ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় ১৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবিকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের এক কর্মীকে ছুরিকাঘাত করেছেন সাখাওয়াত হোসাইন সোহাগ মিয়া নামের এক ছাত্রলীগ নেতা।
শনিবার (৯ মে) রাতে উপজেলার অষ্টজঙ্গল মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। সাখাওয়াত হোসাইন সোহাগ মিয়া কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ও বায়েক ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক।
আহত ছাত্রদল কর্মী শাকিল মিয়া (২২) বায়েক ইউনিয়নের পুটিয়া গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার জেএস টেকনোলজির মালিক জহিরুল কবিরের কাছে দীর্ঘদিন ধরে ১৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ও বায়েক ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসাইন সোহাগ মিয়া।
জে এস টেকনোলজি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শাকিল মিয়া মালিক জহিরুল কবিরকে চাঁদা না দেওয়ার পরামর্শ দেন। এরপর থেকেই শাকিলের প্রতি ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন অভিযুক্ত সোহাগ মিয়া এবং তাকে বিভিন্ন সময় হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, শনিবার রাতে অষ্টজঙ্গল মোড় এলাকায় শাকিল মিয়ার পথরোধ করে সোহাগ মিয়া ও তার সহযোগীরা তাকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ফেলে রেখে চলে যায় হামলাকারীরা।
পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসক তাকে কুমিল্লায় রেফার করেন। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হয়।
আহত শাকিলের বাবা আবুল হোসেন বলেন, আমার ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা করা হয়েছে। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই। জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
তবে অভিযোগটি মিথ্যা ও বানোয়াট বলে দাবি করেছেন কুমিল্লা জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ও বায়েক ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক সারওয়ার হোসেন সোহাগ মিয়া।
এ ঘটনায় জেএস টেকনোলজির মালিক জহিরুল কবির একই রাতে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।
কসবা থানার ওসি (তদন্ত) রিপন দাস বলেন, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।