Image description

সরকার ও বিরোধী দল আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশের উন্নয়নে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করার বক্তৃতার মধ্য দিয়ে অত্যন্ত সৌহার্দপূর্ণ পরিবেশে শেষ হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন।

প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান তাঁর সমাপনী ভাষণে বলেছেন, সরকার ও বিরোধী দলের আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে আমরা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাব। তিনি বলেন, দেশকে যদি সবাই মিলে স্থিতিশীল রাখতে না পারি, তাহলে দেশকে এগিয়ে নিতে পারব না। আমাদের মধ্যে তর্কবিতর্ক হবে, মতপার্থক্য থাকবে, কিন্তু দেশের জাতীয় স্বার্থে আমরা এক থাকব। অন্যদিকে জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা এবং জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান তাঁর সমাপনী বক্তব্যে বলেছেন, বর্তমান সরকারের সব ভালো কাজে সহযোগিতা প্রদান এবং ভুল দেখলে বিরোধিতা করে যাব। তিনি বলেন, ফ্যাসিস্ট আমলে সংগঠিত প্রত্যেক অপরাধের বিচার করতে হবে। কারও চোখ রাঙানোকে পরোয়া করি না। ‘তিস্তা মহাপরিকল্পনার গল্প শুনতে শুনতে মানুষ ক্লান্ত-এখন তারা বাস্তবায়ন দেখতে চায়।’ সরকারকে দ্রুত দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রীজাতীয় সংসদের সমাপনী অধিবেশনে দেওয়া এক আবেগঘন ও নীতিনির্ধারণী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, সরকারপ্রধানের এই চেয়ারটি দূর থেকে দেখতে খুব আরামদায়ক মনে হলেও আসলে এটি মোটেও আরামের নয়। প্রধানমন্ত্রী তাঁর নিজের চেয়ারের বিষয়ে ব্যক্তিগত অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, এই চেয়ারটি খুব কঠিন একটি জায়গা। এই চেয়ারে বসলে আমি প্রতিমুহূর্তে অনুভব করি যে আগুনের তপ্ত হিট বা তাপ আসছে। একজন রাজনীতিবিদ হিসেবে সংসদ বা জনসভায় অনেক জনপ্রিয় বা ‘পপুলার’ কথা বলে হাততালি কুড়ানোর সুযোগ থাকলেও এই দায়িত্বের চেয়ার তাঁকে সেই অনুমতি দেয় না। এই চেয়ার প্রতিমুহূর্তে তাঁকে স্মরণ করিয়ে দেয় যে তাঁকে জনপ্রিয় সিদ্ধান্তের চেয়ে সঠিক বা ‘রাইট’ ডিসিশনটি নিতে হবে।

পরে রাষ্ট্রপতির ঘোষণা পাঠ করার মাধ্যমে শেষ হয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন রাত সোয় ৯টায় স্পিকারের সমাপনী বক্তব্যের মধ্য দিয়ে ২৫ কার্যদিবসের এই অধিবেশনের সমাপ্তি ঘটে। গত ১২ মার্চ এই সংসদের যাত্রা শুরু হয়েছিল। তার আগে অধিবেশনের শেষ দিনে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান সমাপনী বক্তব্য দেন। শহীদদের আত্মত্যাগ এবং সাধারণ মানুষের আকাক্সক্ষাকে ধারণ করে একটি গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণের দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, এই সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত এবং জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক সরকার। তাই জনগণের প্রতিটি সমস্যা লাঘব করা এবং তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন করাই এই সরকারের প্রথম এবং প্রধান কাজ। বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্যের সূত্র ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকের এই সংসদের দিকে সমগ্র বাংলাদেশ তাকিয়ে আছে।

