যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ঋণের বোঝা দেশটির মোট অর্থনৈতিক উৎপাদন বা জিডিপিকে ছাড়িয়ে গেছে। গত সপ্তাহে প্রকাশিত প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, দেশটি এক উদ্বেগজনক মাইলফলক স্পর্শ করেছে, যেখানে ঋণের পরিমাণ এখন জাতীয় অর্থনীতির আকারের চেয়েও বড়।
কমিটি ফর এ রেসপনসিবল ফেডারেল বাজেটের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, গত মার্চ পর্যন্ত ১২ মাসে যুক্তরাষ্ট্রের জিডিপির পরিমাণ ছিল ৩১ দশমিক ২১ ট্রিলিয়ন ডলার। বিপরীতে একই সময়ে দেশটির ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩১ দশমিক ২৬ ট্রিলিয়ন ডলারে। অর্থাৎ, ঋণের অনুপাত জিডিপির ১০০ শতাংশ অতিক্রম করেছে। এর আগে কেবল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ এবং করোনা মহামারির সময় এমন ভারসাম্যহীনতা দেখা গিয়েছিল।
অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করেছেন এই পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রকে একটি বড় ধরনের আর্থিক সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
তাদের মতে, ঋণ যদি অর্থনীতির চেয়ে দ্রুত গতিতে বাড়তে থাকে, তবে সরকারের জন্য সুদ পরিশোধ করা কঠিন হয়ে পড়বে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কর কর্তন নীতি এবং সামরিক ব্যয় বৃদ্ধির পরিকল্পনা এই সংকটকে আরো ঘনীভূত করতে পারে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ট্রাম্প প্রশাসনের নেওয়া কর কর্তন নীতির ফলে আগামী কয়েক বছরে ঋণের বোঝা আরো ৪ ট্রিলিয়ন ডলার বাড়তে পারে। পাশাপাশি ইরান যুদ্ধের ব্যয় এবং আগামী অর্থবছরে প্রতিরক্ষা বাজেটে প্রস্তাবিত ১ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের বরাদ্দ পরিস্থিতির আরো অবনতি ঘটাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
তবে ওয়াশিংটনের নীতি নির্ধারকদের মধ্যে এ নিয়ে তেমন উদ্বেগ দেখা যাচ্ছে না। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, সরকারের রাজস্ব ব্যয় সংকোচন ও অপচয় রোধে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
কিন্তু কংগ্রেসনাল বাজেট অফিসের (সিবিও) পূর্বাভাস বলছে, ২০৩৬ সাল নাগাদ এই ঋণের পরিমাণ জিডিপির ১২০ শতাংশে পৌঁছাতে পারে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ডলারের আধিপত্যের জন্য বড় ঝুঁকি হয়ে দাঁড়াবে।
সূত্র: দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস