একবিংশ শতাব্দীর সামাজিক যোগাযোগের সবচেয়ে প্রভাবশালী মাধ্যম ফেসবুক। প্রতিষ্ঠানটি ২০১৬ সালে তাদের চিরাচরিত ‘লাইক’ বোতামের বাইরে এসে একগুচ্ছ রিঅ্যাকশন বা প্রতিক্রিয়া ইমোজি চালু করে। তখন অনেকেই ভেবেছিলেন এটি কেবল অনুভূতি প্রকাশের এক চেষ্টা। কিন্তু গত এক দশকে এই রিঅ্যাকশনগুলোর মধ্যে একটি নির্দিষ্ট ইমোজি সামাজিক, রাজনৈতিক ও মনস্তাত্ত্বিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে ভারসাম্যহীনতা তৈরি করেছে। সেটি হলো- ‘হাহা’ রিঅ্যাক্ট।
দেখতে নিরীহ, হাস্যোজ্জ্বল এই হলুদ মুখটি ফেসবুকের জগতে কেবল একটি সাধারণ হাসির বহিঃপ্রকাশ নয়। এটি কখনো আনন্দের প্রতীক, কখনো নীরব উপহাসের চাবুক, আবার কখনো কোনো ব্যক্তিকে মানসিকভাবে চূর্ণবিচূর্ণ করার এক নির্মম অস্ত্র।
হাহা রিঅ্যাক্টের উদ্ভাবন কীভাবে?
ফেসবুকের শুরুর দিকে কেবল ‘লাইক’ বোতাম ছিল। কিন্তু ব্যবহারকারীরা দীর্ঘদিন ধরেই দাবি করে আসছিলেন যে, সব পোস্টে লাইক দেওয়া যায় না। যেমন—কারও বিড়ালের মৃত্যুর খবরে ‘লাইক’ দেওয়াটা অদ্ভুত দেখায়। ব্যবহারকারীরা একটি ‘ডিসলাইক’ বোতামের দাবি জানাচ্ছিলেন।
কিন্তু ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গ নেতিবাচকতা ছড়ানোর ভয়ে ডিসলাইক বোতাম দিতে রাজি হননি। এর পরিবর্তে ফেসবুকের প্রকৌশলী ও সমাজবিজ্ঞানীদের একটি দল দীর্ঘ গবেষণার পর মানুষের মৌলিক আবেগগুলোকে চিহ্নিত করেন। ২০১৬ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ফেসবুক বিশ্বব্যাপী লাইক বোতামের পাশাপাশি ৫টি নতুন রিঅ্যাকশন চালু করে— Love, Haha, Wow, Sad ও Angry। এর মধ্যে ‘হাহা’ ইমোজিটি ডিজাইন করা হয়েছিল খিলখিলিয়ে হাসার একটি রূপক হিসেবে, যা মানুষের আনন্দ প্রকাশের মাধ্যম হওয়ার কথা ছিল।
বাংলাদেশে কবে ‘হাহা’ রিঅ্যাক্ট শুরু হয়?
২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে বিশ্বব্যাপী উন্মোচনের সাথে সাথেই বাংলাদেশের ফেসবুক ব্যবহারকারীদের কাছেও এই ফিচারটি পৌঁছে যায়। তবে বাংলাদেশে এর ব্যবহার ও অপব্যবহারের একটি নিজস্ব বিবর্তন রয়েছে।
২০১৬-১৭ সালের দিকে বাংলাদেশের নেটিজেনরা মূলত মজার মিম এবং বন্ধুদের আড্ডার পোস্টে এটি ব্যবহার করত। কিন্তু ২০১৮ সালের পর থেকে বাংলাদেশে রাজনৈতিক ট্রল, তারকাদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে খোঁচানো এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ‘রোস্টিং’ কালচারের উত্থানের সাথে সাথে হাহা রিঅ্যাক্ট একটি সামাজিক অস্ত্রে পরিণত হয়।
বর্তমানে বাংলাদেশের ফেসবুক সংস্কৃতিতে কোনো সেলিব্রিটি বা সাধারণ মানুষের কোনো ভুল বা ভিন্নধর্মী বক্তব্য পেলেই ‘ট্রল আর্মিরা’ সেখানে পঙ্গপালের মতো হাহা রিঅ্যাক্টের বন্যা বইয়ে দেয়। এটি এখন আর কেবল বিনোদনের মাধ্যম নেই, বরং সামাজিক শাসন বা এক প্রকার ‘ডিজিটাল মব লিঞ্চিং’ এর হাতিয়ার হয়ে উঠেছে।
ফেসবুকে ‘হাহা’ রিঅ্যাক্ট কেন দেওয়া হয়?