 পৃথিবীর প্রতিটি কর্নারে যেখানেই একজন বাংলাদেশি আছে, তারা এই সংসদের ভবিষ্যৎ নিয়ে একটি দৃঢ় প্রত্যাশা ও আশা পোষণ করে। আমরা বিভিন্ন সময়ে শহীদদের শ্রদ্ধা জানিয়েছি, কিন্তু শুধু শ্রদ্ধা নিবেদন করলেই আমাদের কর্তব্য শেষ হয়ে যাবে না। যে প্রত্যাশা নিয়ে মানুষ রাজপথে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল, যেখানে মানুষ মুক্তভাবে কথা বলতে পারবে, কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে, সেই আকাক্সক্ষা পূরণ করাই আমাদের আসল লক্ষ্য। কৃষকদের ভাগ্য পরিবর্তনে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিরোধীদলীয় নেতা কৃষকদের সমস্যার কথা বলেছেন। আমি তাঁকে আশ্বস্ত করতে চাই, আমাদের নির্বাচনি মেনিফেস্টো অনুযায়ী আমরা ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ শুরু করেছি। শুধু ধানচাষি নয়, মৎস্য ও গবাদিপশু পালনকারীসহ সব পর্যায়ের কৃষকের কাছে আমরা পর্যায়ক্রমে পৌঁছাব। আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের রহমতে কৃষকের ভাগ্য পরিবর্তনের কাজ এই সংসদ ও নির্বাচিত প্রতিনিধিরা শুরু করেছেন। শিক্ষা খাতের আমূল পরিবর্তনের অঙ্গীকার করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বিদেশে থাকার সময় দেখেছি সেখানকার স্কুল ও শিক্ষার্থীদের পরিবেশ কতটা উন্নত। আমার দেশের বাচ্চারা কেন এমন সুযোগ পাবে না? ইনশাল্লাহ, সেই আশা আমরা পূরণ করব।

আগামী জুলাই মাস থেকে পর্যায়ক্রমে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আমরা স্কুলব্যাগ, ড্রেস এবং জুতার ব্যবস্থা করব। শিক্ষাঙ্গনে একটি সুন্দর ও নিরাপদ পরিবেশে আমাদের সন্তানেরা লেখাপড়া করবে, এটিই আমাদের কাম্য। নারীশিক্ষার প্রসারে সরকারের বিশেষ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশের অর্ধেক জনসংখ্যা নারীকে পেছনে রেখে উন্নয়ন সম্ভব নয়। বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে আমরা দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত নারীশিক্ষা অবৈতনিক করেছিলাম। বর্তমান সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্নাতক বা ডিগ্রি পর্যন্ত মেয়েদের শিক্ষা অবৈতনিক করা হবে। পাশাপাশি মেধাবীদের উপবৃত্তি দেওয়া হবে। এ ছাড়া আমরা ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করেছি, যা গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবে। অনেকে প্রশ্ন করতে পারেন এত টাকা কীভাবে আসবে? আমি বলব, এটি ইনভেস্টমেন্ট; এর রিটার্ন গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়নের মাধ্যমেই ফিরে আসবে। দেশের সাম্প্রতিক বন্যা ও জলাবদ্ধতা নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার উদাহরণ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমি স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীকে সেখানে পাঠিয়েছি। নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ, সুনামগঞ্জসহ বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী বর্ষণে ফসলের ক্ষতি হয়েছে। ত্রাণমন্ত্রীকে গতকালই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং স্থানীয় প্রশাসনকে দুই দিন আগেই বলা হয়েছিল তালিকা তৈরি করে কৃষকদের পাশে দাঁড়াতে। এটিই প্রমাণ করে এই সরকার জনগণের সরকার।

বিরোধী দলের গঠনমূলক প্রস্তাবের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জ্বালানিসংকটসহ বিভিন্ন জাতীয় ইস্যুতে বিরোধী দলের দেওয়া প্রস্তাব আমরা গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছি। উভয় পক্ষ মিলে যৌথ কমিটি গঠন করেছি। আমরা বিশ্বাস করি, একসঙ্গে বসে আলোচনা করলে দেশের মানুষের স্বস্তির জন্য যেকোনো সমস্যার সমাধান বের করা সম্ভব। তিনি বিরোধী দলের নেতা ও উপনেতাকে তাঁদের এলাকার সমস্যার তালিকা পাঠানোর অনুরোধ করেন এবং তা দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেন। দেশের মানুষের জন্য এবং সুন্দর আগামীর জন্য এই সংসদ কাজ করে যাবে বলে স্পষ্ট করেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষের প্রত্যাশা মেটানো এবং সমস্যা সমাধানের গুরুভার এই চেয়ারের উত্তাপ বাড়িয়ে দেয়। আমরা যদি পপুলার ডিসিশনের পেছনে ছুটি, তবে হয়তো বাহবা পাব, কিন্তু দীর্ঘ মেয়াদে দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সেজন্যই সংসদ সদস্য ও বিরোধী দলের বন্ধুদের প্রতি পপুলার নয় বরং সঠিক সিদ্ধান্তের ওপর আলাপ করার আহ্বান জানাই।

