জামালপুরে ডিজেল সংকটে জমিতে সেচ দিতে না পারায় ব্যাহত হচ্ছে বোরো আবাদসহ বিভিন্ন চাষাবাদ। পাম্পগুলোতে ভিড় করেও মিলছে না কাক্সিক্ষত ডিজেল। স্থানীয় বাজারে ডিজেল মিললেও গুনতে হয় বাড়তি দাম। ফলে ডিজেলচালিত সেচপাম্পগুলো বন্ধ করে দিতে বাধ্য হচ্ছেন কৃষক। পানির অভাবে ফেটে চৌচির ফসলি জমি। অনেকে জমি তৈরি করলেও পানির জন্য বুনতে পারেননি ফসল। জেলা প্রশাসন বলছে, পর্যাপ্ত ডিজেল সরবরাহ রয়েছে এবং কৃষককে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ডিজেল দেওয়া হচ্ছে। সরকার নির্ধারিত দামের চাইতে কেউ বাড়তি টাকা নিলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তেলের পাম্পে বৃদ্ধ থেকে শুরু করে নারী, পুরুষ, শিশুর দীর্ঘ লাইন আর প্রচণ্ড হুড়োহুড়ি। সবার হাতেই ড্রাম, বোতল আর গ্যালন। লক্ষ্য একটাই-ডিজেল।
সেচপাম্প চালু রাখতে কাক্সিক্ষত ডিজেল না পেয়ে পরিবারের সবাই ভিড় করছে তেলের পাম্পে। কৃষকের প্রচণ্ড ভিড় সামলাতে গিয়ে রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে পাম্প কর্মচারীদের। জামালপুর জেলার বিভিন্ন পাম্পের চিত্রই এমন। বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে সবুজ ফসলের সমারোহ দেখা গেলেও পানির অভাবে মাটি ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। দিন গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ধানের চারা ফ্যাকাশে হয়ে যাচ্ছে। মাঠেই নষ্ট হচ্ছে অনেক ফসল। কৃষক জমি তৈরি করলেও পানির অভাবে ফসল বুনতে পারেননি। তাই পতিত রয়েছে কৃষিজমি। খেতের পাশেই ডিজেলচালিত পাম্প এখন একপ্রকার অচল। কোথাও মিলছে না ডিজেল। পুরো জেলাতেই ডিজেলচালিত সেচপাম্পের ওপর নির্ভরশীল কৃষক এখন চরম সংকটে। প্রতিদিন তেলের পাম্প ও খুচরা দোকানে ঘুরেও তাঁরা ডিজেল সংগ্রহ করতে পারছেন না।
মোটরসাইকেল, প্রাইভেট কারসহ বিভিন্ন যানবাহনের চাপের কারণে কৃষকের জন্য ডিজেল পাওয়া আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। খুচরা বাজারে ডিজেল পাওয়া গেলেও লিটারপ্রতি ৫০ থেকে ৬০ টাকা বেশি দামে কিনতে হয় বলে অভিযোগ কৃষকের।
জামালপুরে সেচপাম্পের সংখ্যা ৫৩ হাজার ৩৬৮। এর মধ্যে ডিজেলচালিত ২৮ হাজার ১০৩ এবং বিদ্যুচ্চালিত ২৫ হাজার ২৬৫টি। ইতোমধ্যে ডিজেল সংকটে বন্ধ হয়ে গেছে বেশির ভাগ সেচপাম্প। ডিজেলের অভাবে আর কয়েক দিন সেচ দিতে না পারলে বোরো আবাদে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন কৃষক। পাশাপাশি জমিতে পর্যাপ্ত পানি দিতে না পারায় পাট, ভুট্টা, গম, শসা, মরিচ, করলাসহ বিভিন্ন শাকসবজি খেতেই নষ্ট হচ্ছে। যেগুলো টিকে আছে আশানুরূপ ফলন পাওয়া নিয়ে প্রান্তিক কৃষকের মধ্যে বাড়ছে উৎকণ্ঠা ও অনিশ্চয়তা।