Image description

আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স ও ডিপফেক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ড. মিজানুর রহমান আজহারীসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিদের ভুয়া বিজ্ঞাপন তৈরি করে যৌন উত্তেজক ঔষধ বিক্রয়ের সাথে জড়িত চক্রের ১০ (দশ) সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

 

পুলিশ জানিয়েছে, এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তার কণ্ঠ ও চেহারা নকল করে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার পাশাপাশি তার ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সুনাম ক্ষুণ্ন করা হচ্ছে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলো, মোঃ সারাফাত হোসেন (২১), সাফায়েত হোসেন শুভ (২১), তৌকি তাজওয়ার ইলহাম (১৯), তাকিবুল হাসান (২১), আব্দুল্লাহ আল ফাহিম (২২), মিনহাজুর রহমান শাহেদ (১৯), শাহামান তৌফিক (২১), ইমন হোসেন বিজয় (২১), অমিদ হাসান (২১) ও মোঃ ইমরান (২৪)।

গতকাল শনিবার সকালে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। এসময় তাদের হেফাজত হতে ১১ টি ল্যাপটপ, ৪৭ টি স্মার্ট মোবাইলফোন, দুইটি পেনড্রাইভ, ২১ সিম ও বিপুল পরিমাণে যৌন উত্তেজক অবৈধ ঔষধ করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির মতিঝিল অঞ্চলের উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ জানান, গত বৃহস্পতিবার রাতে চট্টগ্রাম ও ঢাকার মোহাম্মদপুর থানাধীন চন্দ্রিমা মডেল টাউনস্থ এভিনিউ-১ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গত ১৫ ফেব্রুয়ারি জনপ্রিয় ইসলামি বক্তা ড. মিজানুর রহমান আজহারী প্রথম এসব ভুয়া ভিডিও দেখতে পান। পরে তিনি তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে সতর্কতামূলক পোস্ট দেন। পরবর্তীতে ২৫ ফেব্রুয়ারি পল্টন মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়।

তিনি আরও জানান, জনপ্রিয় ইসলামি বক্তা ড. মিজানুর রহমান আজহারী-এর নাম, ছবি, কণ্ঠস্বর ও ভিডিও ব্যবহার করে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI) ও ডিপফেক প্রযুক্তির মাধ্যমে ভুয়া প্রচারণা চালিয়ে প্রতারণার অভিযোগে একাধিক ফেসবুক পেজ, আইডি ও ওয়েবসাইটের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগীর পক্ষে জনৈক বিল্লাল হোসেন (৫৭) আমমোক্তারনামা নিয়ে অভিযোগের প্রেক্ষিতে পল্টন থানায় মামলা দায়ের করা হয়।

তিনি আরও জানান, মামলার অভিযোগে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র ফেসবুকসহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ভুয়া ভিডিও তৈরি করে ভেষজ ওষুধসহ বিভিন্ন পণ্যের বিজ্ঞাপন প্রচার করে আসছে। এসব ভিডিও এমনভাবে উপস্থাপন করা হয় যেন ড. আজহারী নিজেই পণ্যগুলোর প্রচার করছেন, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা।

তাদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, গ্রেফতারকৃতরা অসাধু চক্রের সক্রিয় সদস্য। তারা দীর্ঘদিন ড. মিজানুর রহমান আজহারী, ডা. তাসনিম জারা ও ডা. জাহাঙ্গীর কবিরসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিদের ভুয়া বিজ্ঞাপন তৈরি করে যৌন উত্তেজক ঔষধ বিক্রয়ের সাথে জড়িত মর্মে স্বীকার করেছে। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।