ফেসবুকে হাহা রিঅ্যাক্ট দেওয়ার উদ্দেশ্য বহুমুখী। মানুষ কেন এই নির্দিষ্ট বোতামটি চেপে ধরে বা ক্লিক করে, তার পেছনে রয়েছে গভীর মনস্তাত্ত্বিক ও সামাজিক কারণ। মোটা দাগে একে কয়েকটি ভাগে ভাগ করা যায়—
প্রকৃত কৌতুক ও আনন্দ প্রকাশ: কোনো বন্ধু যখন কোনো খাঁটি কৌতুকপূর্ণ পোস্ট দেয়, মজার কোনো মিম শেয়ার করে বা হাস্যরসাত্মক ভিডিও আপলোড করে, তখন নেটিজেনরা মনের আনন্দ প্রকাশ করতে ‘হাহা’ রিঅ্যাক্ট দেয়। এটিই এই ইমোজির সবচেয়ে ইতিবাচক এবং প্রাথমিক ব্যবহার।
উপহাস ও ব্যঙ্গ: হাহা রিঅ্যাক্টের সবচেয়ে খারাপ ব্যবহার হলো ব্যঙ্গ করা। যখন কেউ কোনো সিরিয়াস বা গম্ভীর পোস্ট দেয়, যার সাথে অন্য একজন একমত হতে পারে না তখন তারা কোনো মন্তব্য না করে কেবল একটি ‘হাহা’ রিঅ্যাক্ট দিয়ে চলে যায়।
প্রতিবাদ ও অসম্মতি: বিশেষ করে রাজনৈতিক বা সামাজিকভাবে পোস্টে নিজের তীব্র ভিন্নমত প্রকাশের একটা ডিজিটাল হাতিয়ার হলো ‘হাহা’। কোনো নেতার বক্তব্য বা কোনো সংবাদমাধ্যমের খবরের নিচে হাজার হাজার হাহা রিঅ্যাক্ট পড়ার অর্থ হলো, জনতা সেই খবর বা বক্তব্যকে প্রত্যাখ্যান করছে এবং উপহাস করছে।
অস্বস্তি আড়াল করা: অনেকে নিজের কোনো ভুল বা লজ্জাজনক পরিস্থিতিতে পড়ে গেলে নিজেই নিজের পোস্টে হাহা রিঅ্যাক্ট দেয় বা কমেন্টে হাসির ইমোজি ব্যবহার করে। একে মনস্তত্ত্বের ভাষায় ‘ডিফেন্সিভ হিউমার’ বলা চলে।
‘হাহা’ রিঅ্যাক্ট না দিলে কী হয়?
ভার্চুয়াল জগতের এক অলিখিত নিয়ম হলো- প্রতিক্রিয়াই অস্তিত্বের প্রমাণ। যদি ফেসবুকে হাহা রিঅ্যাক্ট নামক এই ফিচারটি না থাকত বা কেউ যদি এটি ব্যবহার না করত, তবে ফেসবুকের পরিবেশ কেমন হতো?
ভাষার ব্যবহার বাড়ত: হাহা রিঅ্যাক্ট না থাকলে মানুষকে তার মনের ভাব প্রকাশ করতে কমেন্ট বক্সে গিয়ে লিখতে হতো- ‘ভাই খুব হাসলাম’ অথবা ‘আপনার কথাটি যুক্তিসঙ্গত নয়।’ অর্থাৎ, একটি মাত্র ক্লিকে মনের ভাব প্রকাশ করার অলসতা দূর হতো এবং মানুষ লিখিত যুক্তির দিকে ঝুঁকতো।
সাইবার বুলিং বা সাইবার নিপীড়ন কমত: ‘হাহা’ রিঅ্যাক্ট অনেক সময় কোনো লেখা বা ছবির নিচে বুলিং বা ট্রলের রূপ নেয়। এই রিঅ্যাক্ট না থাকলে একজন ব্যবহারকারী মানসিকভাবে যতটা সুরক্ষিত বোধ করতেন, হাহা রিঅ্যাক্টের বন্যায় সেই সুরক্ষাবলয় ভেঙে যায়। না দিলে অন্ততপক্ষে ভার্চুয়াল হিংস্রতা একধাপ কমত।
যোগাযোগ হতো দ্বিমাত্রিক: লাইক এবং লাভ রিঅ্যাক্টের মাঝে হাহা না থাকলে ফেসবুকের দুনিয়াটা হয়তো কিছুটা একঘেয়ে বা অতিরিক্ত আনুষ্ঠানিক মনে হতো। মজার বিষয়গুলোতেও মানুষকে কেবল ‘লাইক’ দিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হতো, যা পোস্টদাতার প্রকৃত আনন্দকে পুরোপুরি ফুটিয়ে তুলতে পারত না।
কারা দেয় এই রিঅ্যাক্ট?
ফেসবুকে যারা নিয়মিত হাহা রিঅ্যাক্ট ব্যবহার করেন, তাদের আচরণ ও মানসিকতার ওপর ভিত্তি করে কয়েকটি ভাগে ভাগ করা যায়।
মিম লাভার: এরা নিছক বিনোদনের জন্য ফেসবুক ব্যবহার করে। মজার কিছু দেখলেই মন খুলে হাহা দেয়। এদের কোনো ক্ষতিকর উদ্দেশ্য থাকে না।
ডিজিটাল ট্রল: এদের কাজই হলো অন্যের পোস্টে গিয়ে উপহাস করা। কোনো সিরিয়াস বিষয়, কারো ব্যক্তিগত অর্জন বা দুঃখের পোস্টেও এরা ইচ্ছাকৃতভাবে হাহা দিয়ে আনন্দ পায়।
নীরব পর্যবেক্ষক: এরা কোনো ঝামেলায় জড়াতে চায় না, কমেন্ট করে তর্কও করতে চায় না। কিন্তু নিজের মতামত বা অসম্মতি জানাতে আলতো করে একটা হাহা রিঅ্যাক্ট দিয়ে কেটে পড়ে।
প্রতিপক্ষ বা হেটার্স: ব্যক্তিগত বা আদর্শিক শত্রুতার কারণে এরা সবসময় সুযোগ খোঁজে কখন প্রতিপক্ষের পোস্টে হাহা দিয়ে তাকে ছোট করা যায়।
কখন দিতে হয় এবং কখন দিতে নেই?
ডিজিটাল দুনিয়ায় শিষ্টাচার বা ‘নেটিকাট’ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হাহা রিঅ্যাক্ট ব্যবহারেরও একটি নির্দিষ্ট নৈতিক সীমা থাকা উচিত।
কখন দিতে হয়:
- কোনো কৌতুক, মজার গল্প বা মিম পোস্টে।
- বন্ধুর কোনো রসাত্মক ও হালকা চালের স্ট্যাটাসে।
- ব্যঙ্গাত্মক কোনো সংবাদ (যেমন: স্যাটায়ার নিউজ) বা প্যারোডি ভিডিওতে।
- যখন পোস্টদাতা নিজেই পোস্টটি হাসির ছলে করেছেন এবং সবার বিনোদন আশা করছেন।
কখন দেওয়া একদমই উচিত নয়:
- শোক ও দুঃখের সংবাদে: কারো মৃত্যু, অসুস্থতা বা দুর্ঘটনার খবরে ভুলবশত বা ইচ্ছাকৃতভাবে হাহা রিঅ্যাক্ট দেওয়া চরম অমানবিকতা।
- কারো ব্যক্তিগত অর্জনে: কেউ কঠোর পরিশ্রম করে পরীক্ষায় পাস করল, চাকরি পেল বা কোনো পুরস্কার পেল—সেখানে হাহা দেওয়াটা হিংস্রতা এবং চরম ঈর্ষার বহিঃপ্রকাশ।
- আবেগঘন বা সংবেদনশীল পোস্টে: কেউ যখন তার জীবনের কোনো কষ্টের কথা বিষণ্নতার কথা বা মানসিক লড়াইয়ের কথা ফেসবুকে শেয়ার করে, সেখানে হাহা রিঅ্যাক্ট দেওয়া তাকে আত্মহত্যার দিকেও ঠেলে দিতে পারে।
- ধর্মীয় বা জাতিগত বিষয়ে: সংবেদনশীল ধর্মীয় বা জাতিগত পোস্টে উপহাসমূলক হাহা রিঅ্যাক্ট অনেক সময় বড় ধরনের সামাজিক দাঙ্গা বা সহিংসতার সূত্রপাত করতে পারে।
হাহা রিঅ্যাক্টের বিকল্প কী আছে?
যদি আপনি কারো পোস্টে উপহাস না করে সুস্থ উপায়ে আপনার হাস্যরস বা ভিন্নমত প্রকাশ করতে চান, তবে হাহা রিঅ্যাক্টের বেশ কিছু স্বাস্থ্যকর বিকল্প রয়েছে:
কমেন্ট বক্সে গঠনমূলক সমালোচনা: কোনো পোস্টের সাথে দ্বিমত থাকলে হাহা রিঅ্যাক্ট দিয়ে চলে না গিয়ে যুক্তিসহকারে কমেন্ট করুন। এতে আলোচনার মান বাড়ে।
কোনো প্রতিক্রিয়া না দেখানো: কোনো পোস্ট আপনার কাছে অত্যন্ত মূর্খতাসুলভ বা বিরক্তিকর মনে হলে সেটিকে এড়িয়ে যাওয়াই সবচেয়ে বড় শাস্তি। রিঅ্যাক্ট দিলে ফেসবুকের অ্যালগরিদম সেই পোস্টটিকে আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়।
ইনবক্সে কথা বলা: যদি কোনো পরিচিত মানুষের পোস্ট দেখে আপনার হাসি পায় বা মনে হয় সে ভুল করছে, তবে প্রকাশ্য দেয়ালে তাকে উপহাস না করে ইনবক্সে গিয়ে হাসুন বা বুঝিয়ে বলুন।
কাস্টম স্টিকার বা জিআইএফ: নিছক মজার ক্ষেত্রে হাহা রিঅ্যাক্টের চেয়ে সুন্দর কোনো কমপ্লিমেন্টারি জিআইএফ ব্যবহার করলে তা কথোপকথনে নতুন মাত্রা যোগ করে।
‘হাহা’র ফলে মানুষের মানসিক পরিস্থিতি কী হয়?
