Image description

সপ্তাহ দুয়েক পরেই পবিত্র ঈদুল আজহা। সারা দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলিমরা পশু কোরবানির প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আর কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে খামারিরা পশু বাজারজাতের অপেক্ষায় আছেন। পাশাপাশি পশুর হাটের ইজারাদাররাও মাঠ সাজাচ্ছেন। ঈদের কয়েকদিন আগে থেকে বিভিন্ন হাটে বিক্রি হবে পশু। কিন্তু পশু বিক্রির দিনক্ষণ যত ঘনিয়ে আসছে ততই খামারি ও ইজারাদারদের মধ্যে নানা শঙ্কা ও ভয় কাজ করছে। কারণ অতীতের কোরবানি ঈদের ঘটনা সুখকর না।

পশুবোঝাই গাড়ি ডাকাতি, ছিনতাই থেকে শুরু করে পথে পথে চাঁদাবাজির ঘটনাগুলো পুনরাবৃত্তি হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিগত বছরগুলোতে অনেক পশুবাহী গাড়ি নির্দিষ্ট হাটে পৌঁছানোর আগে বলপ্রয়োগ করে ছিনিয়ে অন্য হাটে নিয়ে যাওয়ার ঘটনাও অহরহ। এ ছাড়া খামারির কাছ থেকে পশুবোঝাই গাড়ি রওনা দিয়ে গন্তব্য আসা পর্যন্ত ঘাটে ঘাটে চাঁদা নিয়েছে দুর্বৃত্তরা। পশু বিক্রির নগদ টাকা নিয়েও ছিনতাইকারী, মলম পার্টির কবলে পড়তে হয়েছে অনেক খামারিকে। এ ছাড়াও পশুর হাটে টাকার ছড়াছড়িতে জাল নোট দিয়ে প্রতারণা করেছে কিছু চক্র। সবমিলিয়ে এসব শঙ্কাই ঘুরেফিরে আবার সামনে এসেছে। যদিও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে এ নিয়ে সতর্ক থাকার কথা জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, অতীতের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এবারের ঈদুল আজহা, ঈদযাত্রা ও পশুবাহী গাড়ি ছিনতাই, চাঁদাবাজি নিয়ে আগে থেকে প্রস্তুতি নিয়েছে সরকার। নির্দেশনা দেয়া হয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে। ঈদুল আজহার প্রাক্কালে এবং পরবর্তী সময়ে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে একটি বিশেষ মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে। এই সেল ঈদের আগের ৭ দিন এবং পরের ৭ দিন সার্বক্ষণিক কার্যকর থাকবে। এ ছাড়া র?্যাব, পুলিশ, আনসার, বিজিবি ও কোস্ট গার্ডসহ সকল গোয়েন্দা সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া থানা পুলিশ থেকে শুরু করে র‌্যাব, গোয়েন্দা পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশ পশুবাহী গাড়ির নিরাপত্তা, চাঁদাবাজি ছিনতাই নিয়ে কাজ করছে।

পুলিশের সূত্রগুলো বলছে, ঈদের আগেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে চাঁদাবাজদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। তালিকা ধরে ধরে সারা দেশের চাঁদাবাজদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। এতে করে ঈদকে ঘিরে চাঁদাবাজি অনেকাংশে কমবে। চাঁদাবাজিসহ যেকোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড রোধে পুলিশের টহল, গোয়েন্দা নজরদারি চলবে। চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকারও কথা জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পশুবাহী গাড়ির নিরাপত্তা, ডাকাতি, ছিনতাই প্রতিরোধে নানামুখী পদক্ষেপ নিয়েছে হাইওয়ে পুলিশ। এ ছাড়া নৌপথের নিরাপত্তায় পরিকল্পনা সাজিয়েছে নৌ-পুলিশ।
অপরাধ বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কোরবানি ঈদ ঘিরে ব্যাপক চাঁদাবাজি হতে পারে। রাজনৈতিক নেতাকর্মী থেকে শুরু করে পেশাদার চাঁদাবাজ, অপরাধীদেরও নজরদারিতে রাখতে হবে। এ সময় আন্ডারওয়ার্ল্ডের সন্ত্রাসীরা সক্রিয় হয়ে ওঠে।
মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, এবার সারা দেশে ৪ হাজার ২৫৯টি পশুর হাট ইজারা দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১৫টি এবং দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১১টি হাট থাকবে। হাটগুলোতে পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা ও সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। জাল নোট শনাক্তে প্রতিটি হাটে ব্যাংকগুলোর বুথ ও মেশিন থাকবে। এ ছাড়া ইজারাদারদের চাহিদানুযায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘অঙ্গীভূত আনসার’ নিয়োজিত করা হবে। চামড়া পাচার রোধে বিজিবিকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
গতকাল সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে ‘আসন্ন ঈদুল আজহা-২০২৬ এর প্রাক্কালে দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা, ঈদের পূর্বে গার্মেন্টস শ্রমিকদের বেতন-ভাতাদি পরিশোধ ও ছুটি প্রদান, সড়ক-মহাসড়ক যানজট মুক্ত রাখা ও কোরবানির পশুর হাটের নিরাপত্তা প্রদানসহ প্রাসঙ্গিক অন্যান্য বিষয়ক’ এক সভাও অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভার সভাপতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, সড়ক ও নৌপথে পশুবাহী যানবাহনে যেকোনো ধরনের চাঁদাবাজি কঠোর হস্তে দমন করা হবে। চাঁদাবাজি রোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বডি-ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করবে এবং সিভিল ড্রেসে গোয়েন্দা নজরদারি থাকবে।