Image description

জুলাই-উত্তর বাংলাদেশে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের আলোচিত একটি নাম। শহীদ শরিফ ওসমান হাদির ঐতিহাসিক জানাজায় তার এই সহযোদ্ধার সাহসী বক্তব্য ও স্লোগান সবার হৃদয় ছুঁয়ে যায়। ওসমান হাদির অনুপস্থিতিতে শহীদের আদর্শিক-জনমুখী অঙ্গীকার উচ্চকিত করা সবচেয়ে বিশ্বস্ত মুখপাত্র মনে করা হয় আব্দুল্লাহ আল জাবেরকে। এশিয়া পোস্টের ‘আলাপনে’ তিনি কথা বলেছেন ওসমান হাদির দ্রোহ, ইনসাফের লড়াই, হত্যাকাণ্ড-পরবর্তী রাজনীতি, বিচারের অগ্রগতি এবং ইনকিলাব মঞ্চের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আবিদ আজম

 

এশিয়া পোস্ট: ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদির সঙ্গে আপনার পরিচয় হয় কীভাবে?

 

আব্দুল্লাহ আল জাবের: শহীদ ওসমান হাদি এবং আমার জন্মস্থান ঝালকাঠির নলছিটিতে। যত দূর মনে পড়ে তাকে আমি খুব ছোট থেকে চিনি। তখন আমি হয়তো ক্লাস টু-থ্রিতে পড়ি। শহীদ ওসমান হাদি ছোটবেলা থেকেই প্রচণ্ড প্রতিভাবান একজন ব্যক্তিত্ব ছিলেন, যে কারণে এলাকায় তার খুব নামডাক ছিল।

 

সেই সুবাদেই তাকে একটু চেনা। তার বাবা, যার নামে শহীদ ওসমান হাদি বর্তমান সময়ে পরিচিত মাওলানা আব্দুল হাদি, তিনি আমার সরাসরি শিক্ষক ছিলেন। কিন্তু করোনাকালীন সময়ে শহীদ ওসমান হাদির সঙ্গে বিপ্লবের সহযোদ্ধা হিসেবে পরিচয় হয়। করোনার সময় কোচিং সেন্টারসহ সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার কারণে আমরা ওই সময়টাতে দুজন বাড়িতে ছিলাম। তখন আমরা প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১০ ঘণ্টার মতো একসঙ্গে থাকতাম।

 

এশিয়া পোস্ট: শরীফ ওসমান হাদির দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত সহযোদ্ধা হিসেবে আপনার কাছে জিজ্ঞাসা, তিনি কেন খুনি চক্রের টার্গেটের শিকার হলেন?

 

আব্দুল্লাহ আল জাবের: বাংলাদেশে গত ১৭ বছর ধরে গুম, খুন, হত্যা, শাপলা-পিলখানার ম্যাসাকার, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের গণহত্যা, এই প্রত্যেকটা জিনিসের সঙ্গে ‘সাংস্কৃতিক আগ্রাসন’ জড়িতে। রাষ্ট্র যখন কোনো একটি ভুল কাজ করে, আমাদের বুদ্ধিজীবীদের দায়িত্ব হচ্ছে তার সেই ভুল কাজটাকে দেখিয়ে দেওয়া। কিন্তু আমাদের বুদ্ধিজীবীরা আসলে জাতির বিবেক, কিন্তু তারা অনেকটাই রাজনৈতিক দলের ‘তাত্ত্বিক দালাল’ হিসেবে পরিগণিত হয়ে আসছে।

 

গণতান্ত্রিক একটা রাষ্ট্রে যে কেউ যে কোনো রাজনৈতিক দলের সাপোর্টার হতে পারে। কিন্তু যখন তার দল কোনো ভুল করে, তখন তারা দমন-পীড়নকে ‘শৃঙ্খলা’ বলে উল্লেখ করে। আর ইনসাফের রাষ্ট্রের পক্ষে জনগণের আন্দোলনকে বলে ‘মব’। এভাবে তারা বিভিন্ন ফ্রেমিং করে জনমানুষের আকাঙ্ক্ষাকে নষ্ট করে দেওয়ার একটা প্রচেষ্টা চালায়। শহীদ ওসমান হাদি এই জায়গাগুলো ভাঙতে শুরু করেছিলেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে চেপে বসা সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে মানুষকে ধরে ধরে বোঝানো শুরু করেছিলেন।

 

একজন রিকশাওয়ালাও বুঝতে শিখেছিল, আমাদের প্রতি সাংস্কৃতিক আগ্রাসনটা কোন ওয়েতে চালানো হয়। আমরা আমাদের শত্রু চিনতে ভুল করলেও শত্রুরা আমাদের চিনতে ভুল করেনি। যে কারণে পুরো বাংলাদেশে যে দীর্ঘদিনের ফ্যাসিবাদী কাঠামো ও সাংস্কৃতিক আধিপত্যকে টিকিয়ে রাখতে শহীদ ওসমান হাদিকে তারা তাদের পথের অন্তরায় মনে করেছে। আমার কাছে মনে হয় যে, সর্বদলীয় সমঝোতার ভিত্তিতে শহীদ ওসমান হাদিকে হত্যা করা হয়েছে।

 

শুধু কোনো রাজনৈতিক দল বা মতকে প্রাধান্য না দিয়ে এখানে পুরো গোষ্ঠীকে প্রাধান্য দেওয়া উচিত। মানে কোনো না কোনোভাবে। যেমন দেখা যায়, শহীদ ওসমান হাদি যখন এই লড়াইটা করছিলেন তখন বামপাড়ার বেশকিছু লোক ডাল্টন হীরাসহ কেউ কেউ, তারা শহীদ ওসমান হাদির বাড়িঘরের ঠিকানা সব পাবলিক করে দিয়েছে এবং তাকে হত্যার ব্যাপারে মত উৎপাদন করেছে।

 

সেই মত উৎপাদনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক দল বা অন্যান্য যারা আছে, তাদের বেশকিছু সহযোগিতা ছিল। সুতরাং এটাকে কোনোভাবেই আপনি সর্বদলীয় সমঝোতার বাইরে ভাবার কোনো সুযোগ নেই। দেশের বিরুদ্ধে যে অপশক্তি তাদের আসলে মনে হয়েছে, শহীদ ওসমান হাদি আগামীর বাংলাদেশের যেভাবে স্বপ্নের সামনে এগিয়ে যাচ্ছে, তাকে যদি থামিয়ে না দেওয়া যায়, তাহলে তাদের অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যাওয়ার একটা সম্ভাবনা রয়েছে। সে জায়গা থেকেই মূলত শহীদ ওসমান হাদিকে হত্যা করা হয় বলে আমার ধারণা।

 

এশিয়া পোস্ট: হাদি হত্যাকাণ্ডের পর আপনারা বিচারের দাবিতে নানান আলটিমেটাম দিয়েছেন। সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় আপনারা বিজয়ী নাকি পরাজিত হয়েছেন?

 

আব্দুল্লাহ আল জাবের: প্রথমত বলব, আমাদের লড়াই-সংগ্রামটাকে শুধু জয়-পরাজয়ের হিসেবে দেখা হলে এর কোনো উত্তর নেই। কারণ, আমরা আমাদের দাবিটা ছেড়ে আসিনি, লড়াই করে যাচ্ছি। বিষয়টিরও সমাধান হয়নি। মানে একটা জিনিসের জয়-পরাজয় তখন নির্ধারিত হয় যখন সেটা শেষ হয়ে যায়।

 

যদি শহীদ ওসমান হাদির হত্যার বিচার না হয়, এই পরাজয়টা শুধু ইনকিলাব মঞ্চের জন্য পরাজয় না, এই পরাজয় হবে পুরো বাংলাদেশের মানুষের। কারণ, বাংলাদেশের মানুষের কণ্ঠস্বর হয়ে উঠেছিলেন শহীদ শরিফ ওসমান হাদি।

 

যার কথায় গণমানুষ দেশ নিয়ে নতুন করে ভাবতে শিখেছিল। আধিপত্যবাদবিরোধী লড়াইয়ে তার নতুন নতুন বয়ান আর শব্দগুলোর মধ্য দিয়ে তিনি মানুষের কাছে পরিচিত হয়ে উঠছিলেন। সাহসিকতা আর সততার মধ্য দিয়ে তিনি নিজেকে দৃষ্টান্ত হিসেবে হাজির করেছিলেন।

 

পুরো বিষয়টিকে যদি আমরা একটা ফ্রেমের মধ্যে নিয়ে আসি, তাহলে আমার কাছে মনে হয় যে শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচারটা যদি না হয়, তাহলে বাংলাদেশ পরাজিত হবে। তাই বাংলাদেশকে জয়ী করাটা আমাদের কর্তব্য। যতদিন পর্যন্ত আমাদের দেহে প্রাণ আছে, ততদিন পর্যন্ত আমাদের এ লড়াইটা করতে হবে। জীবনের একদম শেষ অধ্যায়ে এসে ওসমান হাদি একটা কথা বলেছেন যে, বিচারটুকু অন্তত কইরেন।

