Image description

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন বাজারে নিত্যপণ্যের দাম বেড়েই চলেছে। আয় না বাড়লেও খরচের চাপ বাড়ায় অনেক পরিবার এখন আগের মতো বাজার করতে পারছে না। প্রয়োজনীয় জিনিসের তালিকা ছোট হচ্ছে, কমছে কেনাকাটা। নির্দিষ্ট আয়ে চলা পরিবারগুলো সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছে।

আয় না বাড়লেও বাজারের লাগামছাড়া দামের কারণে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাপন আরও কঠিন হয়ে উঠছে। জ্বালানির দাম বাড়ার প্রভাব ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়েছে প্রায় সব পণ্যে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এ চাপ আরও বাড়তে পারে।

পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) এপ্রিল মাসের অর্থনৈতিক হালনাগাদ প্রতিবেদনে জানানো হয়, ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক জ্বালানি ব্যয় এবং মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনায় দেশের মূল্যস্ফীতিতে নতুন ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। বৈশ্বিক জ্বালানি দামের ঊর্ধ্বগতি, আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি এবং উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থায় ব্যয় বাড়াচ্ছে, যা মূল্যস্ফীতিকে পুনরায় ঊর্ধ্বমুখী করতে পারে।

মিরপুরের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন রাশেদুল ইসলাম। মাসে আয় প্রায় ৩০ হাজার টাকা। গত শুক্রবার মিরপুর-১১ কাঁচাবাজারে বাজার করতে আসেন তিনি। রাশেদুল বলেন, আগে একবার বাজারে গেলে সপ্তাহের সবকিছু নিয়ে আসতে পারতাম। এখন একই টাকায় অর্ধেকও হয় না। তাই বাধ্য হয়ে অনেক কিছু বাদ দিচ্ছি।

গৃহিণী সুমি আক্তারও একই ভাষায় কথা বলেন। তাঁর স্বামী ছোট ব্যবসা করেন। মাসে আয় করেন সর্বসাকুল্যে ৩০-৩৫ হাজার টাকা। সংসারে দুই সন্তান। বড় সন্তানকে স্কুলে ভর্তি করছেন গত বছর। তিনি বলেন, বাচ্চাদের জন্য আগে নিয়মিত দুধ-ডিম রাখতাম। এখন দাম এত বেশি যে সবসময় কেনা যায় না। হিসাব করে চলতে হচ্ছে।

ইচ্ছে করলেও সব জিনিস কিনতে পারি না। মিরপুর ১১ ও মিরপুর ৬ কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, চাল, ডাল, তেল, ডিম, মুরগি-প্রায় সব নিত্যপণ্যের দামই চড়া। মাঝারি মানের চাল কেজিতে বিক্রি হচ্ছে ৬০-৬২ টাকা, মোটা চাল ৫৮-৬০ টাকা। মিনিকেট চাল ৮০-৯০ টাকায়। চিকন মসুর ডাল কেজিতে ১৪০-১৫০ টাকা ও মোটা মসুর ডাল ১০০-১১০ টাকা। ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছে ১৩০-১৪০ টাকা। ব্রয়লার মুরগি কেজিতে ১৮০-১৯০ আর সোনালি মুরগি ৩৬০- ৩৮০ টাকা। সবজির বাজারেও স্বস্তি নেই। বেশির ভাগ সবজি ৬০-৮০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে, কিছু ক্ষেত্রে তারও বেশি। পটল, ঢ্যাঁড়শ ৬০-৮০ টাকা আর ঝিঙ্গা, করলা, বরবটি ৮০-১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কাঁকরোল বিক্রি হচ্ছে ১২০-১৩০ টাকায়। কাঁচামরিচ ৮০-১০০, ট্যামাটো ৫০, পেঁপে ৭০-৮০, মিষ্টিকুমড়া ৪০-৫০ ও বেগুন ৭০-৮০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। আলু ২০-২৫, পিঁয়াজ ৪০-৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মাঝারি সাইজের লাউ পিস প্রতি বিক্রি হচ্ছে ৮০-১০০ টাকায়। কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর সহসভাপতি এস এম নাজের হোসাইন বলেন, বাজারে কার্যকর নজরদারির অভাব রয়েছে।

অনেক ক্ষেত্রে অযৌক্তিকভাবে দাম বাড়ানো হচ্ছে। সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বলতা ও মধ্যস্বত্বভোগীদের কারণে ভোক্তারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তিনি বলেন, পণ্যের আমদানি খরচ, পাইকারি ও খুচরা দামের মধ্যে পার্থক্য খতিয়ে দেখা দরকার। একই সঙ্গে নিয়মিত বাজার তদারকি নিশ্চিত করতে হবে।