তা। আর তাও সরকারি সফরের নামে। তারা সেখানে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি কেমন তা দেখবেন।

এ বিষয়ে ফোনে জানতে চাইলে মাসুদুর রহমান মাসুদ আগামীর সময়কে বললেন, কেবল তিনি একাই নন, তার মতো আরও বেশ কয়েকজন কর্মকর্তাকে এবার ঈদে নিজ নিজ এলাকায় গিয়ে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি পরিদর্শনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

তার দাবি এটা সরকারি ও ব্যক্তিগত সফর। যদিও আদেশে সরকারি সফরের কথাই বলা আছে। তবে ঠিক কতজন এবার এমন সফরে যাচ্ছেন তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

গত ২৩ মে এ বিষয়ে একটি অফিস আদেশ জারি করে বিদ্যুৎ বিভাগ। আদেশে স্বাক্ষর করেন মাসুদুর রহমান নিজেই।

সেখানে বলা হয়, ঈদুল আজহার ছুটিতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের বাস্তব চিত্র দেখতে তিনি সফরে যাবেন। পাশাপাশি লোডশেডিং পরিস্থিতি সরেজমিন যাচাই করে বিদ্যুৎ বিভাগে দেবেন প্রতিবেদন।

কুড়িগ্রাম-লালমনিরহাট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মহাব্যবস্থাপক (চলতি দায়িত্ব) মো. শামীম পারভেজের ভাষ্য, ‘এক-দেড় সপ্তাহ ধরে এলাকায় তেমন কোনো লোডশেডিং নেই। তবে ঝড়-বৃষ্টির কারণে মাঝেমধ্যে বিদ্যুৎ বিভ্রাট হয়।’

সফরসূচি অনুযায়ী মঙ্গলবার সকাল ৯টায় ঢাকা থেকে কুড়িগ্রামের উদ্দেশ্যে সড়কপথে যাত্রা শুরু করে ওইদিন সেখানে থাকবেন মাসুদুর রহমান। পরদিন সকাল ১০টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত কুড়িগ্রাম-লালমনিরহাট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় এবং কুড়িগ্রাম জেলার বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করবেন। এরপর দুইদিন অর্থাৎ ঈদের দিন এবং পরদিন কোনো কার্যক্রম নেই।

৩০ মে সকাল ১০টায় লালমনিরহাট জেলার বিভিন্ন এলাকা সরেজমিন পরিদর্শন ও সেখানে রাতযাপনের কথা রয়েছে। ৩১ মে কোনো কর্মসূচি নেই। পরদিন পহেলা জুন আবার সেই সকাল ৯টায় কুড়িগ্রাম থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা করবেন। আদেশে বলা হচ্ছে, এটি একটি সরকারি সফর। যথাযথ কর্তৃপক্ষের নির্দেশক্রমে এ আদেশ জারি করা হয়েছে।

জানতে চাইলে জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. এম শামসুল আলম আগামীর সময়কে বললেন, বিদ্যুৎ খাতে অভিনব কৌশলে লুণ্ঠন করছে সবাই। শুধু রাজনীতিবিদ কিংবা ব্যবসায়ী নন, সরকারি কর্মকর্তারাও লুন্ঠনমূলক ব্যয় করছেন। যে যার মতো করে ক্ষমতার অপব্যবহার করেই চলেছেন।