হাহা রিঅ্যাক্টের মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব অত্যন্ত গভীর এবং ভয়াবহ। মনোবিজ্ঞানীদের মতে, একটি ‘হাহা’ রিঅ্যাক্ট কখনো কখনো এক হাজার গালির চেয়েও বেশি মানসিক যন্ত্রণা দিতে পারে।
প্রত্যাখ্যানের অনুভূতি: একজন মানুষ যখন তার কোনো সৃষ্টি, লেখা বা ছবি ফেসবুকে দেয়, তখন সে মূলত সামাজিক স্বীকৃতি বা ‘ভ্যালিডেশন’ চায়। সেখানে যখন মানুষ প্রশংসার বদলে ‘হাহা’ রিঅ্যাক্ট পায়, তখন তার মস্তিষ্ক এটিকে সরাসরি বাস্তব জীবনের উপহাস বা প্রত্যাখ্যান হিসেবে গ্রহণ করে।
হীনম্মন্যতা ও আত্মবিশ্বাসের অভাব: নিয়মিত নিজের পোস্টে হাহা রিঅ্যাক্ট দেখলে ব্যবহারকারী তীব্র হীনম্মন্যতায় ভুগতে শুরু করেন। তিনি ধরে নেন সমাজ তাকে গ্রহণ করছে না বা তাকে বোকা ভাবছে। এর ফলে তিনি নিজের সৃজনশীলতা প্রকাশ করা বন্ধ করে দেন।
বিষণ্ণতা ও সামাজিক বিচ্ছিন্নতা: সাইবার বুলিংয়ের শিকার হয়ে অসংখ্য তরুণ-তরুণী তীব্র বিষণ্ণতা বা ডিপ্রেশনে ভোগেন। হাহা রিঅ্যাক্টের নির্মমতা অনেককে বাস্তব জীবনে মানুষের মুখোমুখি হতে ভয় পাইয়ে দেয়, যার ফলে তারা সমাজ থেকে নিজেদের গুটিয়ে নেন।
ক্ষোভ ও প্রতিশোধপরায়ণতা: মনস্তত্ত্ব বলে, আঘাত থেকেই আঘাতের জন্ম হয়। যিনি আজ অন্যের পোস্টে হাহা রিঅ্যাক্ট দেখে অপমানিত বোধ করছেন, তিনি পরবর্তীতে সুযোগ পেলেই অন্য কারো পোস্টে হাহা দিয়ে সেই ক্ষোভ মেটানোর চেষ্টা করেন। এভাবে পুরো ফেসবুক সমাজেই একটি বিষাক্ত বৃত্ত বা ‘টক্সিক কালচার’ তৈরি হয়।
ডিজিটাল পরিপক্বতার আহ্বান
ফেসবুকের ‘হাহা’ রিঅ্যাক্ট মূলত তৈরি হয়েছিল মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য, মানুষকে হাসানোর জন্য নয়। কিন্তু আমাদের অসচেতনতা এবং পরশ্রীকাতরতার কারণে এটি আজ অনেকের মানসিক অশান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ভার্চুয়াল জগতের এই ছোট্ট হলুদ গোল মুখটি ব্যবহারের আগে আমাদের একবার ভাবা উচিত— স্ক্রিনের ওপাশে থাকা মানুষটি মাংস-রক্তের তৈরি একজন মানুষ, যার অনুভূতি আছে, আঘাত পাওয়ার ক্ষমতা আছে। একটি রিঅ্যাক্ট দেওয়ার আগে আমাদের বিবেককে প্রশ্ন করা উচিত, এটি কি কারো আনন্দের খোরাক হচ্ছে, নাকি কারো আত্মসম্মানকে চূর্ণ করছে? ডিজিটাল দুনিয়ায় আমাদের রিঅ্যাকশন বা প্রতিক্রিয়া যেন আমাদের মানবিকতার অবক্ষয় না ঘটায়, সেই পরিপক্বতা অর্জন করা আজ সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।