পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেছেন, মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক হলেও রোহিঙ্গাদের সম্মান, মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে সরকার বদ্ধপরিকর। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ মিয়ানমার সরকার, আরাকান আর্মিসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে।
বুধবার (৬ মে) বিকেলে কক্সবাজারের শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশন (আরআরআরসি) কার্যালয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, এনজিও ও আন্তর্জাতিক সংস্থার কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এসব কথা বলেন।
মতবিনিময় সভায় শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মিজানুর রহমানসহ প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, এনজিও ও আন্তর্জাতিক সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিমন্ত্রী জানান, রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে চীন, ভারত, আসিয়ানভুক্ত দেশ, মুসলিম বিশ্ব ও পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। সমন্বিত আন্তর্জাতিক উদ্যোগের মাধ্যমেই এই সংকটের টেকসই সমাধান সম্ভব বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, বৈশ্বিক বিভিন্ন যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে রোহিঙ্গা সংকট আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কিছুটা আড়ালে চলে যাচ্ছে। কিন্তু এটি শুধু বাংলাদেশের সমস্যা নয়, বরং পুরো বিশ্বের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মানবিক সংকট। অতীতে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার আমলে দুই দফায় সফলভাবে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সম্ভব হয়েছিল।
শামা ওবায়েদ বলেন, রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে নিরাপদে ফিরে গিয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপন, জীবিকা নির্বাহ এবং মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা জরুরি। এই বিপুল জনগোষ্ঠীর উপস্থিতি বাংলাদেশের অর্থনীতি ও জনসংখ্যার ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করেছে। তবুও মানবিক বিবেচনায় বাংলাদেশ তাদের আশ্রয় দিয়ে যাচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে যাওয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে। বাসস্থান ব্যবস্থাও দুর্বল হয়ে পড়েছে। এসব বিষয় নিয়ে সরকার উদ্বিগ্ন এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে।
এর আগে সকালে প্রতিমন্ত্রীর নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল কক্সবাজারে পৌঁছে উখিয়ার বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করে। পরিদর্শন করা স্থানগুলোর মধ্যে ছিল ক্যাম্প-৪ এর বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) খাদ্য বিতরণ কেন্দ্র, এলপিজি বিতরণ কেন্দ্র, ক্যাম্প-১৮ এর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ১৮ ওয়েস্টের এমএসএফ পরিচালিত হাসপাতাল এবং কুতুপালংয়ের পানি শোধনাগার (ইউএনআইকিউএলও প্ল্যান্ট)।
প্রতিনিধিদলে ছিলেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মিয়ানমার উইংয়ের মহাপরিচালক তৌফিক উর রহমান, পরিচালক (এসএমও) শামীমা ইয়াসিন স্মৃতি, এপিএস মোহাম্মদ ফজলুল হক এবং সহকারী সচিব জাহিদ হাসান শিহাব।