Image description

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার নাজিরপুর-তাঁতেরকাঠি ইউনিয়নের চার স্কুলছাত্রী বাড়ি থেকে বিদ্যালয়ের উদ্দেশ্যে বের হওয়ার প্রায় ৩২ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও বাড়ি ফেরেনি। তবে আজ সোমবার বিকেলে একটি অপরিচিত নম্বর কল করে জানিয়েছে তারা কেরানীগঞ্জে আছে। 

এ ঘটনায় পরিবারগুলোর মধ্যে চরম উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। নিখোঁজদের পরিবারের পক্ষ থেকে বাউফল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।

 

নিখোঁজ শিক্ষার্থীরা হলো, সানজিদা আক্তার (১২), ইসমত জেরিন (১২), সানজিদা আক্তার রাইসা (১৩) ও আয়শা আক্তার (১৫)। তাদের মধ্যে সানজিদা, ইসমত ও রাইসা নাজিরপুর ছোট ডালিমা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। আয়শা অন্য একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত।

পরিবার ও বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, রবিবার সকালে প্রতিদিনের মতো তারা বিদ্যালয়ের উদ্দেশ্যে নিজ নিজ বাড়ি থেকে বের হয়।

তবে দিনশেষে তারা বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে বিভিন্ন স্থানে খোঁজখবর শুরু করেন। প্রথমে বিদ্যালয়, পরে আত্মীয়-স্বজনদের বাড়িসহ সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খুঁজে  সন্ধান মেলেনি। 

 

নাজিরপুর ছোট ডালিমা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জানান, নিখোঁজ তিন শিক্ষার্থী সেদিন বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়নি। পরে অভিভাবকদের মাধ্যমে তারা জানতে পারেন, বিদ্যালয়ের কথা বলে বের হলেও তারা আর বাড়ি ফেরেনি।

সহপাঠীদের সঙ্গে কথা বলেও কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় রবিবার রাত ১২টার দিকে বাউফল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন স্বজনরা।

 

নিখোঁজ রাইসার মা  সুলতানা ও আয়শার বাবা মো. আলী হোসেন জানান, সন্তানদের খুঁজে না পেয়ে তারা চরম উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন।

নিখোঁজ সানজিদার বাবা আব্দুল মন্নান গাজী (৫৮) বলেন, ‘আজ বিকালে একটি অপরিচিত নম্বর থেকে আমার মেয়ের সঙ্গে কথা হয়েছে। সে জানিয়েছে, তারা কেরানীগঞ্জে আছে এবং এক ‘আন্টি’ তাদের নিয়ে গেছে।

এছাড়া আগামীকাল বিকালে বাড়ি ফিরে আসবে বলেও জানিয়েছে। বিষয়টি চরম উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠার। অন্য তিন শিক্ষার্থীর পরিবারও একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন। তবে কোনো মুক্তিপণ দাবি করা হয়নি বলে পরিবারগুলোর দাবি।

 

জিডির তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘নিখোঁজ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কোনো মোবাইল ফোন নেই। তবে একটি নম্বর থেকে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। সেই নম্বর ট্র্যাকিং করে তাদের অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা চলছে। বাস ও লঞ্চঘাটসহ বিভিন্ন স্থানে খোঁজ নেওয়া হয়েছে।’

বাউফল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করছে পুলিশ। শিক্ষার্থীদের দ্রুত উদ্ধারে কাজ চলছে।’