বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের পরবর্তী প্রধান কোচ কে হচ্ছেন— তা নিয়ে কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটতে যাচ্ছে। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) আজ এক বিবৃতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে তার নাম নিশ্চিত করেছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের নতুন হেড কোচ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র বংশোদ্ভূত জার্মান থমাস ঢুলিকে নিয়োগ দিয়ে আমরা আশাবাদী ও রোমাঞ্চিত। বিশ্ব ফুটবলে দীর্ঘ ৪৩ বছরের অভিজ্ঞতা নিয়ে আসছেন তিনি। খেলোয়াড়ি জীবনে তিনি যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় দলের হয়ে খেলেছেন এবং ১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছেন।’
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এছাড়া ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্র দলের অধিনায়কের দায়িত্বও পালন করেন। পরবর্তীতে ২০১১ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ইউর্গেন ক্লিন্সম্যানের অধীনে যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় দলের সহকারী কোচ হিসেবে কাজ করেছেন। কোচ ঢুলি একটি দল গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বিশেষ দক্ষ এবং এশিয়ার ফুটবলের বাস্তবতা, চ্যালেঞ্জ ও সমর্থকদের আবেগ সম্পর্কে তার রয়েছে গভীর ধারণা। তার অধীনে ফিলিপাইন জাতীয় ফুটবল দল ইতিহাস গড়ে অপরাজিত থেকে এশিয়ান কাপের মূল পর্বে জায়গা নিশ্চিত করে এবং অর্জন করে নিজেদের ইতিহাসের সর্বোচ্চ বিশ্ব র্যাঙ্কিং।’
‘সবশেষে তিনি গায়ানা জাতীয় ফুটবল দলের হেড কোচ ছিলেন। তার অধীনে গায়ানা চারটি ম্যাচের সবকটিতেই জয় পায়। বাংলাদেশের তরুণ ফুটবলারদের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে জাতীয় দলকে আরও প্রতিযোগিতামূলক ও সফল এক দলে পরিণত করার লক্ষ্য নিয়েই এবার নতুন যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছেন থমাস ঢুলি।’ -বলে উল্লেখ করা হয় বাফুফের অফিসিয়াল বিবৃতিতে।
এর আগেই বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায় হামজা চৌধুরী ও সোমিতদের নতুন দায়িত্ব নিতে আজ শুক্রবার (২২ মে) সকালেই এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ঢাকায় এসে পৌঁছানোর কথা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ও ফুটবল ব্যক্তিত্ব থমাস ঢুলির।
বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়ালের দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, জাতীয় দলের আসন্ন কন্ডিশনিং ক্যাম্প শুরুর আগেই নতুন কোচকে ঢাকায় উড়িয়ে আনা হচ্ছে।
বাফুফে সভাপতি ও জাতীয় দল কমিটির প্রধান তাবিথ আউয়াল শুরু থেকেই জোর দিয়ে আসছিলেন যে, ক্যাম্পের প্রথম দিন থেকেই নতুন কোচ দলের সঙ্গে থাকবেন। আগামী ২৩ মে দেশের ঘরোয়া ফুটবলের সর্বোচ্চ আসর বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) চলতি মৌসুমের শেষ ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। এর ঠিক পরদিন থেকেই শুরু হওয়ার কথা রয়েছে জাতীয় ফুটবল দলের নতুন ক্যাম্প। সেই সূচি মাথায় রেখেই লিগ শেষ হওয়ার দুই দিন আগেই নতুন কোচকে বাংলাদেশে নিয়ে আসা হচ্ছে।
এর আগে বাফুফের জাতীয় দল কমিটির সর্বশেষ সভায় ওয়েলসের কোচ কোলম্যানকে ডেরায় ভেড়ানো সম্ভব নয় বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরপর সংক্ষিপ্ত তালিকায় থাকা কোচদের মধ্য থেকে থমাস ঢুলিকে বেছে নেওয়ার চূড়ান্ত দায়িত্ব সভাপতি তাবিথ আউয়ালের ওপরই ন্যস্ত করেছিল কমিটি। অবশেষে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে জাতীয় দল কমিটির অফিসিয়াল হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে আজ সকালে নতুন কোচের ঢাকায় আসার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়।
নতুন কোচের আগমনের আবহ তৈরি হয়েছিল মূলত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর থেকেই, যখন বাফুফে তাদের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে বিদায়ী স্প্যানিশ কোচ হ্যাভিয়ের ক্যাবরেরাকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় জানায়। ক্যাবরেরার চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নতুন অধ্যায়ের খোঁজে থাকা বাফুফে ইতোমধ্যেই থমাস ঢুলিকে বরণ করে নিতে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করে রেখেছে।
আজ ঢাকায় এসে পৌঁছানোর পর নতুন এই কোচকে একটি স্থানীয় ক্রীড়া বিষয়ক অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে বাফুফের। তবে প্রোটোকল অনুযায়ী, সেখানে সাংবাদিকদের সঙ্গে তার আনুষ্ঠানিক কোনো পরিচয় পর্ব বা কথা বলার সুযোগ দেওয়া হবে না। ঢাকায় বাফুফের দায়িত্বশীলদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষর ও আনুষঙ্গিক প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরই সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তাকে গণমাধ্যমের সামনে উপস্থাপন করা হবে।
খেলোয়াড় ও কোচ হিসেবে থমাস ঢুলির প্রোফাইল বেশ হেভিওয়েট। তিনি এর আগে ফিলিপাইন জাতীয় দলকে অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে মহাদেশীয় শ্রেষ্ঠত্বের আসর এশিয়ান কাপে কোয়ালিফাই করিয়েছিলেন। সর্বশেষ গায়ানা জাতীয় দলের প্রধান কোচের দায়িত্বে ছিলেন তিনি এবং সেখান থেকে পদত্যাগ করার পরই মূলত বাংলাদেশের কোচ হওয়ার আলোচনা গতি পায়।
খেলোয়াড় হিসেবেও তার ক্যারিয়ার দারুণ বর্ণাঢ্য; জার্মান বুন্দেসলিগার শীর্ষ ক্লাবে খেলার পাশাপাশি আমেরিকার জাতীয় দলের হয়ে ১৯৯৪ এবং ১৯৯৮ সালের ফুটবল বিশ্বকাপে মাঠে নেমেছিলেন তিনি। যার মধ্যে ১৯৯৮ সালের বিশ্বমঞ্চে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দলকে নেতৃত্ব দেন। তবে ঢুলির এই নিয়োগ নিয়ে ফুটবলার ও সমর্থকদের একটি অংশ পুরোপুরি সন্তুষ্ট হতে পারছেন না। থমাস ঢুলিকে প্রধান কোচ হিসেবে মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে গত দুই দিন ধরে বাফুফে ভবনের সামনে বিক্ষোভ করেছেন একদল সমর্থক এবং আজকেও তাদের প্রতিবাদ কর্মসূচি রয়েছে বলে জানা গেছে।