Image description

স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, 'চট্টগ্রাম শহর পানির উপর ভাসছে না, সুন্দর আছে। চট্টগ্রাম নগরী শুষ্ক মৌসুমে যেরকম থাকে সেরকমই আছে।’

বুধবার (২৯ এপ্রিল) সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম নগরীর প্রবর্তক এলাকায় জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি ঘুরে দেখে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

টানা তিন দিন ভারী বৃষ্টিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতার ভোগান্তির মধ্যেই নগরী ঘুরে দেখে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, 'প্রথমত আমি মিডিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা রেখে বলতে চাই, আপনারা যেভাবে নিউজটি করেছেন বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বলছে, “চট্টগ্রাম শহর পানির উপর ভাসছে”।

‘আমি চট্টগ্রাম এসে ঘুরে দেখলাম সন্ধ্যার পর থেকে। চট্টগ্রাম শহর পানির উপর ভাসছে না। হঠাৎ অতি বৃষ্টির কারণে কিছুটা পানি জমলেও সঠিক সময়ে তা নিষ্কাশন হয়ে গেছে।’

জলাবদ্ধতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘প্রবর্তক মোড়ে জলাবদ্ধতা খুব বেশি হয়নি। ৬০ কিলোমিটার আয়তনের একটা সিটি করপোরেশন। প্রবর্তক মোড়ে আমরা পানির মধ্যে যতটুকু পায়ে হাঁটলাম, তা ৬০ ফুটও হবে না। সর্বোচ্চ ৩০ ফুট জায়গা; এক গোছা পানি হবে।’

‘আমরা ঢাকা থেকে যতটুকু দেখলাম, বুঝলাম, শুনলাম। প্রধানমন্ত্রী এবং আমার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, দুজন আমাকে নির্দেশনা দিয়েছেন সরেজমিনে এসে দেখার জন্য। আমি এসে দেখলাম, চট্টগ্রাম নগরী পানির ওপর ভাসছে না। চট্টগ্রাম নগরী শুষ্ক মৌসুমে যেরকম থাকে সেরকমই আছে।

‘প্রধানমন্ত্রী মহানুভবতা ও জনগণের প্রতি তার দরদ থেকে এই ছোট্ট একটি ঘটনা নিয়ে সংসদে দাঁড়িয়ে চট্টগ্রাম নগরবাসীর কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। এরপরে আমার আর কিছু বলার আছে বলে মনে করি না।’

চট্টগ্রাম নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে চলমান প্রকল্পের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা জানেন, সিটি করপোরেশনের অনেক খালের মধ্যে ৩৬টি খাল সংস্কার, পুনর্নির্মাণ, পানিপ্রবাহ ঠিক রাখার জন্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়। যেটা সংক্ষেপে সিডিএ। চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের ইঞ্জিনিয়ারিং ম্যানপাওয়ারের ঘাটতি থাকার কারণে ২০১৬ সালে প্রকল্পটি সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং কোরের মাধ্যমে কাজটি বাস্তবায়ন শুরু করে। ২০১৯ সালে সমাপ্ত না হওয়ায় বেড়ে ২০২২ সাল হয়। ২২ সালে সমাপ্ত না হওয়ায় এটি ২০২৪ করা হয়। ২৪ সালেও সমাপ্ত না হওয়ায় ২০২৬ সাল পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়েছে। সময়ে সময়ে টাকার পরিমাণও বাড়ানো হয়েছে। আমি ওই দিকে আর যাচ্ছি না। আমার কাছে যেটুকু রিপোর্ট রয়েছে ৩০টি খালের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ৫টি খালের কাজ এমন পর্যায়ে আছে সেটি খুব একটা পানিকে বিঘ্ন ঘটাবে না। আমরা যে খালের কাছে দাঁড়িয়ে আছি, এটি ৩৬টি খালের মধ্যে যে ছয়টি খাল বাকি আছে তার মধ্যে একটি, হিজড়া খাল। ’

তিনি বলেন, ‘আপনারা জানেন খাল নির্মাণ বা পুনর্নির্মাণ করার সময় যখন আপনি কনস্ট্রাকশন করবেন স্টিল স্ট্রাকচার মাধ্যমে রিটেইনিং ওয়াল ব্যারিকেড তৈরি করতে হয়। যাতে উল্টো দিক থেকে মাটি বা কাদা পানি এসে কনস্ট্রাকশন ওয়ার্ককে বাধাগ্রস্ত করতে না পারে। ঠিক এ খালটিরও মাঝখান দিয়ে ব্যারিকেড তৈরি করা হয়েছিল। ইঞ্জিনিয়ারিং কোর মনে করেছিল ১৫ মের মধ্যে তারা কাজটি সম্পন্ন করে রিটেইনিং ওয়ালটি তুলে নিয়ে খালটি সচল করবে। হঠাৎ মহান আল্লাহর সৃষ্টি বর্ষার আগে অতিবৃষ্টি হয়ে যাবে– এটি না আমরা জানতাম, না ইঞ্জিনিয়ারিং কোরের লোকজন জানতেন। এখন যেহেতু ঘটনা ঘটেছে, দুই-একদিন হয়তো এ এলাকার মানুষ একটু কষ্ট পেয়েছেন। এখন পানি নিষ্কাশন হয়েছে।

ইঞ্জিনিয়ারিং কোরের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে তারা রিটেইনিং ওয়াল যেটি দেওয়া আছে স্টিল স্ট্রাকচারের সেগুলো তুলে নিয়ে খালটি সচল করে দেবে। বর্ষা মৌসুম পার হওয়ার পরে শুষ্ক মৌসুম শুরু হওয়ার আগে তারা আবার তাদের পুরনো প্রক্রিয়ায় ফিরে গিয়ে খালটির সংস্কার বা পুনর্নির্মাণের কাজ করবে।’

পরিদর্শনকালে চট্টগ্রামের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী, সিডিএর প্রকল্প পরিচালক আহম্মদ মঈনুদ্দিন এবং সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের কর্মকর্তারা প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন।