Image description

দেশের সীমিত মূসক বা ভ্যাট নেট সম্প্রসারণে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। আগামী এক বছরের মধ্যে ভ্যাট নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ২০ লাখে উন্নীত করার পরিকল্পনা নিয়েছে সংস্থাটি। এ লক্ষ্যে সারা দেশের ৪৬৫টি বণিক সমিতিকে চিঠি পাঠিয়ে সদস্য প্রতিষ্ঠানের তালিকা চাওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, বণিক সমিতিগুলোর তথ্য সংগ্রহের এই উদ্যোগ ভ্যাট নেট সম্প্রসারণের লক্ষ্য বাস্তবায়নের অংশ।

ভ্যাট নেট সীমিত থাকার কারণে এনবিআরকে প্রতি বছর একই করদাতাদের ওপর নির্ভর করতে হয়। এতে কর ফাঁকির ঝুঁকি বাড়ে এবং রাজস্ব প্রবৃদ্ধি কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় পৌঁছায় না। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ঋণদাতা সংস্থাগুলোর কাছ থেকেও কর-জিডিপি অনুপাত বাড়ানোর চাপ রয়েছে।

এনবিআরের কর্মকর্তারা জানালেন, বর্তমানে দেশে প্রায় ৮ লাখ ভ্যাট নিবন্ধিত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৭০ শতাংশ বা ৫ লাখ ৫০ হাজার প্রতিষ্ঠান নিয়মিত ভ্যাট রিটার্ন দাখিল করে। তবে দেশের ক্রমবর্ধমান অর্থনীতির তুলনায় এই সংখ্যা এখনো অনেক কম।

এনবিআরের এক কর্মকর্তা আগামীর সময়কে বলেছেন, ‘সারা দেশের ৪৬৫টি বণিক সমিতিকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। চিঠিতে তাদের সদস্য প্রতিষ্ঠানের তালিকা চাওয়া হয়েছে। এসব তালিকা সংশ্লিষ্ট ভ্যাট কমিশনারেটে পাঠানো হবে। পরে কমিশনারেটগুলো তালিকা যাচাই-বাছাই করে যেসব প্রতিষ্ঠানের ভ্যাট নিবন্ধন নেই, তাদের নিবন্ধনের আওতায় আনার ব্যবস্থা করবে।’

এনবিআর কর্মকর্তারা আরও জানান, সারা দেশে বিপুলসংখ্যক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এখনো ভ্যাট নিবন্ধনের বাইরে থাকায় রাজস্ব আদায়ে চাপ বাড়ছে।

আগামী অর্থবছরে এনবিআরের মোট রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হতে পারে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে শুধু ভ্যাট থেকেই ৩ লাখ কোটির বেশি আদায়ের লক্ষ্য ধরা হচ্ছে। চলতি অর্থবছর ভ্যাট আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লাখ ৮৬ হাজার কোটি টাকা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এত বড় লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ভ্যাট নিবন্ধন বাড়ানোর বিকল্প নেই।

এনবিআরের পাঠানো চিঠিতে বণিক সমিতিগুলোকে সদস্য প্রতিষ্ঠানের পূর্ণাঙ্গ তালিকার পাশাপাশি যেসব প্রতিষ্ঠানের বিআইএন (বিজনেস আইডেন্টিফিকেশন নম্বর) নেই, তাদের পৃথক তথ্য পাঠাতে বলা হয়েছে। এর মাধ্যমে কোন প্রতিষ্ঠান ভ্যাট নিবন্ধিত এবং কোনটি নিবন্ধনের বাইরে রয়েছে, তা শনাক্ত করা হবে। একই সঙ্গে বন্ধ বা নিষ্ক্রিয় প্রতিষ্ঠানও চিহ্নিত করতে চায় সংস্থাটি।

এনবিআর কর্মকর্তারা বলছেন, দেশের ভ্যাট নেট এখনো তুলনামূলকভাবে সংকুচিত। ফলে অল্পসংখ্যক নিয়মিত করদাতার ওপর রাজস্ব আদায়ের চাপ বেশি পড়ে। এতে একদিকে সরকারের প্রত্যাশিত রাজস্ব আদায় ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে কর ব্যবস্থায় বৈষম্যও তৈরি হচ্ছে।

এনবিআরের সদস্য (মূসক নীতি) মো. আজিজুর রহমান বলেছেন, ‘অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে ভ্যাট নিবন্ধন ছাড়াই ব্যবসা পরিচালনা করছে। আবার যাদের বিআইএন আছে, তাদের অনেকেই নিয়মিত রিটার্ন জমা দেন না। এতে প্রকৃত রাজস্ব সম্ভাবনা কাজে লাগানো যাচ্ছে না।’

তিনি আরও বলেছেন, ‘বণিক সমিতির তথ্য ব্যবহার করে যেসব প্রতিষ্ঠান এখনো নিবন্ধনের বাইরে রয়েছে, তাদের নিবন্ধনের আওতায় আনা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে যারা নিয়মিত ভ্যাট রিটার্ন জমা দেয় না, তাদের তদারকিও সহজ হবে।’

তবে ব্যবসায়ীদের একটি অংশ মনে করছে, শুধু তদারকি বাড়ালেই হবে না; ভ্যাট নিবন্ধন ও রিটার্ন দাখিল প্রক্রিয়াকে আরও সহজ, স্বচ্ছ ও পুরোপুরি ডিজিটাল করতে হবে।