Image description

দেশে প্রাণিজ খাদ্যের চাহিদা দ্রুতই বাড়ছে। কিন্তু সেই তুলনায় উৎপাদন বাড়ছে না। দুধ, গোশত ও ডিমে বড় ঘাটতির পাশাপাশি বাড়ছে আমদানি নির্ভরতা। অন্য দিকে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাত এখন দেশের পুষ্টি নিরাপত্তা, গ্রামীণ কর্মসংস্থান এবং কৃষিভিত্তিক অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ভরসা হয়ে উঠেছে। গবেষকরা বলছেন, সঠিক বিনিয়োগ, প্রযুক্তি ও নীতিসহায়তা নিশ্চিত করা গেলে এই দুই খাত হতে পারে বাংলাদেশের পরবর্তী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির বড় চালিকাশক্তি। খাত সংশ্লিষ্ট গবেষকরা দেশের খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতকে এখন সবচেয়ে সম্ভাবনাময় অর্থনৈতিক খাত হিসেবে দেখছেন। তবে এ ক্ষেত্রে উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, পশুখাদ্যের সঙ্কট, প্রযুক্তিগত দুর্বলতা, বিনিয়োগ ঘাটতি এবং জলবায়ু ঝুঁকি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. শরীফ আহমেদ চৌধুরী এবং বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএফআরআই) সাবেক মহাপরিচালক ড. এম এ মজিদের আলাদা দু’টি গবেষণা থেকে এসব তথ্য উঠে এসেছে। গত শনিবার বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসি) মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘চ্যালেঞ্জ অ্যান্ড অ্যাকশন ফর সাসটেইনেবল এগ্রিকালচারাল ডেভেলপমেন্ট ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক সেমিনারে এই দুই গবেষক মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাত নিয়ে তাদের গবেষণাপত্র উত্থাপন করেন। বাংলাদেশ একাডেমি অব এগ্রিকালচার (বিএএজি) এই সেমিনারের আয়োজন করে। সেমিনারে ‘বাংলাদেশের গবাদিপশু খাতের উন্নয়ন : প্রবৃদ্ধি, চ্যালেঞ্জ, বিনিয়োগের সুযোগ এবং আগামী দিনের করণীয়’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ড. শরীফ আহমেদ চৌধুরী এবং ‘বাংলাদেশের অ্যাকুয়াকালচার এবং অভ্যন্তরীণ মুক্ত জলাশয় মৎস্য খাত : বর্তমান পরিস্থিতি, অগ্রগতি, চ্যালেঞ্জ এবং আগামী দিনের করণীয়’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ড. এম এ মজিদ।

কৃষিজ জিডিপির বড় অংশ আসছে প্রাণিসম্পদ থেকে : ড. শরীফ আহমেদ চৌধুরী উত্থাপিত গবেষণাপত্রে বলা হয়, দেশের কৃষিজ জিডিপির প্রায় ৪০ শতাংশ অবদান আসছে গবাদিপশু খাত থেকে। ২০২৬ সালে এ খাতের বাজারমূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ৮ দশমিক ৩৬ থেকে ৮ দশমিক ৭২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা জাতীয় জিডিপির প্রায় ৮ দশমিক ১ শতাংশ। এর মধ্যে গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়াভিত্তিক রুমিন্যান্ট খাতের অংশ ৬০ থেকে ৬৫ শতাংশ। আর পোল্ট্রি খাতের অংশ ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ। গবেষকদের মতে, বর্তমানে পোলট্রি খাত দ্রুত বাড়লেও দুধ ও লাল গোশত উৎপাদনে রুমিন্যান্ট খাতের গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি।

২ কোটির বেশি মানুষের কর্মসংস্থান : গবাদিপশু খাত দেশের প্রায় ২ কোটি ৪৭ লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের উৎস। এর মধ্যে ৪৭ শতাংশ অবৈতনিক পারিবারিক শ্রম। ৩৯ শতাংশ আত্মকর্মসংস্থান এবং মাত্র ১৪ শতাংশ মজুরিভিত্তিক চাকরি। গবেষকদের মতে, গ্রামীণ অর্থনীতিতে ক্ষুদ্র খামারের বড় অংশ পরিচালনা করেন নারীরা। ফলে এ খাত নারীর আর্থিক ক্ষমতায়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

