Image description

শিক্ষানবিশ লাইনম্যান পদে ১০৩৫ জন নিয়োগ দেবে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড। এসএসসি বা সমমান পরীক্ষায় জিপিএ ৩ পাওয়া প্রার্থীরা আবেদনের সুযোগ পাবেন। নিয়োগপ্রাপ্তরা বেতন পাবেন পবিস বেতন কাঠামো অনুযায়ী।

বাছাই পরীক্ষা যেভাবে

প্রথমে প্রার্থীদের শারীরিক যোগ্যতা যাচাই করা হবে। শারীরিকভাবে যোগ্য প্রার্থীদের এরপর লিখিত (এমসিকিউ ও রচনামূলক) পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে। এমসিকিউ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীরাই রচনামূলক পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন। রচনামূলক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের মধ্য থেকে শূন্য পদের বিপরীতে প্রশিক্ষণের জন্য প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত করা হবে।

প্রশিক্ষণে উত্তীর্ণ প্রার্থীদেরই কেবল বিভিন্ন পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিতে শূন্য পদের বিপরীতে নিয়োগ প্রদান করা হবে।

লাইনম্যানের কাজ কী

লাইনম্যানরা সাধারণত গ্রামীণ বিদ্যুৎ সরবরাহ কাজে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁদের মূল দায়িত্বের মধ্যে আছে—বিদ্যুৎ লাইন স্থাপন, রক্ষণাবেক্ষণ, ত্রুটি নির্ণয় এবং দ্রুত মেরামত নিশ্চিত করা। গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুৎসবা সচল রাখতে লাইনম্যানরা ভূমিকা রাখেন।

যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ, ঝড় বা দুর্ঘটনায় বিদ্যুৎ লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হলে তাঁরাই প্রথম মেরামতের কাজে এগিয়ে আসেন। এ ছাড়া বিদ্যুৎ লাইনের খুঁটি বসানো, তার সংযোগ করা, ট্রান্সফরমার সংযুক্ত বা মেরামত করা, ক্ষতিগ্রস্ত লাইন মেরামত এবং নিয়মিত পরিদর্শনের কাজ করেন তাঁরা। ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে কাজ করতে হয় লাইনম্যান পদের কর্মীদের। প্রয়োজনে উঁচু খুঁটিতে উঠে বৈদ্যুতিক লাইনে কাজ বা খারাপ আবহাওয়ার মধ্যেও মেরামত করতে হয় তাদের। তাই এই পেশায় আসতে চাইলে প্রার্থীকে সাহসী, শারীরিক ও মানসিকভাবে তৈরি থাকতে হবে।

বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতি

বাংলা : ব্যাকরণ, শুদ্ধ বানান, বাক্য গঠন এবং সাহিত্য সম্পর্কে মৌলিক ধারণা থাকতে হবে। দুর্বলতা কাটাতে নিয়মিত ব্যাকরণ বই অনুশীলন এবং বিগত পরীক্ষার প্রশ্নপত্র সমাধান করতে হবে।

ইংরেজি : গ্রামার, ভোকাবুলারি, অনুবাদ এবং সহজ বাক্য গঠন গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন নতুন শব্দ শেখা, ইংরেজি বাক্য পড়া এবং চর্চায় জোর দিতে হবে।

গণিত : সাধারণত প্রাথমিক গণিত যেমন—ভগ্নাংশ, শতকরা, লাভ-ক্ষতি, গড়, অনুপাত থেকে পরীক্ষায় প্রশ্ন আসে। দ্রুত ও নির্ভুলভাবে সমাধানের জন্য নিয়মিত অনুশীলনের বিকল্প নেই।

সাধারণ জ্ঞান : বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি, সাম্প্রতিক ঘটনা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, ইতিহাস এবং ভূগোল থেকে প্রশ্ন আসতে পারে। নিয়মিত পত্রিকা পড়ার পাশাপাশি সাম্প্রতিক তথ্য সম্পর্কে আপডেট থাকলে এই অংশে ভালো করা যাবে।

কারিগরি জ্ঞান : বিদ্যুৎ ও ইলেকট্রিক্যাল বিষয়ক মৌলিক ধারণা থাকতে হবে। যেমন—ভোল্টেজ, কারেন্ট, রেজিস্ট্যান্স, ওহমের সূত্র, সিরিজ ও প্যারালাল সার্কিট, ট্রান্সফরমারের কাজ, নিরাপত্তা নিয়ম ইত্যাদি। যাঁরা কারিগরি শিক্ষায় (যেমন—এসএসসি ভোকেশনাল বা ডিপ্লোমা) পড়েছেন, তাঁদের জন্য এই অংশ তুলনামূলক সহজ হয়।

