মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার এক যুবকের গলাকাটা মরদেহ ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার হাটখোলা গ্রাম থেকে বস্তাবন্দী অবস্থায় উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (৫ এপ্রিল) রাত ৮টার দিকে এ মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন দুই যুবককে আটক করেছে পুলিশ। নিহত রবিউল ইসলাম (৩৫) মহম্মদপুর উপজেলার সিন্দাইন গ্রামের বাসিন্দা এবং গোলাম সারোয়ারের ছেলে। তিনি পেশায় একজন পাওয়ার ট্রিলার চালক ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে একটি সাদা মাইক্রোবাস এসে বোয়ালমারীর হাটখোলা গ্রামের বটতলা এলাকার একটি নির্জন স্থানে থামে। পরে গাড়ি থেকে একটি বস্তা রাস্তার পাশে ফেলে রেখে দ্রুত সরে যাওয়ার চেষ্টা করে। বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে এলে তারা এগিয়ে গেলে মাইক্রোবাসটি পালানোর চেষ্টা করে। এ সময় এলাকাবাসী ধাওয়া দিলে গাড়িটি উল্টে যায়। এরপর গাড়িতে থাকা কয়েকজন পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে স্থানীয়রা দুইজনকে আটক করে এবং বাকিরা পালিয়ে যায়।
পরে স্থানীয়রা বস্তার মুখ খুলে ভেতরে এক যুবকের মরদেহ দেখতে পান। মরাদেহে গলাকাটা এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন ছিল। খবর পেয়ে বাংলাদেশ পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে এবং আটক দুইজনকে হেফাজতে নেয়। জব্দ করা হয়েছে মাইক্রোবাসটি।
নিহতের মামা মুশা মোল্যা জানান, মঙ্গলবার দুপুরে রবিউল একই গ্রামের হাফেজ মোল্যার ছেলে শাহিদুল ইসলামের সঙ্গে বোয়ালমারীর হাটখোলা গ্রামে তার জামাইবাড়িতে যান। সেখানে একটি মোটরসাইকেল নিয়ে শাহিদুলের জামাইয়ের সঙ্গে কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে শাহিদুল রবিউলকে রেখে চলে যান। এরপর থেকে তার আর কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় শাহিদুল ইসলাম ও তার জামাই শহিদুল হক পলাতক রয়েছেন। ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেন জানান, আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।