বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নেতৃত্বে পরিবর্তন এলেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) দাপ্তরিক নথিতে এখনো বিষয়টির প্রতিফলন দেখা যায়নি। গত ৭ এপ্রিল বিসিবির পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়ে তামিম ইকবালের নেতৃত্বে ১১ সদস্যের একটি অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়। তবে আইসিসির ওয়েবসাইটে এখনো বোর্ড প্রতিনিধি হিসেবে সাবেক সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নামই রয়েছে।
জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) পুরোনো বোর্ড বাতিল করার পর বর্তমান অ্যাডহক কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তামিম। সাম্প্রতিক এক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আইসিসি ও এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (এসিসি) সভায় বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার কথা তারই।
সাধারণত পূর্ণ সদস্য দেশগুলোর ক্রিকেট বোর্ড প্রধানরাই আইসিসির বোর্ডে প্রতিনিধিত্ব করেন। কিন্তু বিসিবির নেতৃত্বে পরিবর্তন হলেও আইসিসির তালিকায় এখনো সেই হালনাগাদ হয়নি। সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, কোনো দেশের বোর্ড প্রধান বদল হলে আইসিসিকে জানানো হয় এবং পরে তাদের ওয়েবসাইটে তথ্য সংশোধন করা হয়; যা এখনো সম্পন্ন হয়নি।
এই ধরনের বিলম্ব শুধু বিসিবির ক্ষেত্রেই নয়। বোর্ড অব কন্ট্রোল ফর ক্রিকেট ইন ইন্ডিয়ার (বিসিসিআই) নেতৃত্বে পরিবর্তন এলেও আইসিসির ওয়েবসাইটে তা আপডেট করা হয়নি। বর্তমানে মিঠুন মানহাস বিসিসিআইয়ের সভাপতি হলেও তালিকায় এখনো দেবজিত সাইকিয়া ও রজার বিনির নাম রয়েছে। তবে আইসিসির চেয়ারম্যান জয় শাহ, প্রধান নির্বাহী সংযোগ গুপ্তা এবং ডেপুটি চেয়ারম্যান ইমরান খাজার নাম ঠিকই উল্লেখ আছে।
অস্ট্রেলিয়া, শ্রীলঙ্কা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও জিম্বাবুয়ের মতো দেশগুলোর ক্ষেত্রে আইসিসির ওয়েবসাইটে দুজন করে প্রতিনিধির নাম রয়েছে। শ্রীলঙ্কার প্রতিনিধিত্বে এখনো শাম্মি সিলভা ও বান্দুলা দিসানায়েকের নাম দেখা যাচ্ছে, যদিও দেশটির অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি বেশ জটিল।
দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগে সম্প্রতি ক্রিকেট নির্বাহী কমিটিকে সরে দাঁড়াতে বলেছে শ্রীলঙ্কার সরকার। ফলে নতুন প্রশাসন গঠন নিয়ে আইসিসি ও শ্রীলঙ্কা সরকারের মধ্যে টানাপোড়েন তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে। এর আগে সরকারি হস্তক্ষেপের কারণে শ্রীলঙ্কাকে নিষিদ্ধ করেছিল আইসিসি। এবারও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হলে নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আসে কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।