পুষ্টিহীনতার বড় কারণ প্রাণিজ খাদ্যের উচ্চ ব্যয় : বাংলাদেশে এখনো প্রাণিজ খাদ্য গ্রহণ আন্তর্জাতিক মানের তুলনায় কম। ২০২২ সালের এইচআইইএস জরিপ অনুযায়ী, দেশে মাথাপিছু দৈনিক গোশত গ্রহণ মাত্র ৪০ গ্রাম। দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্য গ্রহণ ৩৪ দশমিক ১ গ্রাম। মাছ গ্রহণ ৬৭ দশমিক ৮ গ্রাম।

গ্লোবাল হাঙ্গার ইনডেক্সে ১২১ দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৮৪তম। স্কোর ১৯ দশমিক ৬। যা ‘মাঝারি ক্ষুধা পরিস্থিতি’ নির্দেশ করে। গবেষণায় বলা হয়, দেশে একজন মানুষের দৈনিক স্বাস্থ্যকর খাদ্যের ব্যয় ৩ দশমিক ৬৪ ডলার। অথচ গড় দৈনিক আয় ২ দশমিক ৮২ ডলার। ফলে মাত্র ৩৬ দশমিক ৬ শতাংশ মানুষ প্রাণিজ প্রোটিনসমৃদ্ধ স্বাস্থ্যকর খাদ্য গ্রহণ করতে পারে।

গোশতের দাম বিশ্ববাজারের চেয়ে বেশি : বাংলাদেশে লাল গোশতের দাম আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় অনেক বেশি। বৈশ্বিক গড়ের তুলনায় দেশে গরুর গোশতের দাম ২২ শতাংশ বেশি। ছাগলের গোশতের দাম ৩৬ শতাংশ বেশি। ভেড়ার গোশতও আন্তর্জাতিক বাজারের চেয়ে ১৫ শতাংশ বেশি দামে বিক্রি হয়।

অন্য দিকে, ব্রয়লার মুরগির দাম বৈশ্বিক বাজারের তুলনায় ৫৩ শতাংশ কম। হাঁসের দামও ৩২ শতাংশ কম। গবেষকদের মতে, গরুর সরবরাহ ঘাটতি, পশুখাদ্যের উচ্চ মূল্য এবং কম উৎপাদনশীলতা গোশতের উচ্চমূল্যের অন্যতম কারণ।

বর্তমানে দেশে বছরে প্রায় ২৪ লাখ ৭৯ হাজার টন গোশত উৎপাদিত হয়। এর মধ্যে লাল গোশত প্রায় ১২ লাখ ৪৩ হাজার টন। বছরে প্রায় ১ কোটি ৫৪ লাখ গরু, ১ কোটি ২৮ লাখ ছাগল, ৩৪ লাখ ভেড়া এবং প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার মহিষ জবাইয়ের সমতুল্য এ উৎপাদন। তবে প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের তথ্যানুযায়ী, বিদ্যমান গবাদিপশুর সংখ্যা দিয়ে এই উৎপাদন দীর্ঘমেয়াদে টেকসই রাখা কঠিন।

দেশীয় জাত নিয়ে নেতিবাচক ধারণা প্রত্যাখ্যান : সেমিনারে উদ্ধৃত করা হয় অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অব নিউ ইংল্যান্ডের এমিরিটাস অধ্যাপক রোনাল্ড লেংয়ের বক্তব্য। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের দেশীয় প্রাণী নিম্নমানের-এই ধারণা ভুল। খাদ্যের সীমাবদ্ধতা এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রোটিন ঘাটতির কারণে তাদের উৎপাদনক্ষমতা সম্ভাবনার মাত্র ১০ শতাংশে সীমাবদ্ধ রয়েছে।’ গবেষকদের মতে, উন্নত খাদ্য ব্যবস্থাপনা ও বিজ্ঞানভিত্তিক প্রজনন প্রযুক্তি প্রয়োগ করা গেলে দেশীয় জাত দিয়েই উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো সম্ভব।

