পঞ্চগড়ের শালবাহান এলাকার জুগিগজ গ্রামে আবিষ্কৃত তেলখনি নিয়ে ধোঁয়াশা ৪১ বছরেও কটেনি। এ খনিতে তেল প্রাপ্তির খবর সে সময় বিবিসিসহ দেশি-বিদেশি সংবাদমাধমে প্রচার হলে ওই এলাকায় ব্যাপক আশার সঞ্চার করে। পরবর্তীকালে হঠাৎ করে এখানে ‘কোনো তেল নেই’ বলে সেই তেলকূপটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে সেটিকে চিরস্থায়ীভাবে সিল করে দেওয়া হয়। এতেই শালবাহান তেলখনি নিয়ে এলাকাবাসীর মনে সন্দেহের দানা বাঁধে। স্থানীরা এখনো সে আশায় বুক বেঁধে আছেন যে, একদিন নিশ্চয় শালবাহান তেলখনি পুনরায় খননের উদ্যোগ নেবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। সম্প্রতি এ তেলখনি বন্ধের রহস্য নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার ঝড় ওঠে। তবে কারও কারও মতে কোনো আন্তর্জাতিক চাপ বা সে সময়কার সরকারের গোপন সমঝোতার কারণে শালবাহান তেলকূপটি সিল করা হয়েছে। ফের এ তেলখনি খননের দাবি করেছেন স্থানীয়রা।
১৯৮৬-৮৭ অর্থবছরে ভূতাত্ত্বিক জরিপের মাধ্যমে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে শুরু হওয়া জ্বালানি তেলের অনুসন্ধ্যান কার্যক্রমে সে সময় ভারতের একেবারেই সীমান্তঘেঁষা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার শালবাহান জুগিগজ এলাকায় মাটির ৯০০ মিটার গভীরে তেলের সন্ধান পাওয়া যায়। সে সময় বিদেশি বিশেষজ্ঞরা শালবাহানে উত্তোলনযোগ্য তেল থাকার বিষয়টি মোটামুটি নিশ্চিত করে।
এক তথ্যানুসন্ধ্যানে জানা যায়, ওই সময় তেল প্রাপ্তির সম্ভাবনা নিশ্চিত হওয়ার পর তৎকালীন এরশাদ সরকার তেলখনি খনন কাজসহ এর উন্নয়নে ৩৫ কোটি টাকার বরাদ্দ দিয়ে প্রকল্প প্রণয়ন এবং এ প্রকল্প অনুমোদন দেয়। এরপর সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ হেলিকাপ্টারে এসে তেলখনির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনও করেন। পরীক্ষামূলকভাবে কিছু তেল উৎপাদনের এক সপ্তাহ পর তেলখনির কার্যক্রম বন্ধ করে দেয় সরকার। কর্তৃপক্ষ অনানুষ্ঠানিকভাবে এখানে তেল নেই কারণ দেখিয়ে ধীরে ধীরে পাতপাড়ি গুটিয়ে রাতারাতি যন্ত্রপাতি সরিয়ে নেয়। তৎকালীন সময়ে সংবাদমাধ্যমে এ নিয়ে কোনো সুস্পষ্ট ব্যাখাও পাওয়া যায়নি।
দেশের তেল গ্যাস অনুসন্ধ্যানের ইতিহাস ঘেটে দেখা গেছে, ১৯৮০-এর দশকে বাংলাদেশ শেল ওয়েল কোম্পানি পঞ্চগড়ের শালবাহানসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় অনুসন্ধ্যানের কাজ শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় তেঁতুলিয়ার শালবাহান এলাকায় একটি অনুসন্ধ্যান কূপ খনন করা হয়। এরপর তেল প্রাপ্তির সম্ভাব্যতা নিশ্চিত হয়েই কূপ খনন করা হয়। পরবর্তীকালে শালবাহান তেল কূপটিকে শুষ্ক কূপ ঘোষণা করে সেটিকে চিরতরে সিল করে দেওয়া হয়। যদিও পরবর্তীকালে ১৯৮৬-৮৭ সালে বাংলাদেশ, সিঙ্গাপুর ও কোরিয়ার যৌথ জরিপে এখানে হাইড্রোকার্বনেটের উপস্থিতির সম্ভাবনার কথা বলা হয়। যা থেকেই শালবাহানে তেল প্রাপ্তির বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সবাই মোটামুটি নিশ্চিত হয়। তবে স্থানীয় বিশেষজ্ঞদের মতে শালবাহানের মাটির গভীরে বিপুল পরিমাণ উত্তোলনযোগ্য ডিজেল বা কেরসিন মজুত আছে।
পঞ্চগড়ের সচেতন নাগরিক সমাজের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আবু হানিফ বলেন, আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের কারণেই শালবাহান তেলকূপ বন্ধ করা হয়েছে। তবে আমরা শিগ্গিরই এ তেলকূপ খননের দাবিতে মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বরাবরে আবেদন করব।
তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরোজ শাহিন খসরু বলেন, নতুন করে তেলের সম্ভাবনা যাচাইয়ের জন্য সরকার ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়কে লিখিতভাবে চিঠি দেওয়া হয়েছে।