তারেক রহমান দেশের কৃষি ও পরিবেশগত সংকটের কথা উল্লেখ করে বলেন, জলাবদ্ধতা এবং পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ার সমস্যাটি অত্যন্ত ভয়াবহ। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সেই ঐতিহাসিক খাল খনন কর্মসূচি পুনরায় শুরুর লক্ষ্যই হলো মাটির নিচের পানির স্তর রিফিল করা। এই কাজের শুভফল পেতে প্রায় ২০ বছর সময় লাগবে, তাই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কথা ভেবে এখনই আমাদের তপ্ত আগামীর প্রস্তুতি নিতে হবে। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের সংস্কার নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা আমাদের নির্বাচনি ইশতেহারে মোট বাজেটের প্রায় ৫ শতাংশ শিক্ষা খাতে রাখার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, তা বাস্তবায়নে কাজ করছি। প্রাইমারি স্কুলের শিশুদের ব্যাগ, বই ও জুতো দিয়ে উৎসাহিত করার পাশাপাশি শিক্ষকদের সম্মান বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যাতে তাঁরা গুণগত শিক্ষায় মনোনিবেশ করতে পারেন। শুধু হাসপাতালের ভবন থাকলে হবে না, সেখানে ডাক্তার, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি এবং ওষুধের নিশ্চয়তা দিতে হবে। বিরোধীদলীয় নেতার উদ্দেশে বলেন, আমাদের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য এবং গন্তব্য এক, আর তাহলো বাংলাদেশের মানুষের জন্য একটি স্বনির্ভর ও নিরাপদ দেশ গড়ে তোলা। সংসদীয় গণতন্ত্রের মর্যাদা রক্ষা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, অতীতে যতবারই গণতন্ত্র বাধাগ্রস্ত হয়েছে, ততবারই দেশের অর্থনীতি, স্বাস্থ্যব্যবস্থা ও কর্মসংস্থান মুখথুবড়ে পড়েছে।

তিনি ১৭৩ দিনের হরতালের স্মৃতিচারণ করে বলেন, সেই সময় হয়তো কোনো সরকার ক্ষমতা হারিয়েছে কিন্তু বুক চিরে কেউ বলতে পারবে না যে, বাংলাদেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। সেই ক্ষতির মাসুল আজও আমাদের টানতে হচ্ছে। বর্তমানে ৩০ লাখ কোটি টাকার ঋণের বোঝা নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা শুরু করার চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, একটি স্থিতিশীল সরকার ও সংসদ নিশ্চিত করতে না পারলে আমরা এ সংকট কাটিয়ে উঠতে পারব না। প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বিরোধীদলের প্রতি অত্যন্ত উদার মনোভাব পোষণ করে জানান, ডেপুটি স্পিকার পদটি তাঁদের জন্য দেওয়ার প্রস্তাব এখনো উন্মুক্ত রয়েছে এবং তিনি নিজে বিরোধীদলীয় নেতার বাসায় গিয়ে সহযোগিতা চেয়ে এসেছেন। প্রধানমন্ত্রী বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান এবং কৃষকদের ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি তুলে ধরে বলেন, আমাদের মূল্যবান ঐতিহাসিক রাজনৈতিক ডিবেট দিয়ে কোনো ক্ষুধার্ত মানুষের পেট ভরবে না কিংবা অসুস্থ শিশুর মায়ের মন শান্ত হবে না। মানুষ এখন ডিবেট নয়, তাদের সমস্যার সমাধান চায়। তিনি বিরোধীদলের সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, আপনারা ব্যর্থ হওয়া মানেই আমি ব্যর্থ হওয়া, আর আমাদের কেউ একজন ব্যর্থ হলে পুরো বাংলাদেশ ব্যর্থ হয়ে যাবে। তাই আসুন, আমরা একে অপরকে ব্যর্থ করার প্রতিযোগিতায় না নেমে একসঙ্গে এ সংসদকে সফল করি। একটি সমৃদ্ধশালী ও আত্মনির্ভরশীল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে আইটি-শিল্পসহ দেশের প্রতিটি খাতের বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে উভয় পক্ষকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান সরকারপ্রধান।

