ভালোবাসার টানে হাজার মাইল দূরের দেশ চীন থেকে রংপুরের মিঠাপুকুরে এসে এক তরুণীকে বিয়ে করেছেন এক যুবক। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা।
জানা যায়, রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার বালুয়া মাসিমপুর ইউনিয়নের হামিদপুর গ্রামের বাসিন্দা আনিকা আক্তারের সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পরিচয় হয় চীনা যুবক মা লিয়াংহুইয়ের।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সন্ধ্যার দিকে আনিকার বাবা তৌহিদুল ইসলামের বাড়িতে আসেন মা লিয়াংহুই। এ সময় পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তার পরিচয় হয়।
বিয়ের বিষয়টি স্বীকার করে আনিকা আক্তার বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেই আমাদের পরিচয়। এরপর ধীরে ধীরে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরিবারকে জানালে তারা বিষয়টি বুঝে সম্মতি দেন।
বিয়ের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই এলাকায় কৌতূহলী মানুষের ভিড় বাড়তে থাকে। বিশেষ করে শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) রাত থেকে গ্রামজুড়ে বিদেশি নাগরিকের উপস্থিতির খবর ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ ভিড় করতে শুরু করেন।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকাল থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে ঘটনাটি।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ‘গ্রামে বিদেশি বর আসছে—এমন ঘটনা সচরাচর দেখা যায় না।
তবে এই ঘটনাকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই এই প্রেম ও বিয়েকে ইতিবাচকভাবে দেখলেও, অনেকে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন যুবকের পরিচয় নিয়ে। কেউ কেউ মন্তব্য করেছেন, সত্যিই তিনি চীনা নাগরিক কিনা তা যাচাই করা প্রয়োজন।
বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন এলাকায় বিদেশি পরিচয়ে প্রতারণার অভিযোগ সামনে আসায় অনেকেই সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই অনেকেই এই ঘটনাকে গুরুত্ব সহকারে যাচাই করার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল বলছেন, আন্তঃদেশীয় সম্পর্ক ও বিয়ে বর্তমান যুগে নতুন কিছু নয়। প্রযুক্তির কল্যাণে পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তের মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে উঠছে। তবে এমন ক্ষেত্রে পরিচয় যাচাই, আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।
একজন স্থানীয় শিক্ষক বলেন, ‘ভালোবাসা অবশ্যই সুন্দর বিষয়। কিন্তু বাস্তবতার দিকটাও মাথায় রাখতে হবে। বিদেশি নাগরিকের ক্ষেত্রে তার পরিচয়, ভিসা এবং আইনি দিকগুলো নিশ্চিত করা দরকার।’
এদিকে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো না হলেও, বিষয়টি নজরে রাখা হচ্ছে বলে জানা যায়।
ভালোবাসার টানে বিদেশ থেকে এসে বিয়ে করার এই ঘটনা যেমন অনেকের কাছে রোমাঞ্চকর ও আনন্দের, তেমনি অন্যদের কাছে এটি প্রশ্ন ও সংশয়ের জন্ম দিয়েছে। সময়ই বলে দেবে এই সম্পর্ক কতটা স্থায়ী ও বিশ্বাসযোগ্য হয়ে উঠবে।