Image description

চট্টগ্রামের রাউজানে নাসির উদ্দিন হত্যার বদলা নিতেই পরিকল্পিতভাবে বায়েজিদে যুবক রাজুকে হত্যা করা হয়েছে। হত্যার তিন ঘণ্টা আগে থেকে রাজুকে অনুসরণ করা হচ্ছিল। আর অনুসরণকারীরা তথ্য পৌঁছে দিচ্ছিল নাছিরের ঘনিষ্ঠ লোকদের কাছে। এই তথ্য আদান-প্রদান চক্রের যে হোতা, সেই সৈয়দুল করিম কারাগার থেকে মুক্তি পান গত ১১ এপ্রিল। কারাগারে রাউজানের একজন জেল পার্টনারের অনুরোধেই রাজুর তথ্য দিচ্ছিলেন করিম। করিমসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তারের পর এমন তথ্য জানিয়েছে পুলিশ।

 

ঘটনার পাঁচ দিনের মাথায় কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় একটি বিদেশি পিস্তল, ম্যাগজিন ও গুলি উদ্ধার করে পুলিশ। পাশাপাশি হত্যায় ব্যবহৃত সিএনজিচালিত অটোরিকশাটিও জব্দ করেছে পুলিশ।

 

মঙ্গলবার (১২ মে) দুপুরে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) উত্তর জোনের উপকমিশনার (ডিসি) মো. আমিরুল ইসলাম ছয়জনকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

 

পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন—সৈয়দুল করিম, মো. ইউনুচ মিয়া, মো. আয়াতুল্লাহ আলী আদনান, মো. আবু বক্কর ছিদ্দিক ওরফে খোকন, আজগর আলী ও অটোরিকশা চালক মো. আব্দুল মান্নান।

 

তবে নাসিরের ঘনিষ্ঠ কারা এই হত্যার সঙ্গে যুক্ত, এই বিষয়ে গেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে এখনো কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে রাউজানের একটা বালুর ড্রেজার বসানোকে কেন্দ্র করে জানে আলম ওরফে আলম ডাকাত নামে একজনের সঙ্গে নাসির ও রায়হানদের দ্বন্দ্ব চলছিল। সেই দ্বন্দ্বের জেরেই নাসিরকে হত্যা করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

 

তাদের গ্রেপ্তারের পর পুলিশের সংবাদ সম্মেলন এবং গ্রেপ্তার অভিযানে যুক্ত পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

 

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ জানিয়েছে, রাউজানের কদলপুরে নাসির উদ্দিন হত্যার ঘটনার জের ধরেই পরিকল্পিতভাবে রাজুকে হত্যা করা হয়। মাত্র তিন দিন আগে রাজু রৌফাবাদে তার বোনের বাসায় এসেছিলেন। এর ৯ দিন আগে নাসিরকে হত্যা করা হয়।

 

পুলিশের নির্ভরযোগ্য আরেকটি সুত্র জানিয়েছে, সেই হত্যার ঘটনায় প্রথম গুলি রাজুই ছুড়েছিলেন বলে মনে করছেন নাসিরের ঘনিষ্ঠরা। সেই ক্ষোভ থেকে তাকে হত্যা করা হয়।

 

সিএমপি উত্তর জোনের উপকমিশনার মো. আমিরুল ইসলাম বলেন, সৈয়দ আব্দুল করিম তথ্য দিয়ে এই হত্যায় সহযোগিতা করেন এবং তিনি হত্যার স্পটে ছিলেন। এ ছাড়া আব্দুল মান্নান নামে একজনের অটোরিকশাতে করে হত্যাকারীরা স্পটে আসেন, আবার খুনের পর পালিয়ে যান। মোহাম্মদ ইউনুস ও আয়াতুল্লাহ আলী আদনান সন্ধ্যা থেকে রাজুকে অনুসরণ করছিলেন, আর সেগুলো করিমকে জানাচ্ছিলেন। করিম নাসিরের ঘনিষ্ঠদের তথ্য দিচ্ছিলেন। বাকি দুজনও হত্যার সময় ঘটনাস্থলে ছিলেন।

 

পুলিশ জানায়, গত ৭ মে রাতে হত্যাকাণ্ডের পর আসামিরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করেন।

 

অভিযানের সঙ্গে যুক্ত একাধিক পুলিশ সদস্যের সঙ্গে কথা হয়েছে এশিয়া পোস্টের প্রতিবেদকের। তাদের একজন বলেন, ‘নাসিরকে হত্যা করা হয় কদলপুরের পাহাড়ে মদের একটা কারখানার দ্বন্দ্ব থেকে। সেই হত্যাকাণ্ডে রাজুই প্রথম গুলি করেছেন—এমন সন্দেহ করেন নাসিরের ঘনিষ্ঠরা। কিন্তু হত্যার পর রাজু গা ঢাকা দেন। রাজুর বিষয়ে তাদের কাছে তথ্য ছিল, রাজু আগে রৌফাবাদ থাকতেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তিনি রাউজান গিয়ে বসবাস শুরু করেন। রাজুর বিষয়ে তথ্য জানতে তারা সৈয়দুল করিমের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।’

 

সৈয়দুল করিমের সঙ্গে যোগাযোগের কারণ ব্যাখ্যা করে ওই পুলিশ সদস্য বলেন, করিম রৌফাবাদের নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত। কারাগারে নাসিরের ঘনিষ্ঠ একজনের সঙ্গে তার সম্পর্ক হয়। রৌফাবাদে রাজু আছে কি না, এটি জানতে ওই ব্যক্তিই করিমের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ৭ মে সন্ধ্যা ৭টার দিকে গলির মুখে রাজুকে দেখেন করিম। তখন করিম দুজন অটোরিকশা চালককে দায়িত্ব দেন রাজুকে চোখে চোখে রাখতে। আর নাসিরের ঘনিষ্ঠদের তথ্য দেন।

 

পরে সাড়ে ৯টার দিকে একটি অটোরিকশা দিয়ে এসে হত্যাকারীরা রাজুকে গুলি করে মৃত্যু নিশ্চিত করে চলে যান। এই ঘটনায় যে অটোরিকশা ব্যবহৃত হয়েছে, সেটির চালক মান্নান শহরে সিএনজি চালালেও ১০-১১ বছর কদলপুরে ছিলেন। আজগর আলী অটোরিকশাটি ভাড়া করেন। এই ছয়জন আবার হত্যাকাণ্ডের স্থলেও ছিলেন। এর মধ্যে ঠিক ৯টা ৪১ মিনিটে প্রথম যে গুলিটা ছোড়া হয়, সেই গুলিটা করিমই করেন।