Image description

নরসিংদীর শিবপুর উপজেলায় এক অসহায় বিধবা নারী ও তার দুটি শিশু সন্তানের ওপর বর্বরোচিত হামলা ও ধর্ষণচেষ্টার ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় শিবপুর মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার মূল অভিযুক্ত ভাসুর মুরাদ মিয়াকে (৬২) গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।

স্থানীয় ও মামলা সূত্রে জানা যায়, প্রায় আড়াই বছর আগে শিবপুর উপজেলার যশোর এলাকার বাসিন্দা শাহ আলম মারা যান। এরপর থেকে তার স্ত্রী দুই শিশুকন্যা—রায়হান আক্তার (৯) ও নুরাশা আক্তার (৭)কে নিয়ে চরম অসহায়ত্বের মধ্যে জীবনযাপন করে আসছিলেন। এই সুযোগে তার ভাসুর মুরাদ মিয়া দীর্ঘদিন ধরে ওই বিধবা নারীর প্রতি কু-নজর দিয়ে আসছিল।

​গত বুধবার (২০ মে) সকালে ভুক্তভোগী নারী নিজ ঘরের পাশে রান্নার কাজে ব্যস্ত ছিলেন। এ সময় মুরাদ মিয়া ঘরে প্রবেশ করে তাকে কুপ্রস্তাব দেয়। এতে রাজি না হওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে মুরাদ রান্নার হাঁড়ি-পাতিল ফেলে দেয় এবং ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। নারীর চিৎকারে তার দুই শিশু সন্তান মাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে তাদেরও নির্মমভাবে মারধর করে আহত করা হয়। পরবর্তীতে অভিযুক্ত ও তার সহযোগীরা ভুক্তভোগীর ঘরবাড়ি ভাঙচুর করে।

​ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগ, ঘটনার পরপরই তিনি শিবপুর থানা পুলিশকে জানালেও তারা ঘটনাস্থলে আসেনি। নিরুপায় হয়ে তিনি জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ‘৯৯৯’-এ ফোন করলে পুলিশ এসে অভিযুক্ত মুরাদ মিয়াকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

​৩ বার এজাহার পরিবর্তনের গুরুতর অভিযোগ: ভুক্তভোগী নারী আরও অভিযোগ করেন, থানায় নেওয়ার পর প্রথমে পুলিশ মামলা নিতে অনীহা প্রকাশ করে। পরবর্তীতে তিনি এতিম সন্তানদের নিয়ে থানায় কান্নাকাটি করলে পুলিশ মামলা নিতে রাজি হয়। তবে স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তিকে মামলার দায় থেকে বাঁচাতে পুলিশ ভুক্তভোগীর এজাহারটি তিনবার পরিবর্তন করায় এবং মূল ঘটনার কিছু অংশ বাদ দিয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা রেকর্ড করে।

​গত বুহস্পতিবার (২১ মে) গ্রেপ্তারকৃত আসামি মুরাদ মিয়াকে নরসিংদী আদালতে প্রেরণ করা হলে বিচারক মো. মেহেদী হাসান তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

​মামলা তুলে নিতে প্রাণনাশের হুমকি: আসামি গ্রেপ্তার হলেও কাটেনি ভুক্তভোগী পরিবারের আতঙ্ক। অভিযোগ উঠেছে, আসামির অপর ভাই স্থানীয় ইউপি সদস্য গফুর মেম্বার, তার ছেলে কিরণ ও রিপন এবং দেবর রুহুল আমিন ও কবির মামলা তুলে নেয়ার জন্য ভুক্তভোগী বিধবাকে অনবরত প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছেন। বর্তমানে ওই নারী তার এতিম সন্তানদের নিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

​এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে প্রতিপক্ষের লোকজনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কাউকে পাওয়া যায়নি।

শিবপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ কহিনুর মিয়া জানান, “অভিযুক্তকে ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। ভুক্তভোগী নারী ও শিশুদের নিরাপত্তার বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সাথে দেখছি। জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা হয়েছে। কেউ যদি ভুক্তভোগীকে ভয়ভীতি বা হুমকি দেখায়, তবে তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

শীর্ষনিউজ