Image description

সমকালের প্রধান খবর— চার মাসে ১১৮ কন্যাশিশু ধর্ষণের শিকার, খুন ১৭। খবরে বলা হয়, দেশের বিভিন্ন জায়গায় সাম্প্রতিক সময়ে কন্যাশিশুদের ধর্ষণ ও ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনা বেড়েছে। এতে শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ, উঠছে প্রশ্ন। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) তথ্য বলছে, গত পহেলা জানুয়ারি থেকে ২০ মে পর্যন্ত ১১৮ শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। ধর্ষণচেষ্টার শিকার হয়েছে ৪৬ শিশু। ধর্ষণের পর হত্যার শিকার হয়েছে ১৪ শিশু এবং ধর্ষণচেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে হত্যা করা হয়েছে তিন শিশুকে। ধর্ষণের শিকার দুই শিশু আত্মহত্যা করেছে। এছাড়া, বিভিন্ন ঘটনায় জানুয়ারি থেকে এপ্রিল মাস পর্যন্ত ১১৫ শিশু খুন হয়েছে।

 

সাম্প্রতিক সময়ের ধর্ষণ ও হত্যার পাঁচটি ঘটনা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, সবকটিতে শিশুরা প্রতিবেশী, আত্মীয় কিংবা ঘনিষ্ঠজনের শিকার হয়েছে। বিশেষজ্ঞ ও মানবাধিকারকর্মীদের মতে, এসব ঘটনার পেছনে শুধু ব্যক্তিগত অপরাধ প্রবণতা নয়; দীর্ঘদিনের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অবক্ষয় দায়ী। মাদকাসক্তির বিস্তার, বিকৃত, অনলাইন কনটেন্টের সহজলভ্যতা, পরিবার ও শিক্ষা ব্যবস্থায় নৈতিক শিক্ষার ঘাটতি এবং অপরাধ করে পার পাওয়ার প্রবণতা এ পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে।তাদের মতে, শিশু নির্যাতন ও হত্যার মামলাগুলোর বিচার প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে ভুক্তভোগী পরিবার ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হওয়ার শঙ্কায় থাকে।

আজকের পত্রিকার শিরোনাম- এবার দল গোছাতে উদ্যোগী বিএনপি। এতে বলা হয়,
সরকার গঠনের পর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ( বিএনপি ) এবার দল গোছাতে ও গতিশীল করতে উদ্যোগ নিচ্ছে । এর অংশ হিসেবে চলতি বছর দলের জাতীয় কাউন্সিল এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর কমিটি পুনর্গঠন করার আভাস পাওয়া গেছে । এমন আভাস দিয়েছেন বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতারা । দলের নেতারা বলছেন , জাতীয় কাউন্সিল ও সংগঠনগুলোর কমিটি পুনর্গঠন করার আভাসে নেতা - কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ - উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে । অঙ্গসংগঠনগুলোর মধ্যে চাঙাভাব এসেছে । এসব দলে গতিসঞ্চারে ভূমিকা রাখবে । এতে দল সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী হবে । বিএনপির অধিকাংশ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে মেয়াদোত্তীর্ণ ও আংশিক কমিটি দিয়ে চলছে বলে পদপ্রত্যাশী নেতা - কর্মীদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে । কমিটি পুনর্গঠনের আভাসে সেই হতাশা কাটছে । তরুণ নেতারা যেমন পদপ্রত্যাশী , তেমনি বর্তমানে নেতৃত্বে থাকা পুরোনো নেতারাও পদ ধরে রাখতে চান ।

বিএনপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রতি তিন বছর পরপর জাতীয় কাউন্সিল
অনুষ্ঠানের বাধ্যবাধকতা রয়েছে । তবে সর্বশেষ জাতীয় কাউন্সিল হয়েছে ১০ বছর আগে ২০১৬ সালের মার্চে । বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির ১৯ টি পদের মধ্যে বর্তমানে বহাল আছেন মাত্র ১৪ জন । বাকি পাঁচটি পদ শূন্য । আবার দলের অনেক নেতা এখন সরকার ও সংসদে দায়িত্ব পালন করছেন । ফলে সাংগঠনিক কাজে তাঁদের সময় কমেছে । এ অবস্থায় সপ্তম জাতীয় কাউন্সিল করার আভাস দিয়েছেন দলটির নীতিনির্ধারকেরা । তাঁরা মনে করছেন , জাতীয় কাউন্সিল আয়োজন দলের এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা - কর্মীদের চাঙা করবে । বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গত এপ্রিলের শুরুতে সাংবাদিকদের বলেছেন , জাতীয় কাউন্সিল করতে অন্তত কয়েক মাস লাগবে । তাঁরা খুব দ্রুত দলকে কাউন্সিলের দিকে নেওয়ার চেষ্টা করবেন । তবে জাতীয় কাউন্সিলের সুনির্দিষ্ট কোনো দিনক্ষণ এখনো চূড়ান্ত হয়নি বলে জানান বিএনপির একাধিক নীতিনির্ধারক ।

বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম— ২০২৬ সালে বিশ্বে হামে মৃত্যুতে শীর্ষে বাংলাদেশ। খবরে বলা হয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে গতকাল পর্যন্ত দেশে হাম ও উপসর্গে মৃত্যু হয়েছে ৪৮৮ জনের। যা বিশ্বে ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত হামে সর্বোচ্চ মৃত্যুর ঘটনা। একই সময়কালে হাম ও উপসর্গে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মৃত্যু হয়েছে সুদানে। সেখানে মারা গেছে ৩৭১ জন। অথচ মার্চ পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যায় বাংলাদেশের চেয়ে দুই ধাপ এগিয়ে ছিল সুদান। হাম ও উপসর্গে এই বছর মৃত্যুতে বিশ্বে তৃতীয় অবস্থানে আছে পাকিস্তান। দেশটিতে হামে অন্তত ৭১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বহু দেশে নতুন করে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র-কানাডার মতো উন্নত দেশগুলোতেও হাম ফিরে আসার তথ্য পাওয়া গেছে।

তবে মৃত্যুর সংখ্যার আধিক্যের কারণে গুরুতর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বাংলাদেশকে ঘিরে। আক্রান্তের তুলনায় বাংলাদেশে মৃত্যুহার বেশি হওয়ার পেছনে একাধিক কারণ কাজ করছে বলে মনে করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। যার মধ্যে রয়েছে নিয়মিত টিকাদানে ঘাটতি, দীর্ঘদিন এমআর (হাম-রুবেলা) ক্যাম্পেইন বন্ধ থাকা, শিশুদের অপুষ্টি, দেরিতে হাসপাতালে আসা এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মধ্যে স্বাস্থ্যসেবার সীমিত সুযোগ। বিশেষ করে পাঁচ বছরের কম বয়সী অপুষ্ট শিশুরা হামের জটিলতায় দ্রুত নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, শ্বাসকষ্ট ও মস্তিষ্কের প্রদাহে আক্রান্ত হচ্ছে।

দ্য ডেইলি স্টারের প্রথম পাতার একটি খবরের শিরোনাম— State enterprises bleed Tk 88,200cr every year: WB study; অর্থাৎ রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলো বছরে লোকসান গুণছে ৮৮ হাজার ২০০ কোটি টাকা: বিশ্বব্যাংকের গবেষণা। এই খবরে বলা হয়, বাংলাদেশের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতিবছর প্রায় ৮৮ হাজার ২০০ কোটি টাকা লোকসান গুণছে। এসব প্রতিষ্ঠানে সরকারি কোষাগার থেকে এই ব্যয়ের প্রভাব অন্যতম বড় আর্থিক ঝুঁকিতে পরিণত হয়েছে বলে বিশ্বব্যাংকের গবেষণায় উঠে এসেছে।

