Image description

ঢাকায় আগামীকাল শনিবার থেকে শুরু হচ্ছে দুই দিনব্যাপী সাংবাদিকতা বিষয়ক সম্মেলন। ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ (এমআরডিআই) এই সম্মেলনের আয়োজন করেছে। এরই মধ্যে সম্মেলনে অংশগ্রহণ, সেশন বিন্যাস এবং প্রতিনিধিত্ব নিয়ে সাংবাদিক মহলে নানা প্রশ্ন উঠেছে। 

প্রবাসী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের সম্মেলন নিয়ে কড়া সমালোচনা করেছেন।

শুক্রবার (৮ মে) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘আগামীকাল থেকে দুই দিনের একটি সাংবাদিকতা বিষয়ক কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ঢাকায়। এমআরডিআই আয়োজিত এই সম্মেলনটি দেখে অনেকেরই মনে হতে পারে, এটি যেন মূলত দ্য ডেইলি স্টারের একটি শো — কেবল পত্রিকাটির সাংবাদিকদের জাহির করার জন্যেই যেন এই আয়োজন।’

 

তিনি আরো লেখেন, ‘উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও দুটি মাস্টারক্লাস বাদ দিলে মোট ১১টি সেশনের মধ্যে ৮টিতেই থাকছেন ডেইলি স্টারের বর্তমান পাঁচজন সাংবাদিক। এর বাইরে তাদের দুজন সাবেক কর্মীও রয়েছেন আরো দুটি সেশনে।

অর্থাৎ প্রায় পুরো আয়োজন জুড়েই ডেইলি স্টার, ১১ টি সেশনের মধ্যে ১০টিতেই তারা! দেশে কি আর কোন প্রতিষ্ঠিত সাংবাদিক নেই যারা অন্যান্য মিডিয়া হাউজে বা ইনডিপেনডেন্টলি কাজ করেন?’

 

জুলকারনাইন সায়ের লেখেন, সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো, বাংলাদেশের সাংবাদিকতা নিয়ে আয়োজিত এমন একটি সম্মেলনে সরকারের পক্ষ থেকে কোন প্রতিনিধি রাখা হয়নি — জবাবদিহিতার কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে হয় যেই ক্ষমতাকে, তাদেরই কেউ নেই — রিডিক‍্যুলাস না ব্যাপারটা?

‘এজেন্ডার নাম পড়া শুরু করলে আপনার মনে হতে পারে দেশে সাংবাদিকের অভাবও আছে। কারণ ডেইলি স্টারের একজন সাংবাদিক, জাইমা ইসলাম, একা তিনটি সেশনে অংশ নিচ্ছেন, আর তাদের সম্পাদক মাহফুজ আনাম থাকছেন দুটি সেশনে!’

“একইভাবে একই গ্রুপের প্রথম আলোর সাবেক ও বর্তমান মিলিয়ে আরো ৪ জন আছেন। দীর্ঘদিন ধরেই এমআরডিআইকে ঘিরে একটি নির্দিষ্ট বলয় বা ‘সিন্ডিকেট’ তৈরির অভিযোগ রয়েছে। ঢাকার একজন সাংবাদিক রোকেয়া জহির ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়ে বললেন তিনি যাচ্ছেন, সেখানে ও একজন কমেন্ট করলেন সিন্ডিকেটের বাইরে কেউ সুযোগ পায়নি।

 

এমআরডিআই বিভিন্ন দেশ থেকে ফান্ড সংগ্রহ করে কেবল কি তাদের কিছু পছন্দের সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণ করানোর জন্যে?

এই কনফারেন্সে মাঠপর্যায়ে দীর্ঘদিন কাজ করা, বাস্তব অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় যুক্ত অনেকেরই উপস্থিতি নেই। বরং এনজিও-ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি, করপোরেটমুখী মিডিয়ার প্রতিনিধিত্ব এবং নির্দিষ্ট কিছু সিন্ডিকেট প্রেমী বেশি প্রাধান্য পেয়েছেন বলে অনেক সাংবাদিক অভিযোগ করেছেন।

সাধারণত এ ধরনের কনফারেন্সে সেশনের জন্য উন্মুক্ত আহ্বান থাকে। মাঠে কাজ করা সাংবাদিকেরা নিজেদের অভিজ্ঞতা ও অনুসন্ধানভিত্তিক কাজ নিয়ে সেশনের প্রস্তাব জমা দেন। কিন্তু এখানে সেশন নির্বাচন হয়েছে নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তির পছন্দ অনুযায়ী।

পুরো এজেন্ডা পড়লে দেখা যায়, একই ধরনের বিষয় বারবার ঘুরে ফিরে এসেছে।

 

আরো হতাশাজনক বিষয় হলো, দেশের শীর্ষ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের কোনো শিক্ষককে গুরুত্বের সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। মাত্র দুজন শিক্ষক থাকলেও সাংবাদিকতা ‘শেখাতে’ রাখা হয়েছে ডজনখানেক এনজিওকর্মীকে।

“একইভাবে আলোচ্য বিষয়গুলোও নির্দিষ্ট একটি গোষ্ঠীর চিন্তা ও এজেন্ডাকেই প্রতিফলিত করছে। যেমন ‘Behind the Byline’ বা ‘Building Inclusive Culture within Newsrooms’ শীর্ষক বিষয় থাকলেও বাংলাদেশের সাংবাদিকতার গভীর ও মৌলিক সংকটগুলো অনুপস্থিত।”