Image description

ভ্যাটের পরিধি বাড়াতে নতুন পরিকল্পনা নিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। নতুন অর্থবছরে ২০ লাখ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে ভ্যাট নিবন্ধনের আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে এনবিআর। এজন্য নিজস্ব সফটওয়্যার চালুর পরিকল্পনা করছে সংস্থাটি। ইতোমধ্যে সফটওয়্যারের কাজ শেষের দিকে। আগামী অর্থবছরে (২০২৬-২৭) থেকে শহরাঞ্চলের সীমানা ছাড়িয়ে গ্রামেও ভ্যাটের আওতায় আনার চিন্তা চলছে। এজন্য পরীক্ষামূলকভাবে ছোট ব্যবসায়ীদের জন্য ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকার এশটি টোকেন ভ্যাট চালুর পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এ ছাড়া ব্যবসায়িক ব্যাংক হিসাব পরিচালনা এবং ট্রেড লাইসেন্স প্রাপ্তির ক্ষেত্রে বিজনেস আইডেন্টিফিকেশন নম্বর বা বিআইএন বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাবও এ পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

ব্যবসায়ীরা জানান, ভ্যাটের হার না বাড়িয়ে অনিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানগুলোকে ভ্যাটের আওতায় আনা প্রয়োজন। যারা কমপ্লায়েন্স ট্যাক্স পেয়ার, তাদের ওপরই বেশি করে করের বোঝা চাপানো হয়। এর ফলে কমপ্লায়েন্স ট্যাক্স পেয়াররা কর দেওয়ার ক্ষেত্রে নিরুৎসাহিত হচ্ছেন এবং কর ফাঁকি দেওয়ার প্রবণতা তৈরি হচ্ছে।

এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯১ সালে মূল্য সংযোজন কর (মূসক) বা ভ্যাট চালু হওয়ার পর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিবন্ধনের আওতায় আনার উদ্যোগ নেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। কিন্তু ৩৫ বছরে মাত্র ৮ লাখের মতো প্রতিষ্ঠান ভ্যাট নিবন্ধনের আওতায়

এসেছে। বর্তমানে ভ্যাট নিবন্ধনকারী প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা প্রায় ৭ লাখ ৯৫ হাজার। আগামী অর্থবছরে ভ্যাটের আওতা বাড়ানোর পাশাপাশি ভ্যাট পদ্ধতি সহজ করা ও ডিজিটালাইজেশনের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে এনবিআর। এজন্য অনলাইনে ভ্যাট রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করা, ছোট ব্যবসায়ীদের জন্য সিম্পল সফটওয়্যার ব্যবস্থা চালু করা, সহজ অনলাইন রিটার্ন দাখিল করার সুযোগ দেওয়া। এ ছাড়া এসব ব্যবসায়ীর জন্য মাসিক ন্যূনতম ভ্যাট ব্যবস্থা চালুর বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। এর পরিমাণ হতে পারে মাসিক ৫০০ বা ১ হাজার টাকা এবং প্রতি মাসে না দিয়ে ছয় মাসে কিংবা বছরে এক চালানের মাধ্যমে তারা ভ্যাট পরিশোধ করবে। এ ছাড়া ভ্যাটের আইনকানুনও সহজ করা হবে। এনবিআরের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আমরা গ্রামীণ পর্যায় পর্যন্ত ভ্যাটের আওতা বাড়ানোর পরিকল্পনা করছি। শুরুতে ছোট ব্যবসায়ীদের কিছুটা স্বস্তি দিতে এবং ভ্যাট প্রদানে অভ্যস্ত করতে সামান্য পরিমাণ ভ্যাট প্রতি মাসে দেওয়ার পদ্ধতি চালু হতে পারে। ব্যাংক হিসাব এবং ট্রেড লাইসেন্সের জন্য ‘বিআইএন’ বাধ্যতামূলক করা হলে সেটি আরও বেশি ব্যবসায়ীকে করের জালে নিয়ে আসার একটি কার্যকর উপায় হতে পারে। প্রাক-বাজেট আলোচনায় এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান বলেন, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য এনবিআর সফটওয়্যার তৈরি করছে। সেখানে সব ধরনের হিসাব সংরক্ষিত থাকবে। এতে রিটার্ন জমা দেওয়ার সময় জামেলা কমবে। এ সফটওয়্যার ব্যবসায়ীরা বিনামূল্যে ব্যবহার করতে পারবেন।