বিপিসি, চট্টগ্রাম বন্দর, বিটিআরসি ও বেবিচকের মতো কয়েকটি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান সীমিত মুনাফা অর্জন করে। কিন্তু বাকি প্রতিষ্ঠানগুলোর অধিকাংশই হয় খুবই কম মুনাফা অথবা লোকসান করে।

আর্থিক ক্ষতির সবচেয়ে বড় উৎস হলো জ্বালানি খাত; যেখানে পিডিবি, পেট্রোবাংলা ও বিআরইবি মোট লোকসানের ৯০ শতাংশেরও বেশির জন্য দায়ী।

প্রতিযোগিতামূলক বাজার কাঠামোতে কাজ করলেও অধিকাংশ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান লোকসান করে; যেখানে বিকাশমান বেসরকারি খাত বিদ্যমান।

সমীক্ষাটিতে টিসিবি বন্ধ করে দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। যেটিকে বড় অপচয়কারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখা হয়েছে এবং দরিদ্র মানুষের কাছে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে এর কার্যকারিতা নিয়ে বিতর্কের কথা বলা হয়।

পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের সহায়তায় প্রস্তুতকৃত এই গবেষণায় বলা হয়েছে, স্বাধীনতার ৫৩ বছর পর এবং একটি সমৃদ্ধ বেসরকারি খাতের প্রেক্ষাপটে টিসিবির প্রয়োজনীয়তা সুস্পষ্ট নয়। এমনকি শক্তিশালী ও প্রাণবন্ত সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির বিকল্প হতে পারে না টিসিবি।

নয়া দিগন্তের প্রধান খবর— পশ্চিমবঙ্গে সিএএ কার্যকর ও 'বাংলাদেশী ফেরতের' ঘোষণা। এতে বলা হয়, ভারতের পশ্চিমবঙ্গে নতুন বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এসে সিএএ কার্যকর এবং ২০২৪ সালের ৩১শে ডিসেম্বরের পর ভারতে প্রবেশকারীদের 'অবৈধ বাংলাদেশি' হিসেবে ফেরত পাঠানো হবে।

পশ্চিমবঙ্গের নয়া মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, এটি নিছক প্রশাসনিক বা নির্বাচনী ঘোষণা নয়। দক্ষিণ এশিয়ার বর্তমান ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় এই সিদ্ধান্তের প্রভাব পড়তে পারে সীমান্ত নিরাপত্তা, নাগরিকত্ব রাজনীতি, ভারতীয় ফেডারেল কাঠামো, আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্য এবং বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ওপরও।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পশ্চিমবঙ্গে সিএএ বাস্তবায়নকে কেবল অভ্যন্তরীণ রাজনীতির আলোকে দেখলে বিষয়টির গভীরতা বোঝা যাবে না।

এটি একদিকে ভারতের অভ্যন্তরীণ আদর্শিক পুনর্গঠনের অংশ, অন্যদিকে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা কৌশলের সম্প্রসারণ। একই সাথে বাংলাদেশ, চীন এবং উত্তর-পূর্ব ভারতকে ঘিরে দিল্লির বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক পরিকল্পনার সাথেও এর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে।

দেশ রূপান্তরের খবর— স্বপ্ন যখন মরণফাঁদ। খবরে বলা হয়, অনেকে বিভিন্ন এজেন্সি ও দালালের মাধ্যমে বেশি বেতনের চাকরি, উন্নত জীবনের প্রলোভনে মানব পাচারকারীর খপ্পরে পড়ে সর্বস্বান্ত হচ্ছেন। আবার অবৈধভাবে ইউরোপ যাওয়ার চেষ্টায় সাগরে অনেকের সলিল সমাধি হচ্ছে। এ অবস্থায় মানবপাচার প্রতিরোধব্যবস্থা নতুন করে সাজাচ্ছে প্রশাসন। ইতোমধ্যে তৈরি হয়েছে কঠোর আইন। নিয়ন্ত্রণে আনতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চলছে দফায় দফায় বৈঠক। প্রস্তুত হচ্ছে পাচারকারীদের তালিকা।