 

সুতরাং তার এই অসিয়ত পূর্ণ করা আমাদের দায়িত্ব। আমরা মনে করি, আজ হোক কাল হোক শহীদ ওসমান হাদির এই হত্যার পেছনে কারা কারা রয়েছে, কারা শহীদ ওসমান হাদির এই লড়াইকে তাদের জন্য বাধা মনে করেছে। এটা যতদিন পর্যন্ত বাংলাদেশে উদ্ঘাটিত না হবে ততদিন পর্যন্ত শহীদ ওসমান হাদির বিচারের দাবিতে যে লড়াই—সেটা চলমান থাকবে।

 

এশিয়া পোস্ট: বহুল আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি ফয়সাল কার মাধ্যমে ইনকিলাব সেন্টারে এসে ওসমান হাদির ঘনিষ্ঠ হয়? এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আপনাদের নাম জড়ানো হচ্ছে কেন?

 

আব্দুল্লাহ আল জাবের: প্রথমত, ইনকিলাব কালচারাল সেন্টার একটা পাবলিক প্রতিষ্ঠান, যেখানে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকে। ফয়সাল করিম প্রথম চার ডিসেম্বর ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারে আসে। ওই দিন আমি না থাকার কারণে তার সঙ্গে আমার দেখা হয়নি, কিন্তু পাঁচ তারিখে দুদকের সামনে তার সঙ্গে সর্বপ্রথম আমার দেখা হয়। সেখানে হাদি ভাইয়ের ইলেকশন ক্যাম্পেইনে ক্রাউড ফান্ডিংয়ে অংশ নিয়ে আমার হাতে জোরাজুরি করে ৩ হাজার টাকা তুলে দেন। অনেকেই তখন আমাদের ক্যাম্পেইন এগিয়ে নিতে ক্রাউড ফান্ডিং করেছেন।

 

সেদিন আমাদের দুদকের সামনে পৌঁছাতে একটু লেট হয়। ওখানে গিয়ে আমি শহীদ ওসমান হাদির পাশে তাকে দাঁড়ানো দেখতে পাই। আমাদের এক ছোট ভাইয়ের কিছুটা সন্দেহ লেগেছে। সে আমাকে জানায়, কানে দুল পরা একটু উদ্ভট টাইপ বডি মুভমেন্ট লোকটা আপনাদের সঙ্গে কীভাবে যুক্ত? আমি বললাম, তাকে চিনি না। সে নিজেকে মূলত ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয় দিয়েছে।

 

পরবর্তীতে আলমগীর এবং ফয়সালের ফেসবুক আইডিতে দাড়িওয়ালা আরও একজন লোককে দেখতে পাই। যাকে আমরা প্রায় দুই-তিন মাস আগে সেন্টারে দেখেছি। লোকটা সম্ভবত নতুন বেশভূষা ধারণ করে ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারকে অবজারভেশনে রেখেছে। যখন ওরা দেখল যে, এখানে আসতে হলে কারও মাধ্যম ধরে আসতে হয় না, যে কেউ যে কোনো সময় আসতে পারে। আর শহীদ ওসমান হাদি যে আসে তার সঙ্গেই আলাপ করে এবং সে অত্যন্ত বিনয়ী লোক, এই জায়গাগুলোকে ওরা দুর্বলতা হিসেবে কাউন্ট করে। এরপর হচ্ছে ফয়সাল করিম মাসুদ এখানে এন্ট্রি নেয়। শহীদ ওসমান হাদির সঙ্গে তাদের কেউ পরিচয় করিয়ে দিয়ে থাকলে সেটা বের করার কাজ আমাদের না, এটা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাজ।

 

আর বিশ্বসাহিত্যকেন্দ্রে, বেঙ্গল সেন্টারে বা ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারে যেতেও কারও অনুমতির প্রয়োজন হয় না। আমার কাছে মনে হয় তারা শহীদ ওসমান হাদির বিচার কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করার জন্যই মূলত এ ধরনের প্রশ্নগুলো তোলে। ভারতে গ্রেপ্তার হওয়া মাসুদ ও আলমগীরকে দেশে এনে বিচারের মুখোমুখি করার ব্যাপারে এই সরকারের আরও ত্বরিত গতিতে পদক্ষেপ নেওয়া দরকার।

 

আমাদের মনে হয়েছে, সরকারের এ বিষয়ে যথেষ্ট সদিচ্ছার অভাব রয়েছে। আর সবসময় একটা খুব কমন সিনারিও বাংলাদেশের সেটা হচ্ছে, এখানে অন্যায়, অপরাধ, গুম-খুন করে ভারতে আশ্রয় গ্রহণ করবে। তাহলে এই যে আন্তর্জাতিক বন্দি বিনিময় চুক্তিটা রয়েছে এটার আসলে সার্থকতা কী? শহীদ ওসমান হাদি বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের জন্য জীবন দিয়েছেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন রাখার জন্য আমাদের যদি জীবনও দিতে হয়, আমরা সে জীবন দেওয়ার জন্য প্রস্তুত রয়েছি। কিন্তু সেই জীবন তো আমরা হেলায়-ফেলায় দেব না। সে জীবন তখনই দেব যখন সেটা বাংলাদেশের জন্য কাজে আসবে। সুতরাং আমরা আহ্বান জানাই অতি দ্রুত শহীদ ওসমান হাদির খুনিদের দেশে ফিরিয়ে এনে ঘটনার পেছনে কারা কারা রয়েছে তাদের বিচারের মুখোমুখি করা হোক। এর বাইরে সরকারের সঙ্গে আমাদের কোনো নেগোসিয়েশন হবে না।

 

এখন নতুন করে একটা শ্রেণি শহীদ ওসমান হাদির ছবি প্রোফাইলে দিয়ে তাকেই গালিগালাজ করছে, নারীদের বুলিংসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড করছে। আর যারা যারা ওসমান হাদির হত্যার বিচারের জন্য বয়ান জারি রাখছে, তাদের বয়ান বন্ধ করে দেওয়ার জন্য মূলত তারা খুনের দায় চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। যারা কোনো ধরনের তদন্ত ছাড়াই এ ধরনের আলাপগুলো জুড়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে, কোনো না কোনোভাবে তাদের দলের কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা আছে কি না, বা পেছন থেকে ঘটনার কলকাঠি নাড়ছে কি না এটাও একটু ভেবে দেখার বিষয়।

 

এশিয়া পোস্ট: হাদি হত্যাকাণ্ডের পর তার পরিবার রাষ্ট্রযন্ত্রের চাকরিসহ নানা সুবিধা পেয়েছেন বলে জানা গেছে। আপনি বা ইনকিলাব মঞ্চ কী পেয়েছেন?

 

আব্দুল্লাহ আল জাবের: খুব স্বাভাবিকভাবেই শহীদ ওসমান হাদির যিনি মা, তিনি তার সন্তান হারিয়েছেন। আবার শহীদ ওসমান হাদির সন্তান ফিরনাস, সে তার বাবা হারিয়েছে। শহীদ ওসমান হাদির স্ত্রী তার স্বামী হারিয়েছে, পুরো একটি পরিবার তাদের অভিভাবক হারিয়েছে। সুতরাং একটা অভিভাবকহীন পরিবারের পাশে রাষ্ট্র যদি দাঁড়ায় এটাকে আমি খুব বাজেভাবে দেখি না। শুধু শহীদ ওসমান হাদি নয়, রাষ্ট্রের দায়িত্বহীনতার কারণে দেশের যেসব উজ্জ্বল মুখগুলো ঝরে যায়, তাদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানো তো রাষ্ট্রের দায়িত্ব। শহীদ ওসমান হাদি কি কোনো দিন তার জীবদ্দশায় বলছে যে, আমার পরিবারকে এটা দেন বা আমাকে এটা দেন।

 

আর ইনকিলাব মঞ্চ বা ইনকিলাব কালচারাল সেন্টার কি পেয়েছে? ইনকিলাব মঞ্চ বা ইনকিলাব কালচারাল সেন্টার পেয়েছে মানুষের ভালোবাসা। যেটা আগেও পেয়েছে এবং সেটা হয়তো সহস্রগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। শহীদ ওসমান হাদি তার একটা সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, একজন বাড়ি থেকে হাদি ভাইয়ের জন্য দুই লিটার দুধ নিয়ে আসছেন।

 

মানে এই ভালোবাসাটা কোনো ফ্রেমে ব্যাখ্যা করা যায় না। আবার শহীদ ওসমান হাদির শাহাদাতের পর যারাই তার কবর জিয়ারত করতে যায়, তাদের কাছ থেকে রিকশাওয়ালা ভাড়া নিচ্ছে না। বলে ‘আমাগো হাদি এই জায়গায় শুয়ে রয়েছে, আমরা টাকা নেব না।’

 

মানুষজন এখনও আমাদের জড়িয়ে ধরে যে কাঁদে, তাদের হয়ে কথা বলার মতো একজন মানুষ ছিলেন, যে মানুষটাকে তারা হারিয়ে ফেলেছেন। সে জায়গা থেকে আসলে ইনকিলাব মঞ্চকে আপনি কখনোই টাকার অঙ্ক দিয়ে পরিমাপ করতে পারবেন না।

 

এশিয়া পোস্ট: শহীদ হাদির মেজ ভাই ওমর বিন হাদিকে যুক্তরাজ্যের বার্মিংহামে বাংলাদেশের হাইকমিশনে রাষ্ট্রের দেওয়া চাকরি নিয়ে বিতর্ক উঠেছে। তিনি ইনকিলাব মঞ্চের ভাই-বোনদের ব্যাপারে ‘অপ্রিয় সত্য’ বলবেন বলে ফেসবুক পোস্টে জানিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে আপনারা চিন্তিত কি না?

 

আব্দুল্লাহ আল জাবের: শহীদ ওসমান হাদির ভাই ওমর ভাইকে সরাসরি প্রশ্ন করেছি যে, আপনি বার্মিংহামে গিয়ে সেকেন্ড সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, যার কারণে আমরা আসলে বিভিন্ন প্রশ্নের সম্মুখীন হচ্ছি। আপনার কারণে ইনকিলাব মঞ্চ ও কালচারাল সেন্টার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। উনি আমাদের বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকার তাকে উপদেষ্টা বানাতে চেয়েছেন। ঢাকা-৮ এ তাকে দিয়ে ইলেকশন করাতে চেয়েছেন। এ ধরনের বিভিন্ন অফার তাকে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এর মধ্যে তিনি নিজের নিরাপত্তার জন্য এই ছোট্ট অফারটি বেছে নিয়েছেন।

 

তার বিদেশ যাওয়ার ক্ষেত্রে ক্লিয়ারেন্সটা বিএনপি সরকার এসে দিয়েছে। শহীদ ওসমান হাদির পরিবারকে সাহায্য-সহযোগিতার পূর্বেই ওমর ভাইকে সেটেল করে দেওয়ার বিষয়ে আমাদের নানা প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে। ওমর ভাই সবসময় বলার চেষ্টা করেন, তাকে হত্যা করা হতে পারে। নিরাপত্তার ঘাটতি রয়েছে।

 

ঝালকাঠিতে আমার বিয়ের অনুষ্ঠানের ঠিক পরদিনই শহীদ ওসমান হাদির ছোটবোন আমার বাসায় এসেছিলেন। হাদি ভাইয়ের কবিতার বই কেন ছাপিয়েছি সে ব্যাপারে জেরা করা শুরু করলেন। ওমর ভাই কিছুদিন আগে একটি পোস্ট দিলেন যে, তিনি কিছু অপ্রিয় কথা বলবেন। সে কথাগুলো আমি জানি— আসলে উনি কোন ব্যাপারগুলো বলবেন। উনি এগুলো যদি বলেন, তাহলে ইনকিলাব মঞ্চকে আল্লাহ আরও ১০ কদম সামনে এগিয়ে নিয়ে যাবেন ইনশাআল্লাহ। মানে আরও বেশকিছু বিষয়ে পরিষ্কার হওয়া যাবে। শহীদ ওসমান হাদির গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর থেকে শাহাদাত পর্যন্ত বা শাহাদাত-পরবর্তী সময়ে এমন একটা সিচুয়েশন ক্রিয়েট হয় যে, শহীদ ওসমান হাদির মরদেহ দেখার জন্য আমাকে লাইনে দাঁড়াতে হয়। মানে পুরো ব্যাপারটাই তাদের পরিবারের অধীনে ছিল এবং তার ভাই মূলত এই পুরো ব্যাপারটা দেখভাল করেছেন।

 

সবচেয়ে দুঃখের বিষয় হলো, আমরা যখন শাহবাগ আন্দোলন করছিলাম তখন আমাদের কাছে এমন এমন নিউজ আসছিল যে, আমরা এখানে আন্দোলন করতেছি আর আমাদের নিয়ে দেন-দরবার চলছে। মানে এ রকম ব্যাপার যেটা সেটা হচ্ছে, কেউ বলছেন তাকে যদি লন্ডনে পাঠানো না হয় তাহলে আন্দোলনটা আরও দীর্ঘমেয়াদি হবে। আমরা যে আন্দোলন করছি, ইনকিলাব মঞ্চের সঙ্গে তো লন্ডনযাত্রার কোনো সম্পর্ক নেই।

 

আপনি ভাবেন যে, যখন আপনি একজন মানুষের জন্য লড়াই করতেছেন তখন তার সব থেকে নিকটতম লোকজন যদি এ ধরনের কার্যক্রমে ব্যস্ত হয়ে যায়, তখন আপনি তো মানসিকভাবে ভেঙে পড়বেন। যে কারণে দেখবেন যে আমাদের পুরো লড়াইটাতে খুবই ছন্দপতন ছিল। যেমন—আমি আন্দোলনে ডাক দিচ্ছি আর এদিকে ধরেন আমার বিরুদ্ধে বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে প্রোপাগান্ডা চালানো হচ্ছে যে, ও কারও কথা শুনছে না। বলা হচ্ছে, আমরা বলতেছি আন্দোলন বন্ধ করতে, কিন্তু জাবের আন্দোলন বন্ধ করছে না।

 

শহীদ ওসমান হাদি গত দেড় বছরের লড়াইয়ে সবচেয়ে কাউকে বেশি প্রায়োরিটি দিয়ে বা ভালোবেসে একসঙ্গে রাখেন সেটা নিঃসন্দেহে আমি। ফলে শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত না করা পর্যন্ত আমি আসলে এখান থেকে সরব না। পুরো বাংলাদেশে আমার সঙ্গে যদি একজন লোকও না থাকে, আমি একা হলেও এ লড়াইটা এগিয়ে নিতে চাই। কারণ, শহীদ ওসমান হাদির শাহাদাতের মধ্য দিয়ে আসলে আমাদের ব্যক্তিগত জীবনের যে আনন্দ সেগুলো নষ্ট হয়ে গেছে। আমার কাছে মাঝে মাঝে মনে হয়, আমার পরিবারের কেউ বা আমার ছোট ভাই মারা গেলেও হয়তো এত শূন্যতা আমাকে গ্রাস করত না।

এশিয়া পোস্ট: ইনকিলাব মঞ্চের ব্যাপারে অভিযোগ, সংগঠনটি এখন ওসমান হাদির নামে ব্যবসা করছে। কারা এই অভিযোগ করছেন এবং কেন করছেন?

 

আব্দুল্লাহ আল জাবের: আমাদের প্রত্যেককে লড়াইটা করতে হবে শহীদ ওসমান হাদিকে সামনে রেখে, কিন্তু শহীদ ওসমান হাদিকে বিক্রি করে না। আমাদের হাদি ব্যবসায়ী বলা হয়, তাতে আমরা ভীষণভাবে গর্বিত যে অন্তত এমন একটা ব্যবসা করছি আমরা, যে ব্যবসার সঙ্গে বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব জড়িত।

 

আমরা এমন একটি ব্যবসা করছি যে ব্যবসার সঙ্গে দেশের মানুষের গুম-খুন-নির্যাতন থেকে মানুষকে বাঁচানোর যে প্রয়াস সেটা জড়িত। আমরা এমন একটা ব্যবসা করছি, যেই ব্যবসাটায় যাতে সীমান্তের কাঁটাতারে আর কোনো ফেলানির লাশ ঝুলে না থাকে। সেই একটা প্রচেষ্টা চলমান।

 

আমরা এমন একটা ব্যবসা করতেছি যে, ব্যবসার মধ্য দিয়ে শহীদ ওসমান হাদির ইনসাফের লড়াইটা আরও দুজন মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছি। সুতরাং এই ব্যবসাটা আমরা দীর্ঘ সময় ধরে করতে চাই। আমরা মনে করি বাংলাদেশে যারা বাংলাদেশপন্থি মানুষ, যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব সবসময় অক্ষুণ্ন রাখতে চায়, বাংলাদেশকে যারা পৃথিবীর বুকে মাথা উঁচু করে বাঁচিয়ে রাখতে চায়, সেই মানুষগুলোর হাদি ব্যবসায়ী হওয়া উচিত। বাংলাদেশকে অউন করতে হলে শহীদ ওসমান হাদিকে অউন করতে হবে। সুতরাং বাংলাদেশপন্থি সবার এই ব্যবসাটা করা উচিত।

 

এশিয়া পোস্ট: হাদি হত্যার বিচারের দাবির আন্দোলনে আপনাদের ওপর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হামলার সময় কিছু পুলিশ সদস্য মাস্ক পরে ও নেমপ্লেট খুলে রেখেছিল বলে আপনাদের অভিযোগ। এর ব্যাখা কী?

 

আব্দুল্লাহ আল জাবের: অভিযোগ শুধু না এটা প্রমাণিত। আপনার বিভিন্ন ফুটেজের ভিতরে দেখবেন, তাদেরকে মাস্ক পরা অবস্থায় রয়েছে এবং তাদের কোনো নেম প্লেট নেই। শুধু এটুকু হলেও মানা যেত। তারা স্পষ্ট করে বলছিল, আয় হাদির লাশ নিয়ে যা এবং যারা বাসে উঠেছিল, তাদের নামিয়ে বলছিল যে রাজাকারগুলারে নামা। তারা মসজিদের ভিতরে বুট-জুতা পরে ঢুকে মানুষকে মারছিল। মনে হচ্ছিল, হাদির প্রতি তাদের জনম জনমের কোনো একটা আক্রোশ আছে। সেটার একটু তারা বহিঃপ্রকাশ করার সুযোগ পেয়ে ৬ ডিসেম্বর প্রকাশ ঘটিয়েছে। আমরা সরকারের কাছে আহ্বান জানিয়েছিলাম, তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথভাবে তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা হোক। কিন্তু আইন যারা পরিচালনা করে, আইনের যারা পথপ্রদর্শক তারাই যদি এর পেছনে থাকে তাহলে আইন আসলে কোন দিকে যাবে? যে ছেলেটা বলে ‘আয় হাদির লাশ নিয়ে যা’ তাকে পরবর্তীতে মাত্র অল্প কিছুদিন আগে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের গেটে ডিউটি পালন করতে দেখা গেছে।

 

গোয়েন্দা সংস্থাগুলো যদি চায় শহীদ ওসমান হাদির হত্যার পিছনে কারা রয়েছে, কারা তাদের এখন পর্যন্ত লালনপালন করছে এবং কারা শহীদ ওসমান হাদির এ হত্যার পরিকল্পনা করেছে—সবকিছুই উদ্ঘাটন করতে পারে। সদিচ্ছা থাকলে এটা বাস্তবায়ন করা সম্ভব।

 

এশিয়া পোস্ট: ওসমান হাদির অনুপস্থিতিতে ঢাকা-৮ আসনে ইনকিলাবের পক্ষে প্রার্থী দেওয়ার দাবি ওঠে। বিষয়টি বাস্তবায়ন করা হয়নি কেন?

 

আব্দুল্লাহ আল জাবের: প্রথমত, শহীদ ওসমান হাদির শাহাদাতের পর তার পরিবারই মূলত এখানে ইলেকশন করার ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। তার বোন মাসুমা হাদি এবং ভাই ওমর হাদি আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। পরিবারের পক্ষ থেকে তারা চাননি যে, ইনকিলাব মঞ্চের কেউ এখানে অংশগ্রহণ করুক। আমাদের স্পষ্ট বলা হয়েছে, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকে জানানো হয়েছে, শহীদ ওসমান হাদির রক্তের বাইরে অন্যরা এই লড়াইটা কেউ বুঝবে না।

 

আর আমাদের ইনকিলাব মঞ্চের ভাই-বোনের কাছে মনে হয়েছে, শহীদ ওসমান হাদির বিচারের দাবিতে রাজপথে থাকাটাই আমাদের জন্য বর্তমান সময়ে সবচেয়ে বেশি কল্যাণকর। তবে আমরা তার পরিবারকে জানিয়েছি, পরিবারের পক্ষে কেউ নির্বাচন করতে চাইলে আমরা সর্বোচ্চ সহায়তা করব।

 

ওমর বিন হাদি আমাদের স্পষ্ট করে বলেছেন, তিনি নির্বাচনের বিষয়টি ডিল করবেন। উনি যদি এখন বলার চেষ্টা করেন যে, ইনকিলাব মঞ্চ তাকে পূর্ণ সহযোগিতা করেনি, তাহলে আমি বলব মূলত ওমর ভাই, তার বোন মাসুমা হাদিকে নির্বাচন থেকে দূরে রেখেছিলেন। এখানে ইনকিলাব মঞ্চের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

 

এশিয়া পোস্ট: জুলাই সনদের গণভোট, গুম প্রতিরোধ ও বিচার ব্যবস্থা সংস্কারসহ বেশকিছু অধ্যাদেশ আইনে রূপান্তর না হওয়ায় জনঅসন্তোষ বাড়ার সম্ভাবনা আছে কি না?

 

আব্দুল্লাহ আল জাবের: বাংলাদেশের মানুষ বিশ্বাসঘাতককে বেশিদিন আসলে গ্রহণ করে রাখে না। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ দিতে তারেক রহমান নিজে সবাইকে অনুরোধ করেছে, যাতে তারা সবাই হ্যাঁ-এর পক্ষে ভোট দেয়। এই গণভোট অধ্যাদেশ যখন বাতিল করার কথা শোনা গেছে, তখন পুরো বাংলাদেশের মানুষের কাছে মনে হয়েছে, বিএনপি মূলত ছলচাতুরি করে ক্ষমতায় এসেছে। তো আমরা আসলে বিএনপিকে সে জায়গায় দেখতে চাই না।

 

এ ক্ষেত্রে আমার মনে হয়েছে, তারা মূলত শুধু জনগণের সঙ্গে ঘৃণ্য রাজনীতি করছেন। এটা তাদের ভাবার কোনো সুযোগ নেই—বাংলাদেশের জনগণ ১৪৪ ধারা কেন ২৪৪ ধারা ভেঙে আবার রাজপথে নেমে আসবে। যদি জনগণের অধিকারকে হরণ করা হয় এবং এই ১৬টি অধ্যাদেশ বর্তমান সময়ে বাতিল করা হয়েছে। এই প্রত্যেকটিই হচ্ছে জনসম্পৃক্ত বিষয়। সুতরাং জনগণকে বাদ দিয়ে যদি কেউ রাষ্ট্র পরিচালনা করতে চায়, হাসিনার মতো এখন পর্যন্ত কেউ শক্তিশালী এই রাষ্ট্রে হয়ে ওঠেনি। তাকেই দিল্লিতে পালাতে হয়েছে। তাদের আসলে রোডম্যাপ আগেই ঠিক করে ফেলা উচিত যে, তারা কোন দিকে যাবেন।

 

এশিয়া পোস্ট: শহীদ হাদির অনুপস্থিতিতে ইনকিলাব মঞ্চের ভবিষ্যৎ আপনাদের দূরদর্শিতা ও নেতৃত্বগুণের ওপর নির্ভর করছে। সংগঠনকে এগিয়ে নিতে কী কী পদক্ষেপ নিচ্ছেন?

 

আব্দুল্লাহ আল জাবের: নানা কারণে আমার কাছে মনে হয় যে, ইনকিলাব মঞ্চকে আল্লাহ সম্ভবত কবুল করেছেন। ইনকিলাবের এই লড়াই থামানো যাবে না। শহীদ ওসমান হাদির হাত ধরে যে ইনকিলাবের যাত্রা শুরু, সেই সংগঠন বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক বিপ্লবের নেতৃত্ব দেবে ইনশাআল্লাহ। আর আমরা যত ওপরের দিকে উঠি আমরা অত শাহাদাতের কাছাকাছি পৌঁছে যাই। যে কারণে এখানে পদ-পদবি নিয়ে লড়াই কম হয়তো।

 

শহীদ ওসমান হাদির অভাব তো আসলে আমরা পূরণ করতে পারব না। তবে শহীদ ওসমান হাদিকে বাঁচিয়ে রাখতে যে কাজগুলো করা দরকার সেগুলো আমরা করার চেষ্টা করছি। আমরা অলরেডি শহীদ ওসমান হাদিকে কেন্দ্র করে ১০টি বইয়ের কাজ করছি। তাকে কেন্দ্র করে আমরা ফেলোশিপ দেওয়ার চিন্তাভাবনা করছি, শিশু ও তরুণদের জন্য। বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক লড়াইকে কেন্দ্র করে আমরা বেশকিছু প্রকাশনার কাজ করছি। এখন এই উদ্যোগগুলো বাস্তবায়ন করতে হয়তো আমাদের সময় লেগে যাচ্ছে।

 

শহীদ ওসমান হাদি আগামীর বাংলাদেশে হাজার বছরের জন্য প্রাসঙ্গিক। সুতরাং যারা পাঁচ বা ১০ বছর ক্ষমতায় থেকে শহীদ ওসমান হাদিকে নাই করে দেওয়ার যে বিভিন্ন ধরনের ফেসবুকে প্রোপাগান্ডা চালাচ্ছেন, এক দিন হয়তো বুঝবেন শহীদ ওসমান হাদি কে ছিলেন বা তার উদ্দেশ্য কি ছিল। সেই দিন হয়তো আফসোস করবেন, কিন্তু যে ক্ষতিটুকু করছেন সেটুকু হয়তো পোষানোর আপনার সুযোগ থাকবে না। ইনকিলাব মঞ্চ জাবের, জুমা বা শহীদ ওসমান হাদির পারিবারিক প্রতিষ্ঠান নয়। এই প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ যতদিন পর্যন্ত থাকবে, ততদিন পর্যন্ত বাংলাদেশের পক্ষে কাজ করবে ইনশাআল্লাহ।