দুধে বড় ঘাটতি, বাড়ছে আমদানি নির্ভরতা : ২০২৫ সালে দেশে দুধ উৎপাদন হয়েছে প্রায় ১ কোটি ২ লাখ ৪০ হাজার টন। কিন্তু ২০৩০ সালে চাহিদা দাঁড়াবে প্রায় ১ কোটি ৭৯ লাখ ৩০ হাজার টনে। অর্থাৎ বড় ঘাটতি তৈরি হবে।

গবেষণায় বলা হয়, বর্তমানে উৎপাদিত দুধের মাত্র ৫ শতাংশ শিল্প খাতে প্রক্রিয়াজাত হয়। ৮০ শতাংশ দুধ অনানুষ্ঠানিক বাজারে বিক্রি হয়। এর বড় অংশ ঐতিহ্যগত পদ্ধতিতে প্রক্রিয়াজাত করা হয়।

এ ছাড়া পশুখাদ্যের মূল্য বিশ্ববাজারের তুলনায় ৩৪ শতাংশ বেশি হওয়ায় উৎপাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে। ২০২৪ সালে দেশে আনুষ্ঠানিকভাবে ১ লাখ ২৯ হাজার টন গুঁড়া দুধ আমদানি হয়েছে। মোট ভোগকৃত দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্যের প্রায় ৫৪ শতাংশই আমদানিনির্ভর।

গবেষকদের মতে, দেশে বছরে ১৮ লাখ ৯০ হাজার উন্নত জাতের ডেইরি বকনা বাছুর প্রয়োজন হলেও পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৬ লাখ ৮০ হাজার। এই ঘাটতি পূরণে এমব্রায়ো ট্রান্সফার প্রযুক্তিতে বড় বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে।

পোলট্রি ও ডিম খাতে বিশাল বাজার : ২০২৫ সালে দেশে ডিম উৎপাদন ২৪ দশমিক ৪ বিলিয়নে পৌঁছায়; মাথাপিছু বছরে ডিম প্রাপ্যতা ১৩৭টি। ২০৩০ সালে এ চাহিদা বেড়ে ৩১ দশমিক ১ বিলিয়নে পৌঁছাবে।

সোনালি মুরগির বাচ্চার বার্ষিক চাহিদা ৫০ থেকে ৬০ মিলিয়ন হলেও সরবরাহ হচ্ছে মাত্র ২০ মিলিয়ন। গবেষকদের মতে, আধুনিক হ্যাচারি, ফিড মিল ও কোল্ড চেইন স্থাপনে বড় বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হয়েছে। ব্রয়লার, লেয়ার এবং সোনালি খাতে আগামী কয়েক বছরে শত শত মিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ সম্ভাবনা রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

চামড়া শিল্প হতে পারে ঘুমন্ত দৈত্য : গবাদিপশু খাতের সাথে যুক্ত চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য শিল্পকে গবেষকরা ‘ঘুমন্ত দৈত্য’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তৈরী পোশাকের পর এটি রফতানি বহুমুখীকরণের বড় খাত হতে পারে। ২০২৪ ও ২০২৫ অর্থবছরে এ খাত থেকে আয় হয়েছে প্রায় ১ দশমিক ০৩ থেকে ১ দশমিক ১৫ বিলিয়ন ডলার। ২০৩০ সালের মধ্যে এ আয় ১০ থেকে ১২ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

কসাইখানার বর্জ্য থেকেও আয় সম্ভব : গবেষণায় বলা হয়, জবাইকৃত পশুর মোট ওজনের মাত্র ৪৫ শতাংশ গোশত। বাকি ৫৫ শতাংশ উপজাত। অথচ পশুর রক্তের ৭০ শতাংশ ফেলে দেয়া হয়। এসব রক্ত মাছের খাদ্য ও জৈবসার হিসেবে ব্যবহার করা সম্ভব। হাড় থেকে তৈরি হতে পারে জেলাটিন, সাবান ও শিল্প কাঁচামাল। এজন্য দেশে অন্তত ২০টি আধুনিক কসাইখানা ও রেন্ডারিং প্ল্যান্ট স্থাপনের সুপারিশ করা হয়।