এসব ঘটনার সঙ্গে ট্রাভেল এজেন্সির যোগসাজশ থাকায় তাদের বিরুদ্ধে সরকার হার্ডলাইনে যাচ্ছে। এর অংশ হিসেবে ২ হাজার ৪৯২টি রিক্রুটিং এজেন্সিকে নজরদারিতে রেখেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

এর মধ্যে পাচারকারীদের তালিকা প্রায় প্রস্তুত করে এনেছে পুলিশের দুটি বিশেষ ইউনিট। বিশেষ করে গুরুতর অভিযোগ থাকা এজেন্সিগুলোতে বাড়তি নজর দিচ্ছে পুলিশ। এছাড়া, এজেন্সিগুলোর মালিকদের রাজনৈতিক মতাদর্শও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী বলেছেন, মানবপাচার প্রতিরোধে আমরা কঠোর হচ্ছি। দোষীদের চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনতে নতুন আইন তৈরি করা হয়েছে। পাশাপাশি মানবপাচারকারীদের ব্যাংক হিসাবও তলবের প্রক্রিয়া চলছে। এর সঙ্গে জড়িত ট্রাভেল এজেন্সির বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। কাউকে ছাড় না দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

যুগান্তরের প্রধান শিরোনাম- খুনি সোহেল রানার প্রকাশ্য ফাঁসির দাবি: রামিসার জন্য কাঁদছে দেশ। প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘ছোট্ট যে জন ছিল রে সবচেয়ে .... সেই দিয়েছে সকল শূন্য করে...’

কবি সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের ‘ছিন্নমুকুল’ কবিতার এই পঙ্ক্তিগুলো যেন আজ পল্লবীর রামিসাদের বাড়ির প্রতিটি দেওয়ালের হাহাকার। সাত বছরের ছোট্ট নিষ্পাপ শিশুটির হাসিতে সারা বাড়ি মুখরিত থাকত, সেই রামিসা আর নেই। পাষণ্ড প্রতিবেশীর বিকৃত লালসার শিকার হয়ে পৃথিবী থেকে চিরতরে বিদায় নিতে হলো তাকে। রামিসার শূন্য ঘরে পড়ে থাকা খেলার পুতুল আর আদরের বিড়ালছানা ‘মিনি’ আজ সঙ্গীহীন। মেয়ের শোকে পাথর হয়ে যাওয়া বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লার শুধু একটাই আকুতি-‘বিচার না পারেন না করেন, অন্তত আল্লাহর ওয়াস্তে সমাজটা বদলায়া দেন।’ রামিসার এই নির্মম হত্যাকাণ্ডে স্তব্ধ পুরো দেশ। খুনি সোহেলের প্রকাশ্য ফাঁসির দাবিতে বৃহস্পতিবার রাজধানীর পল্লবীসহ সারা দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও রাজপথে নেমে আসে হাজারো ক্ষুব্ধ মানুষ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও চলছে প্রতিবাদের ঝড়। তাদের একটাই দাবি, এমন বর্বরতার যেন আর পুনরাবৃত্তি না হয়।

পল্লবীর সাত নম্বর সড়কে রামিসাদের বাসার সামনে দিনভর বিক্ষোভ করেছেন এলাকাবাসী। সেখানে জড়ো হন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। বিক্ষোভ করেন রামিসার সহপাঠীরাও। পল্লবী থানায় ঢুকে এবং কালশী সড়ক অবরোধ করে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন এলাকাবাসী। তারা ধর্ষক ও খুনি সোহেল রানার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

দুপুরে রামিসাদের বাসার সামনে গিয়ে দেখা যায় শখানেক মানুষের জটলা। তারা খুনির বিচার দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছেন। পাঁচতলা ভবনের তৃতীয়তলায় রামিসাদের বাসা। আর ঠিক তার বিপরীত পাশেই খুনি সোহেল রানার বাসা। ওই বাসাতেই ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যা করা হয় রামিসাকে।

বাসায় গিয়ে দেখা যায়, শোকে স্তব্ধ পুরো পরিবার। বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা মেয়ের শোকে পাগলপ্রায়। পাশেই দাঁড়িয়ে আছেন রামিসার বোন রাইশা আক্তার। ভেতরের একটি রুমে স্তব্ধ হয়ে বসে আছেন মা পারভীন আক্তার। রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা সরকারের উদ্দেশে বলেন, ‘আমার বাচ্চা তো আর ফিরায় দিতে পারবেন না। বিচার না পারেন না করেন, অন্তত আল্লাহর ওয়াস্তে এমন একটা সমাজব্যবস্থা দেন, যে ব্যবস্থায় আর কোনো বাবার বুক যেন খালি না হয়। আর কোনো মার যেন বুক খালি না হয়। আর কোনো ভাইয়ের যেন ভাই না হারায়। আমি এইটাই চাই। সমাজটাকে একটু বদলায়া দেন আল্লাহর ওয়াস্তে।’

তিনি বলেন, ‘আমার বয়স ৫৫। আমি এখনো ওরকমভাবে দেখিনি যে, আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে অপরাধী কোনোভাবে বের হয়ে যায়নি। আমি শুনতে পেরেছি খুনি সোহেল নাকি আরও একটা অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিল এবং জামিনে বের হয়ে এসেছে। আবারও হয়তো সে জামিনে বের হয়ে আসবে এবং আরেকটা অপরাধ করবে।’

রামিসার মা বলেন, বড় মেয়ে রাইশা রামিসাকে বলেছিল, ‘তুমি ঘরে থাকো, বাসায় থাকো, আমি চাচার বাড়ি থেকে পাঁচ মিনিটে আসতেছি। পরে ও (রামিসা) আবার যাইতে নিছে, দরজাটা খোলামাত্রই ওরে (রামিসা) নিয়া গেছে টান দিয়া। আমি একটা চিৎকারও শুনেছি। চিৎকার যে ও দিছে, সেটা আমি বুঝতে পারি নাই। ভাবছি পাশের ফ্ল্যাটের হয়তো কোনো বাচ্চা দিছে।’

দিনভর বিক্ষোভ : বৃহস্পতিবার দিনভর রামিসাদের বাড়ির সামনে মানুষ ভিড় করেন। কেউ ব্যথিত, কেউ নিজ সন্তানের কথা ভেবে শঙ্কিত, আবার কেউ ক্ষুব্ধ। খুনি সোহেল রানার সর্বোচ্চ শাস্তি চান তারা। সেখানে একাত্মতা প্রকাশ করতে যান সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ-সদস্য সানজিদা ইসলাম তুলিসহ আরও অনেকে। স্থানীয় এক নারী ঘাতক সোহেলের বিষয়ে বলেন, ও এক নম্বর চরিত্রহীন ছিল। ও এত খারাপ ছিল, ও এখানে দাঁড়াইয়া আমার জানালার দিকে তাকিয়ে থাকত। আমি আমার স্বামীকে দুই-তিন দিন বলছি। ও ইয়াবা, গাঁজা সবই খেত।

রামিসার বাসার সামনে টানানো হয়েছে ব্যানার। সেখানে লেখা হয়েছে, রামিসা হত্যার বিচার চাই, হত্যাকারীদের জনসমক্ষে ফাঁসি চাই। তিন বছরের সন্তান কোলে নিয়ে প্রতিবাদ জানাতে এসেছেন, চার নম্বর সড়কের বাসিন্দা রিয়া মনি। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দেশে যতগুলো ধর্ষণ, হত্যা হয়েছে আমরা কখনো সঠিক বিচার পাইনি। ১৫ দিন, এক মাস তোলপাড় হয়। পরে সবাই চুপ হয়ে যায়। কোনো শাস্তি আমরা দেখতে পাই না। পুলিশ ধরলেও এক মাস, দুই মাস জেল খেটে আবার বের হয়ে যায়।

