Image description

সাবেক সংসদ সদস্য ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক গোলাম মাওলা রনি বলেছেন, ‘নোবেল শান্তি পুরস্কারের অশান্তির আগুনে বাংলাদেশের টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত জ্বলছে। নোবেল দাদুর (ইউনূস) জমানাতে বহু সমস্যা—যে দুঃশাসন, যে অনিয়ম এবং যে অবিচার ও অনাচার সারা বাংলাদেশে চালু হয়েছে, তার তেজ ক্রমে বাড়ছে। আগুনের জ্বলন্ত চিতার যে উত্তাপ, তা বেড়েই চলছে।’

রবিবার (১০ মে) সোশ্যাল মিডিয়ায় এক ভিডিও বার্তায় তিনি এসব কথা বলেন।

 

গোলাম মাওলা রনি বলেন, ‘চুরি, ডাকাতি, রাহাজানি, ধর্ষণ, বিশেষ করে মাদরাসার ছাত্র ও ছাত্রীদের ওপর যৌন নির্যাতন, এটি অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে প্রলয়ংকরী রূপ ধারণ করেছে। মানুষের অপরাধ করার মন-মানসিকতা যে কোন পর্যায়ে পৌঁছেছে, অতিসম্প্রতি গাজীপুরের কাপাসিয়ায় স্বামীর হাতে স্ত্রী-সন্তানসহ পাঁচজন যেভাবে খুন হয়েছে, খুনি যেভাবে স্বীকারোক্তি দিয়েছে—অবস্থাদৃষ্টে মনে হয় আমাদের যে অপরাধ করার মানসিকতা, এগুলোর একটি বিবর্তন হয়ে গেছে। এটি এই বাংলাদেশে কখনো ছিল না।’

তিনি বলেন, ‘জিনিসপত্রের দাম হু হু করে বাড়ছে।

টাকার অবমূল্যায়ন হচ্ছে। বড় পরিবারগুলো, যারা গত ১০-২০ বছরে হাত পাতেনি, সেসব মানুষ অনেকটা রাস্তার ফকিরের মতো হয়ে গেছেন।’

 

তিনি আরো বলেন, ‘কিশোর অপরাধ কোন পর্যায়ে চলে গেছে, সেটি বুঝতে হলে অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে যান। পুলিশের একজন সহকারী কমিশনার একটি বক্তব্যের জন্য ভাইরাল হয়েছেন।

তিনি বলেছেন, অপরাধ যারা করে তাদের যে সামাজিক কানেক্টিভিটি রয়েছে, এরা মহল্লার মাস্তান না। মুরব্বি, জ্ঞানী-গুণী, বড় বড় লোকের কাছে যাই, কথা বলি—পরে খোঁজ নিয়ে দেখি তারাই সন্ত্রাসের-অপরাধের গডফাদার। এটি হলো বাস্তবতা। আজ থেকে দুই বছর আগে কি আমরা এই ধরনের কথাবার্তা শুনেছি?’

 

তিনি বলেন, ‘সারা বাংলাদেশে হামের আতঙ্ক। এখন পর্যন্ত ৩০০ শিশু মারা গেছে।

লাখ লাখ শিশু হামে আক্রান্ত। এটি খুব দ্রুত বিস্তার লাভ করছে। যেসব পরিবারে নবজাতক আসবে, তাদের পরিবারে হাম নিয়ে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। এই হামের টিকা দেওয়া হয়নি, কেনা হয়নি, এখানে ভাগ-বাটোয়ারা হয়নি! এই কাজের জন্য ইউনূস ও তার সঙ্গী-সাথীদের ওপর সারা দেশের মানুষ চড়াও হচ্ছে যে মানুষ এত অপরাধপ্রবণ, এত পাপিষ্ঠ, এত লোভী, এত নির্মম-নিষ্ঠুর হয় কী করে। নবজাতক শিশুদের হামের টিকার থেকে ব্যবসা করতে হবে? মানুষ এত নীচু হয় কিভাবে!’

 

গোলাম মাওলা রনি বলেন, “শুধু হামের টিকা নয়, ভিটামিন ‘এ’ নবজাতক শিশুদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ওষুধ। এই ভিটামিন ‘এ’ আমদানি করা হয়নি শান্তির দূতের আমলে। এই শান্তি আমাদের দরকার নেই। এই অশান্তির বীজ আমাদের যে কত বছর শৃঙ্খলিত রাখবে—তিনি (ইউনূস) যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি করেছেন। শুধু নিজে চুক্তি করেননি, বাংলাদেশের দুটি বৃহত্তর দল— বিএনপি ও জামায়াতকে কৌশলে এই চুক্তির সঙ্গে সম্পৃক্ত করে ফেলেছেন। এমন একটা প্যাঁচের মধ্যে ফেলে দেওয়া হয়েছে বিএনপি এবং জামায়াতকে, তারা এই ব্যাপারে চিন্তা করার সময় পায়নি।’

তিনি বলেন, ‘ওই মুহূর্তে সিচুয়েশন—এমন একটা পরিস্থিতিতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল যে একটা শৃঙ্খলিত গোলামির জিঞ্জির একটি জাতিকে পরিয়ে দেওয়ার জন্য, হাতে-পায়ে বেড়ি পরানোর জন্য শান্তি নামক অশান্তি আমাদের দেশকে যা কিছু করেছে—কিয়ামত পর্যন্ত অভিসম্পাত তাদের জন্য। যে ঝামেলার মধ্যে আমরা পড়ে গেছি, এই ঝামেলা থেকে সহজে বের হওয়া যাবে না। দিন যত যাবে, একটার পর আরেকটা ঝামেলা আসতে থাকবে।’

তিনি উল্লেখ করেন, ‘যেসব অত্যাচার নীলকররা করেনি, যেসব অত্যাচার ইংরেজরা করেনি, সেসব এখন বাংলাদেশে বসে করছে মার্কিন দোসররা। সেই দোসরদের চূড়ান্ত যে নীলনকশা, সেই নীলনকশা দুই বছর ধরে ক্রমাগতভাবে আমাদের দেশকে যেভাবে ধ্বংসের অতলে নিয়ে গেছে, একমাত্র আল্লাহর সাহায্য ছাড়া আমরা এ থেকে বের হতে পারব না।’