দেশের শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক খাতে আটকে থাকা বিপুল অঙ্কের অর্থ নিয়ে সৃষ্ট চাপ কিছুটা লাঘব করতে গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আটকে থাকা এসব অর্থের বিপরীতে প্রভিশন বা নিরাপত্তা সঞ্চিতি রাখার বাধ্যবাধকতা তুলে নেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগ এ সিদ্ধান্তের কথা জানায়।
এতে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো আপাতত অতিরিক্ত আর্থিক চাপ থেকে কিছুটা স্বস্তি পাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আর্থিক সংকটে থাকা পাঁচটি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক হলো—ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক এবং এক্সিম ব্যাংক। একীভূত কাঠামোর আওতায় আনার পর এসব ব্যাংকে অন্যান্য ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিপুল পরিমাণ অর্থ আটকে পড়ে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, এসব ব্যাংকের কাছে প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকার বেশি অর্থ আটকে ছিল। এর মধ্যে একটি ইসলামী ব্যাংকেরই প্রায় আট হাজার ৪২৫ কোটি টাকা আটকে পড়ে। আংশিক অর্থ ফেরত এলেও এখনও প্রায় আট হাজার ২৭৯ কোটি টাকা অনিষ্পন্ন অবস্থায় রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, শুরুতে ব্যাংক সুপারভিশন বিভাগ (বিএসডি) ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বাজার বিভাগ (ডিএফআইএম) থেকে আটকে থাকা অর্থের বিপরীতে প্রভিশন রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। তবে, পরবর্তীতে ব্যাংক রেজোল্যুশন বিভাগ (বিআরডি) মত দেয় যে, বিশেষ ব্যবস্থার আওতায় থাকা এই অর্থের ক্ষেত্রে প্রভিশন রাখার প্রয়োজন নেই।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “আটকে থাকা অর্থ একটি বিশেষ স্কিমের আওতায় রয়েছে। ভবিষ্যতে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলো সরাসরি অর্থ ফেরত পেতে পারে, অথবা দীর্ঘমেয়াদি আমানত (এফডিআর) কিংবা শেয়ারের মাধ্যমে সমপরিমাণ মূল্য সমন্বয় করা হতে পারে। এ কারণে অর্থ পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি আপাতত কম বলে বিবেচিত হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “নির্দিষ্ট সময় শেষে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলো শেয়ার পেতে পারে অথবা পাঁচ বছর পর মুনাফাসহ অর্থ ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ বাস্তবতায় প্রভিশন রাখার বাধ্যবাধকতা তুলে নেওয়া হয়েছে।”
খাত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ সিদ্ধান্তে স্বল্পমেয়াদে চাপ কমলেও দীর্ঘমেয়াদে আটকে থাকা অর্থ সম্পূর্ণভাবে উদ্ধার করা এখনও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবেই রয়ে গেছে।