জলবায়ু ঝুঁকি ও কার্বন বাণিজ্যের নতুন সম্ভাবনা : গবেষণায় বলা হয়, বাংলাদেশী গবাদিপশু থেকে বছরে গড়ে ৮৬৪ কেজি কার্বন ডাই-অক্সাইড সমতুল্য গ্যাস নির্গত হয়। তবে এই খাত থেকেই বছরে বিপুল পরিমাণ জৈবসার উৎপাদিত হয়, যা কৃষিজমির মোট নাইট্রোজেন চাহিদার প্রায় ২৩ শতাংশ পূরণ করে।

আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও বায়োগ্যাস প্রযুক্তি ব্যবহার করলে বছরে ৩ দশমিক ৭ থেকে ৫ দশমিক ৫ মিলিয়ন টন কার্বন নির্গমন কমানো সম্ভব। আন্তর্জাতিক কার্বন বাজারে অংশ নিতে পারলে একজন খামারি প্রতি গরু থেকে বছরে ৪২৫ থেকে ৬৪০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত আয় করতে পারেন।

বীমা ও অর্থায়নে বাড়ছে আগ্রহ : ২০১৬ সালের মার্চ থেকে ২০২৩ সালের এপ্রিল পর্যন্ত দেশে ২৩ লাখের বেশি গরু বীমার আওতায় এসেছে। মৃত্যুহার ছিল মাত্র শূন্য দশমিক ২০ শতাংশ। বীমা দাবি পরিশোধ করা হয়েছে প্রায় ১ দশমিক ৬১৭ মিলিয়ন ডলার। গবেষকদের মতে, ক্ষুদ্রঋণভিত্তিক প্রাণিসম্পদ অর্থায়ন আগামী বছরগুলোতে আরো বাড়বে। ২০২৬ থেকে ২০৩১ সালের মধ্যে এ খাতে ১২ শতাংশ চক্রবৃদ্ধি প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে।

মৎস্য খাতেও টেকসই উন্নয়নের তাগিদ : সেমিনারে উপস্থাপিত মৎস্য খাতবিষয়ক প্রবন্ধে বলা হয়, অ্যাকুয়াকালচার বা মৎস্যচাষ এবং অভ্যন্তরীণ মুক্ত জলাশয় দেশের পুষ্টি, কর্মসংস্থান ও রফতানিতে বড় অবদান রাখছে। তবে জলাশয় দখল, দূষণ, জলবায়ু পরিবর্তন, অতিরিক্ত আহরণ এবং খাদ্য নিরাপত্তা ঝুঁকি মৎস্য খাতের বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে।

গবেষক ড. এম এ মজিদ টেকসই মৎস্য উৎপাদনের জন্য বিজ্ঞানভিত্তিক ব্যবস্থাপনা, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার এবং মুক্ত জলাশয় সংরক্ষণের ওপর জোর দেন।

‘ওয়ান হেলথ’ নীতির ওপর জোর : গবেষকরা বলছেন, প্রাণিসম্পদ ও মৎস্য খাতকে এখন শুধু উৎপাদনের দৃষ্টিতে দেখলে হবে না। খাদ্য নিরাপত্তা, জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ ও জলবায়ু- সবকিছুকে একসাথে বিবেচনায় নিতে হবে। তারা ‘ওয়ান হেলথ’ নীতি বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সাথে বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানো, আন্তর্জাতিক মানসম্মত কোয়ারেন্টাইন ব্যবস্থা গড়ে তোলা, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা এবং তরুণ উদ্যোক্তাদের সম্পৃক্ত করার সুপারিশ করেন।

ড. শরীফ আহমেদ চৌধুরী বলেন, ‘গবাদিপশু খাতকে আর শুধু কৃষির সহায়ক খাত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি এখন জাতীয় অর্থনীতির অন্যতম কৌশলগত খাত। সঠিক বিনিয়োগ ও নীতিসহায়তা পেলে এই খাতই হতে পারে বাংলাদেশের আগামী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির বড় ভিত্তি।’