সরকারের ভালো কাজে সহযোগিতা, মন্দ কাজে বিরোধিতা করে যাব : জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা এবং জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, বর্তমান সরকারের সব ভালো কাজে সহযোগিতা এবং ভুল দেখলে বিরোধিতা করে যাব। তিনি বলেন, ফ্যাসিস্ট আমলে সংগঠিত প্রত্যেক অপরাধের বিচার করতে হবে। কারও চোখ রাঙানোকে পরোয়া করি না। ‘তিস্তা মহাপরিকল্পনার গল্প শুনতে শুনতে মানুষ ক্লান্ত, এখন তারা বাস্তবায়ন দেখতে চায়।’ সরকারকে দ্রুত দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।  গতকাল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে বিরোধীদলীয় নেতা এসব কথা বলেন। এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম সভাপতিত্ব করেন। ৪৩ মিনিটের বক্তব্যে দেশের চলমান রাজনীতি ও সংকট থেকে শুরু করে ঐক্যবদ্ধভাবে জাতি গঠনে গুরুত্বারোপ করেন শফিকুর রহমান। বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, দেশের কৃষক আজ চরম সংকটে রয়েছেন। উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় তারা ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না। তার ভাষায়, কৃষকরা ‘হাঁসফাঁস অবস্থায়’ আছেন। কারণ বীজ, সার, কীটনাশক ও সেচের খরচ বেড়ে গেলেও উৎপাদিত ফসলের দাম সেই অনুপাতে বাড়ে না। অনেক ক্ষেত্রে নির্ধারিত দামের চেয়েও বেশি দামে কৃষি উপকরণ কিনতে হয়। তিনি অভিযোগ করেন, মধ্যস্বত্বভোগীদের কারণে মাঠপর্যায়ে কৃষক কম দামে ফসল বিক্রি করলেও রাজধানীতে সেই পণ্য কয়েক গুণ বেশি দামে বিক্রি হয়। পর্যাপ্ত সংরক্ষণাগার না থাকায় কৃষক বাধ্য হয়ে কম দামে ফসল বিক্রি করেন। এ অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে সরকারি সহায়তা জোরদারের দাবি জানান তিনি।

তিস্তা নদী এলাকার দুর্ভোগ তুলে ধরে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ওই অঞ্চলের মানুষ চরম কষ্টে জীবনযাপন করছেন। তিনি জানান, নদীর নাব্য কমে যাওয়ায় বর্ষায় বন্যা আর শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট- দুই ধরনের দুর্ভোগই ভোগ করতে হয়। প্রতি বছর হাজার হাজার ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘তিস্তা মহাপরিকল্পনার গল্প শুনতে শুনতে মানুষ ক্লান্ত, এখন তারা বাস্তবায়ন দেখতে চায়।’ সরকারকে দ্রুত দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রয়োজনে জনগণও এ উদ্যোগে পাশে দাঁড়াবে।

বাজেট অধিবেশন সামনে রেখে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি বলেন, গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়াতে হবে এবং মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে জনবল ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে।

স্বাস্থ্য খাতের দুরবস্থা তুলে ধরে তিনি বলেন, হাসপাতালগুলোতে শয্যার তুলনায় কয়েক গুণ বেশি রোগী ভর্তি থাকছে, যা স্বাস্থ্যসেবাকে অকার্যকর করে তুলছে।

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব ও সন্ত্রাস বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ প্রয়োজন। তিনি বলেন, ‘চাঁদাবাজ কোনো দলের হতে পারে না, এরা দলের নাম ভাঙানো দুর্বৃত্ত।’ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সহিংসতা বন্ধ করে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

নিজ নির্বাচনি এলাকা রাজধানীর ঢাকা-১৫ আসনের অবস্থা তুলে ধরে তিনি এটিকে ‘সিটমহল’ উল্লেখ করে বলেন, এলাকার প্রধান সমস্যাগুলোর মধ্যে রয়েছে তীব্র যানজট ও সরু রাস্তা, জলাবদ্ধতা ও খালের দখল, ভাঙাচোরা সড়ক ও অপরিকল্পিত অবকাঠামো। তিনি নানা সমস্যার কথা তুলে ধরে তা সমাধানে সংশিষ্ট মন্ত্রীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।