Image description

জ্বালানি তেল সংগ্রহের জন্য রাজধানীর ফিলিং স্টেশনগুলোতে এখনো ক্রেতাদের লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে। তবে আগের চেয়ে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। আগে যেখানে ৫ থেকে সর্বোচ্চ ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হতো এখন সেই সময় কয়েক ঘণ্টা কমেছে। অনেক পাম্পে গ্রাহকের সারিও তুলনামূলক ছোট হয়েছে। এ ছাড়া ফুয়েল পাসের মাধ্যমে তেল বিক্রি করায় যেমন শৃঙ্খলা ফিরেছে তেমনি একজন ক্রেতা একসঙ্গে ১ হাজার টাকার বেশি তেল কিনতে পারায় ভোগান্তিও কমেছে।

গতকাল সকালে রাজধানীর পরীবাগের মেঘনা পেট্রোল পাম্পে তেল নেওয়ার জন্য যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা গেলেও এটি বিগত কয়েক দিনের চেয়ে তুলনামূলক ছোট ছিল। এই পেট্রোলপাম্পে তেল নিতে আসা কয়েকজন ক্রেতা জানান, আগে রেশনিং পদ্ধতিতে তেল নেওয়ার জন্য এখানে রাতে এসে লাইনে দাঁড়াতে হতো। তেল পাওয়া যেত পরদিন সকালে। কিন্তু এখন ভোরে দাঁড়িয়ে সকাল ৯টা থেকে ১০টার মধ্যেই তেল পাওয়া যাচ্ছে।

নিকুঞ্জ মডেল সার্ভিস সেন্টারে গতকাল বিকাল ৪টার দিকে তেল নেন মাহমুদ হাসান নামের এক মোটরসাইকেল চালক। তিনি বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, মাত্র ৩৫ মিনিটের মধ্যেই ফুয়েল পাস দিয়ে তেল নিতে পেরেছি। অথচ কিছুদিন আগেও ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে তেল নিতে হয়েছে।

তবে ট্রাস্ট ও সুমাত্রা এর মতো বড় ফিলিং স্টেশনগুলোতে বরাবরের মতোই তেলের জন্য মোটরসাইকেল ও প্রাইভেট কারের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। বিপরীতে তুলনামূলক ছোট স্টেশনগুলোতে চালকরা ছোট লাইনে দাঁড়িয়ে দ্রুত তেল নিতে পেরেছেন। মূলত জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং সরবরাহ পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ায় গত ২-৩ দিন ধরে রাজধানীর পাম্পগুলোতে চাপ কিছুটা কমতে শুরু করেছে। এর আগে গত দেড় মাসের বেশি সময় ধরে তেল কিনতে গিয়ে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন বিভাগ ও জেলা শহরগুলোতে যানচালকদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। গরমের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে চালকদের দুর্ভোগও পাল্লা দিয়ে বাড়ে। কেউ কেউ টানা কয়েক ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে গরমে অসুস্থ হয়ে পড়েন। বীরউত্তম জিয়াউর রহমান সড়কের ইউরেকা এন্টারপ্রাইজ ফিলিং স্টেশনে গতকাল দুপুর পৌনে ১টায় লাইনে দাঁড়িয়ে দুপুর পৌনে ২টায় তেল কিনেছেন শুভ আহমেদ। তিনি বলেন, এক ঘণ্টা দাঁড়িয়ে ফুয়েল পাস দিয়ে ১ হাজার টাকার তেল নিয়েছি। বিগত কয়েক দিনের চেয়ে দ্রুতই পেয়েছি। রাজধানীর বেশ কিছু পাম্পে ফুয়েল পাস ব্যবহার শুরুর পর ক্রেতারা আগের তুলনায় বেশি তেল নিতে পারছেন। এজন্য একজন ক্রেতাকে পাম্পে বারবার আসার প্রয়োজন হচ্ছে না।

পাম্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আগের তুলনায় এখন লাইনের দৈর্ঘ্য কম এবং যানবাহনের চাপও নিয়ন্ত্রিত। পাম্পগুলোতে লাইনে দাঁড়ানোর সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। আগে যেখানে গ্রাহকদের ৫ থেকে ১২ ঘণ্টা দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করতে হতো, এখন ১ থেকে ২ ঘণ্টার মধ্যেই জ্বালানি সংগ্রহ করা যাচ্ছে। তেল দেওয়ার ক্ষেত্রে লাইনের গতিও আগের তুলনায় দ্রুত হয়েছে।