তিনি বলেন, আমরা চাই রামিসার খুনির ফাঁসি হোক। আর সরকার যদি না পারে তাহলে খুনিকে জনতার হাতে ছাইড়া দিক। আমরা তার বিচার করব। ওর (খুনি) বাইচা থাকার কোনো অধিকার নাই। ও কীভাবে পারল একটা সাত বছরের শিশুর শরীর থেকে মাথা আলাদা করতে। দুইটা হাত কেটে দিতে। আমারও বাচ্চা কোলে। এর নিরাপত্তা কে দেবে। আমরা মেয়ে মানুষ হয়ে কি পাপ করছি।

বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিক্ষোভ মিছিল : মিরপুরে পপুলার মডেল হাইস্কুলের শিক্ষার্থী ছিল রামিসা। তার হত্যার বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।

বৃহস্পতিবার সকালে রামিসার বাসার সামনে থেকে মিরপুর এ এইচ মডেল স্কুলের ব্যানারে মিছিলটি শুরু হয়। পরে মিরপুর-১১ এলাকার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করেন অংশগ্রহণকারীরা। মিছিলে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের অধিকাংশই ছিল ৮ থেকে ১০ বছর বয়সি। তারা ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ ও ‘জাস্টিস ফর রামিসা’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেয়। এ সময় তাদের হাতে বিচারের দাবিতে বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। মিরপুর এ এইচ মডেল স্কুলের শিক্ষক জাবেদ বলেন, এই নৃশংস ঘটনায় আমরা সংহতি জানাতে এসেছি। ভবিষ্যতে যেন আর কোনো শিশু এমন ঘটনার শিকার না হয়, সেজন্য খুনির সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। বিচার দীর্ঘায়িত হলে অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্ক বাড়বে এবং অনেকেই সন্তানকে স্কুলে পাঠাতে ভয় পাবেন।

বিচার দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে লালমাটিয়ার এভেরোজ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের শিক্ষার্থীরা। বেলা ১১টায় স্কুলের সামনে এই কর্মসূচির আয়োজন করে শিক্ষার্থীরা। মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার দ্রুত বিচার দাবি করেন।

পল্লবী থানায় ঢুকে এলাকাবাসীর বিক্ষোভ : পল্লবী থানার ভেতরে ঢুকেও বিক্ষোভ করেন এলাকাবাসী। তারা খুনির দ্রুত বিচার নিশ্চিতের দাবি জানান। বিক্ষোভকারীদের হাতে বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড ছিল। এ সময় পুলিশ তাদের বিচারের আশ্বাস দিয়ে থানা থেকে চলে যেতে বলেন।

গত ১৯ মে সকালে পল্লবীতে ওই নৃশংস হত্যার ঘটনা ঘটে। খুনি সোহেল রানা (৩২) রিকশা মেকানিক। ওইদিন সন্ধ্যায় তাকে নারায়ণগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করে পল্লবী থানা পুলিশ। এর আগে তার স্ত্রী সম্পাকে বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয়। এ ঘটনায় রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন।

দাদা-দাদির কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত রামিসা : মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান-শ্রীনগর প্রতিনিধি জানান, বুধবার এশার নামাজের পর জানাজা শেষে শিশু রামিসার দাফন সম্পন্ন হয়েছে। সিরাজদিখান উপজেলার ইছাপুরা ইউনিয়নের মধ্যম শিয়ালদী গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে দাদা-দাদির কবরের পাশে তার লাশ দাফন করা হয়। জানাজায় আত্মীয়স্বজন, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও এলাকাবাসী অংশ নেন। দাফনের সময় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।