রাজধানীর শাহবাগ থানায় ছাত্রদলের নেতৃত্বে সংঘটিত হামলার ঘটনার গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন জমার সময় আরও সাত কার্যদিবস বাড়িয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) প্রশাসন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তদন্ত শেষ না হওয়ায় অতিরিক্ত সময়ের আবেদন করা হলে তা অনুমোদন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ও সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুব কায়সার বলেন, 'ঘটনাটি আসলে বহু-পাক্ষিক, যেখানে ডাকসু, বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন এবং সাংবাদিকরা জড়িত। আমরা ইতোমধ্যে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেছি।'
তিনি আরও বলেন, 'তদন্তের স্বার্থে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন এবং সংশ্লিষ্ট থানার সঙ্গেও কথা বলার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। পাশাপাশি যাদের নাম এসেছে, তাদের সবাইকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।'
নির্ধারিত তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার প্রশ্নে তিনি বলেন, 'বাস্তবিকভাবে এটি তিন দিনের মধ্যে সম্পন্ন করা সম্ভব নয়। আমি আমার জায়গা থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি, তবে যৌক্তিকভাবেই আরও সময় প্রয়োজন। সব পক্ষের বক্তব্য গ্রহণ করে বিষয়টি স্পষ্টভাবে বোঝার প্রয়োজন থাকায় তারা প্রক্টর অফিসের কাছে সাত কার্যদিবস সময় বৃদ্ধির আবেদন করেছিলেন, যা ইতোমধ্যে অনুমোদিত হয়েছে।'
উল্লেখ্য, গত ২৩ এপ্রিল সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের আবাসিক ছাত্র এবং ঢাবি শিবিরের সাবেক তথ্য প্রযুক্তি সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার কন্যা জায়মা রহমানকে নিয়ে করা ফেসবুক পোস্ট সংবলিত ফটোকার্ড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ উক্ত ফটোকার্ডকে ভুয়া উল্লেখ করে নিজের জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে শাহবাগ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে যান।
এরই প্রেক্ষিতে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা শাহবাগ থানা ঘেরাও করেন বলে জানা যায়। ওই সময় থানায় সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে সাংবাদিকরা বাধার সম্মুখীন হন এবং বাধার প্রতিবাদ জানালে তাদের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে। একই ঘটনায় শাহবাগ থানায় উপস্থিত ডাকসুর কয়েকজন নেতৃবৃন্দের ওপরও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের হামলার অভিযোগ পাওয়া যায়।