Image description
লক্ষ্মীপুর কারা কর্তৃপক্ষের মানবিকতা

কারাবিধির কঠোর নিয়ম ছাপিয়ে এক অনন্য মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে লক্ষ্মীপুর জেলা কারা কর্তৃপক্ষ। গভীর রাতে কারাগারের মূল ফটকে এক বন্দি পিতাকে তার মৃত নবজাতক সন্তানের মুখ দেখার সুযোগ করে দিয়ে প্রশংসায় ভাসছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

গত ১৪ মার্চ দিবাগত রাতে ঘটে যাওয়া এই হৃদয়স্পর্শী ঘটনার ভিডিও ও ছবি সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর তা ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।

হত্যা মামলায় গত বছর থেকে কারাগারে থাকা বন্দি মো. ফারুকের স্ত্রী বৃষ্টি আক্তার পাঁচ দিন আগে এক পুত্রসন্তানের জন্ম দেন। জন্মের পরপরই শিশুটি মারা গেলে শেষবারের মতো বাবাকে সন্তানের মুখ দেখানোর আকুতি নিয়ে গভীর রাতে স্বজনরা একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে কারাগারের ফটকে পৌঁছান।

রাত ১২টার দিকে কারাগারের সামনে অ্যাম্বুলেন্স থামিয়ে স্বজনদের কান্নাকাটির বিষয়টি নজরে আসে জেলা কারাগারের জেলার মো. নুর সোহেলের। কারাবিধি অনুযায়ী রাতে বন্দিদের সঙ্গে সাক্ষাতের কোনো সুযোগ না থাকলেও ঘটনার সংবেদনশীলতা বিবেচনা করে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করেন। চট্টগ্রাম বিভাগের ডিআইজি প্রিজন্স মানবিক দিক বিবেচনায় বিশেষ অনুমতি প্রদান করলে গভীর রাতেই কারাগারের গেটে মৃত সন্তান ও জীবিত বাবার এক করুণ মিলন ঘটে। নিস্তব্ধ পরিবেশে বাবার কোলে শেষবারের মতো তুলে দেওয়া হয় নিথর শিশুটিকে যা সেখানে উপস্থিত সবার চোখেই জল এনে দেয়।

জেলার মো. নুর সোহেল জানান, মানবিক দিক বিবেচনায় ঘটনাটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর ছিল এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আন্তরিক সহযোগিতায় এটি সম্ভব হয়েছে। তার ভাষ্য, নিয়মের পাশাপাশি মানবিকতা বজায় রাখাও কারারক্ষীদের দায়িত্বের একটি অংশ।

পুরো ঘটনাটি জেলার নুর সোহেল তার ফেসবুক পেজে শেয়ার করার পর থেকে নেটিজেনরা কারা কর্তৃপক্ষের এমন সময়োচিত ও সংবেদনশীল সিদ্ধান্তের ভূয়সী প্রশংসা করছেন। অনেকেই মন্তব্য করেন যে কারাগার কেবল শাস্তির জায়গা নয় বরং লক্ষ্মীপুর কারা কর্তৃপক্ষ প্রমাণ করেছে যে পেশাদারিত্বের ভেতরেও সহমর্মিতা বেঁচে থাকে। এ ঘটনাটি সামাজিক দায়বদ্ধতা ও মানবিক মূল্যবোধের এক উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।