বয়সসীমা

১৯ মে ২০১৬ তারিখ অনুযায়ী প্রার্থীর বয়স হতে হবে ১৮ থেকে ২১ বছর। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিতে কর্মরত মিটার রিডার কাম ম্যাসেঞ্জার পদের কর্মীরাও (ন্যূনতম যোগ্যতা থাকলে) ‘শিক্ষানবিশ লাইনম্যান’ পদে আবেদনের সুযোগ পাবেন।

শিক্ষাগত যোগ্যতা

এসএসসি বা সমমান পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ন্যূনতম জিপিএ ৩ (৫ এর মধ্যে) হতে হবে।

শারীরিক যোগ্যতা

সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হতে হবে। কঠোর পরিশ্রমসহ বৈদ্যুতিক খুঁটি ও স্থাপনায় উঠা-নামায় সক্ষমতা থাকতে হবে।

দৈহিক পরিশ্রম করার সদিচ্ছা ও স্বাভাবিক প্রবণতা থাকতে হবে।

কাজের মাধ্যমে শেখার আগ্রহ ও সক্ষমতা থাকতে হবে।

শারীরিক উচ্চতা ন্যূনতম ৫ ফুট ৪ ইঞ্চি, ওজন ন্যূনতম ১১০ পাউন্ড এবং বুকের মাপ স্বাভাবিক অবস্থায় ন্যূনতম ৩০ ইঞ্চি এবং স্ফীত অবস্থায় ন্যূনতম ৩২ ইঞ্চি হতে হবে।

৭ মিনিটে ১ মাইল মিনি ম্যারাথন দৌড় দিতে এবং প্যারালাল বারে বিরতিহীনভাবে পর পর ন্যূনতম ৫ বার বুক পর্যন্ত উঠা-নামায় সক্ষম হতে হবে।

বিদ্যালয়ে শরীরচর্চা বিষয়ক ক্রীড়াকর্মে পারদর্শী প্রার্থীকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

বেতন স্কেল

অন-প্রবেশনকালীন নির্ধারিত বেতন ১৫,৫০০ টাকা তৎসহ বিধি অনুযায়ী অন্যান্য ভাতা ও সুবিধাদি প্রদান করা হবে। অন-প্রবেশন মেয়াদের পর সংশ্লিষ্ট নীতিমালা মোতাবেক নিয়মিত হলে পবিস বেতন কাঠামো-২০১৬ অনুযায়ী ১৬,৬০০ টাকা স্কেলে বেতন নির্ধারিত হবে।

জরুরি নির্দেশনা

প্রবেশপত্র ছাড়া পরীক্ষায় অংশ নেওয়া যাবে না।

নির্ধারিত সময়ের অন্তত ৩০ মিনিট আগে পরীক্ষাকেন্দ্রের আসনে বসতে হবে। প্রশ্নপত্র দেওয়ার পর কোনো পরীক্ষার্থীকে পরীক্ষা কক্ষে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। পরীক্ষা শেষ হওয়ার আগে পরীক্ষার কক্ষ ত্যাগ করা যাবে না। কোনো কারণে পরিদর্শকের অনুমতি নিয়ে পরীক্ষার কক্ষ ত্যাগ করলে পুনরায় পরীক্ষার কক্ষে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।

উত্তরপত্র পূরণের জন্য বলপেন ব্যবহার করতে হবে। পেন্সিল ব্যবহার করা যাবে না।

পরীক্ষার কক্ষে কোনো ব্যাগ, ক্যালকুলেটর বা কোনো ধরনের ইলেকট্রনিক ডিভাইস, বইপত্র, লেখাযুক্ত বা সাদা কাগজ ও মোবাইল ফোনসেট আনা যাবে না।

চাকরির আবেদনপত্রের সঙ্গে মিল রেখে হাজিরা তালিকা, উত্তরপত্র এবং অন্যান্য কাগজপত্রে পরীক্ষার্থীর স্বাক্ষর এক ও অভিন্ন হতে হবে।

পরীক্ষা শেষে পরীক্ষার্থীকে নিজ আসনে অবস্থান করে অবশ্যই উত্তরপত্রটি পরিদর্শকের কাছে জমা দিতে হবে।

পরীক্ষার কক্ষে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালন করতে হবে।

নিয়ম ভঙ্গ করলে অথবা পরীক্ষা কক্ষে অশোভন আচরণ করলে কর্তব্যরত পরিদর্শক পরীক্ষার্থীকে পরীক্ষাকেন্দ্র থেকে বহিষ্কার করতে পারবেন। পরিদর্শক চাইলে গোপনেও পরীক্ষার্থীর রোল নম্বর সংগ্রহ করে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দিতে পারবেন।

পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পরও পরবর্তী সময়ে কোনো ত্রুটি ধরা পড়লে কিংবা কোনো অসংগতি পাওয়া গেলে প্রার্থীর আবেদনপত্র বাতিল করা হবে।