গাজীপুরের শ্রীপুরে বিরোধপূর্ণ জমিতে কাজ বন্ধ রাখতে শ্রমিকদের প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। ‘একটা শুট করাম, একটা শুটে পইরা যাবে’ এমন বক্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় আতঙ্ক ও আলোচনা তৈরি হয়েছে
শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার কাওরাইদ ইউনিয়নের বলদিঘাট এলাকার লালমাটিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত কামরুজ্জামান মন্ডল ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক।
ভুক্তভোগী জমির মালিক আবুল কালাম। সাভার থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হিসেবে কর্মরত আছেন। ছুটিতে এসে জমিতে কাজ করানোর সময় এ ঘটনা ঘটে।
বিএনপি নেতার হুমকির পর ভিডিওতে শ্রমিকদের উদ্দেশে আবুল কালামকে বলতে শোনা যায়, ‘কামরুল এভাবে বইলো না কামলারে, আমারে বলো। তুমি তারে না করতেছো কেন? সে তো কাজের লোক, আমারে বলো।’
ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়ার পর একজন পুলিশ কর্মকর্তার উপস্থিতিতে এমন হুমকি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে স্থানীয়দের মধ্যে।
আবুল কালাম দাবি করেন, ২০১৮ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে পাঁচটি দলিলের মাধ্যমে ৮২৫ নম্বর দাগের ১৬ দশমিক ৩৫ শতাংশ জমি ক্রয় করেছেন। বিক্রেতারা তাকে চৌহদ্দি বুঝিয়ে দিয়েছেন এবং তিনি দখলে রয়েছেন।
তার ভাষ্য, জমিতে কাজ করতে গেলে কামরুজ্জামান মন্ডল বাধা দেন এবং দাবি করেন সেখানে স্কুলের জমি রয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, সর্বশেষ দলিল যদি তার নামে বৈধ হয়, তবে প্রয়োজন হলে স্কুলকে জমি দিয়ে দেবেন।
অন্যদিকে কামরুজ্জামান মন্ডল দাবি করেন, তিনি বলদিঘাট জে এম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি। তার ভাষ্য, ১৯৭২ সালে এক ব্যক্তি ৭০ শতাংশ জমি স্কুলের জন্য দান করেন এবং পরবর্তীতে তার বাবাও একই পরিমাণ জমি দেন। তবে ওই জমির দখল এখনো পুরোপুরি বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। তিনি অভিযোগ করেন, বিষয়টি নিষ্পত্তির আগেই আবুল কালাম সেখানে জোরপূর্বক স্থাপনা নির্মাণ শুরু করেছেন। ‘শুট’ করার বক্তব্য প্রসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, এটি ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক আতাব উদ্দিন আতা ভিডিওটি দেখেছেন। তার মতে, ‘এমন বক্তব্য একজন শিক্ষিত ব্যক্তির কাছ থেকে প্রত্যাশিত নয়, তবে বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে মন্তব্য করা যাবে।’
সদস্য সচিব সাহেব উদ্দিন বললেন, জমিটি নিয়ে বিরোধ রয়েছে এবং বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দপ্তরে বিচারাধীন। তার ভাষ্য, শ্রমিকদের সঙ্গে কথাবার্তার সময় ভুলভাবে ওই শব্দটি বলা হয়ে থাকতে পারে।
শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাহিদ ভূঁইয়া জানান, জমি সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে উভয় পক্ষ তার দপ্তরে এসেছিলেন। তিনি আগামী ২০ তারিখ প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ উপস্থিত থাকতে নির্দেশ দিয়েছেন।
শুনানির মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তির চেষ্টা করা হবে-উল্লেখ করলেন ইউএনও।