চাঁদপুরের মতলব উত্তরে বিষধর রাসেলস ভাইপার (চন্দ্রবোড়া) সাপের আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। এবার মেঘনা নদীর পাড়ে রাসেলস ভাইপারের কামড়ে আহত হয়েছেন এক যুবক। পরে সেই সাপটিকেই পলিথিন ব্যাগে ভরে বাড়িতে রেখে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ছুটে যান তিনি।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) সকালে উপজেলার এখলাসপুর ইউনিয়নের এখলাসপুর আবাসন এলাকার মেঘনা নদীর পাড়ে এ ঘটনা ঘটে।
আহত যুবক মো. সোহেল একই এলাকার সেলিম প্রধানের ছেলে। তিনি বলেন, সকালে মেঘনা নদীর পাড়ে নতুন বাড়িতে যাওয়ার সময় একটি জালে বড় আকৃতির রাসেলস ভাইপার সাপ আটকা পড়ে থাকতে দেখেন। সাপটি ছটফট করছিল। তিনি সেটিকে জাল থেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করলে হঠাৎ সাপটি তার হাতে কামড় দেয়।
তাৎক্ষণিকভাবে তিনি সাপটিকে ধরে পলিথিন ব্যাগে ভরে বাড়িতে নিয়ে আসেন। পরে প্লাস্টিকের বৈয়মে সাপটিকে রেখে দ্রুত চাঁদপুর সদর হাসপাতালে গিয়ে ভ্যাকসিন নেন। চিকিৎসা শেষে দুপুরে বাড়ি ফিরে আসেন। বর্তমানে তিনি সুস্থ রয়েছেন বলে জানিয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কয়েক বছর ধরে মেঘনা নদীর পাড় ও নদীর পশ্চিমের চরাঞ্চল বিশেষ করে বোরচর, চর উমেদ ও এখলাসপুর এলাকায় বিষধর সাপের উপদ্রব আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। গত বছরও এখলাসপুরে নদীর পাড়ে কয়েকটি রাসেলস ভাইপার মারা হয়েছিল।
তারা অভিযোগ করে বলেন, অনেক সময় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সাপে কাটার ভ্যাকসিন না থাকায় রোগীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। এ জন্য জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে হাসপাতালে পর্যাপ্ত পরিমাণ অ্যান্টিভেনম সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, বর্ষা মৌসুম ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে নদী ও চরাঞ্চলে রাসেল ভাইপারের উপদ্রব আরও বাড়তে পারে। তাই এখনই সচেতনতা বৃদ্ধি ও স্বাস্থ্যসেবার প্রস্তুতি জোরদার না করলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
এ বিষয়ে এখলাসপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. মফিজুল ইসলাম মুন্না ঢালী বলেন, খবর পেয়েছি। সামনে বর্ষা মৌসুম, তাই কৃষক ও জেলে ভাইদের আরও বেশি সতর্ক থাকতে হবে। যদি কাউকে সাপে কামড় দেয়, তাহলে কোনো ধরনের ঝাড়ফুঁক নয়, তাৎক্ষণিকভাবে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যেতে হবে। প্রয়োজনে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করলে হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করব।
চাঁদপুর সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. এ কে এম মাহবুবুর রহমান বলেন, আমাদের হাসপাতালে পর্যাপ্ত পরিমাণ অ্যান্টিভেনম রয়েছে। একজন সাপে কাটা রোগীকে প্রথম ধাপে ১০টি অ্যান্টিভেনম দিতে হয়। প্রয়োজনে আরও ১০টি দেওয়া হয়। প্রতিটির দাম প্রায় ১ হাজার ৪০০ টাকা। আমরা বর্তমানে প্রায় ২০০টি ভ্যাকসিন সংগ্রহ করেছি।
মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, উপজেলা পরিষদ থেকে সাপে কাটা রোগীদের চিকিৎসার জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ ভ্যাকসিন কেনার লক্ষ্যে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আশা করছি, এই ভ্যাকসিন আগামী দুই বছরেও শেষ হবে না।
ইউএনও বলেন, উদ্ধার হওয়া রাসেল ভাইপার সাপটির বিষয়ে বন বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।