বাংলাদেশের মানুষ ক্ষমতাকে যেমন ভীষণভাবে ভয় পায়, ঠিক তেমনি অবচেতনভাবে ক্ষমতাকে পছন্দও করে এবং ক্ষমতার অংশ হতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন নারী সংরক্ষিত আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী প্রকৌশলী মারদিয়া মমতাজ।
সম্প্রতি এশিয়া পোস্টের ধারাবাহিক অনুষ্ঠান আলাপনে এসব কথা বলেন তিনি।
মারদিয়া মমতাজ বলেন, এ দেশের মানুষের চরিত্রে ক্ষমতাকে কেন্দ্র করে এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক জটিলতা কাজ করে। ক্ষমতার দাপট এ দেশে সাধারণ মানুষের মনে এক ধরনের ভয় ও সব মেনে নেওয়ার মানসিকতা তৈরি করে।
তিনি বলেন, যখন কোনো নির্দিষ্ট দল বা গোষ্ঠী ক্ষমতার শীর্ষে থাকে, মানুষ তখন তাদের যাবতীয় অন্যায় ও জুলুমকেও মুখ বুজে সহ্য করে নেয় কেবল এই ভয়ের কারণে। এই ভয়টা এতটাই প্রকট যে, মানুষ নিজের যৌক্তিক ও মৌলিক অধিকারের কথা বলতেও সাহস পায় না।
জামায়াতের মনোনীত এ প্রার্থী বলেন, ৫ আগস্টের আগের বছরগুলোতে ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে রাখা হয়েছিল। এমনকি ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার ক্ষেত্রেও সাধারণ মানুষের মধ্যে এই ভয় কাজ করত যে, কেন্দ্রে গেলে হয়তো তারা বড় কোনো বিপদের শিকার হবেন। অন্যদিকে, মানুষ যখন নিজে সুযোগ পায় বা ক্ষমতার কাছাকাছি যাওয়ার কোনো পথ খুঁজে পায়, তখন সে নিজেই ক্ষমতার দাপট দেখাতে ও এর অপব্যবহার করতে পছন্দ করে। এই ‘ক্ষমতাপ্রীতি মানুষের মধ্যে এক ধরনের দাসসুলভ মানসিকতা তৈরি করে। মানুষ চায় কোনো শক্তিশালী পক্ষের আশ্রয়ে থাকতে, যাতে সে নিজে নিরাপদ থাকে এবং প্রয়োজনে অন্যদের ওপর প্রভাব বিস্তার করতে পারে।
মারদিয়া মমতাজ বলেন, এই মানসিকতার কারণেই বাংলাদেশে একনায়কতান্ত্রিক ও দমনমূলক শাসনব্যবস্থা বারবার ফিরে আসে। জনগণ যদি কেবল ক্ষমতার ভয়ে তটস্থ থাকে এবং ক্ষমতার মোহে অন্ধ হয়ে থাকে, তবে প্রকৃত গণতন্ত্র কখনোই প্রতিষ্ঠিত হবে না। ক্ষমতাকে অন্ধভাবে ভয় পাওয়ার বদলে রাষ্ট্র ও প্রশাসনকে প্রশ্ন করার সাহস অর্জন করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্র যখন জনগণকে সেবা দেওয়ার বদলে ভয় দেখাতে শুরু করে, তখন বুঝতে হবে রাষ্ট্রের কোথাও গুরুতর ত্রুটি আছে। যতক্ষণ না এ দেশের সাধারণ মানুষ ক্ষমতার প্রতি এই ভক্তি ও ভয়ের দ্বৈত মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে পারবে, ততক্ষণ পর্যন্ত রাজনৈতিক দলগুলো মানুষকে শোষণ করার সুযোগ পেতে থাকবে। প্রকৃত মুক্তি তখনই আসবে যখন মানুষ কোনো ব্যক্তিকে নয়, বরং আইনের শাসন ও নৈতিকতাকে শ্রদ্ধা করতে শিখবে।