Image description

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জকসু) প্ল্যাটফর্মকে ইসলামী ছাত্রশিবিরের দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়নের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন ছাত্রদলের প্যানেল থেকে নির্বাচিত চার নেতা। তারা এই অপচেষ্টার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। আজ শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) দুপুর আড়াইটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষা শহীদ রফিক ভবনের সামনে জকসুর ব্যানারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন তারা।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জকসুর পাঠাগার ও সেমিনার সম্পাদক মো. রিয়াসাল রাকিব, পরিবহন সম্পাদক মো. মাহিদ হোসেন, সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক মো. তাকরিম মিয়া এবং নির্বাহী সদস্য মো. সাদমান আমিন সাদমান সাম্য।

এ সময় তারা নিজেদের ‘জকসুর পক্ষ’ বলে দাবি করেন। অভিযোগ করেন, বাকি ১৬ জন সংসদকে দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়নে কাজ করছে। তারা জকসুর মত একটি প্ল্যাটফর্মকে দলীয় স্বার্থে ব্যবহার না করে সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার ও ইশতেহার বাস্তবায়নে সংগঠনটির শীর্ষ নেতাদের পেশাদার আচরণ করার আহ্বান জানান। অন্যথায় জকসু কখনোই শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারবে না বলে তারা সতর্ক করে দেন। এছাড়াও তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, জকসুর ব্যানারে শিবিরের দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়নের এই ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ণ থাকলে তারা কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবেন।

e538eefa-5010-4fc3-af8a-51f04152eaec
জকসুর প্যাড ব্যবহার করে এই সংবাদ সম্মেলন আহ্বান করে ছাত্রদল থেকে নির্বাচিত সদস্যরা

জকসুর অফিসিয়াল কার্যক্রমে ও প্রচারণায় বৈষম্যের অভিযোগ তুলে সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক মো. তাকরিম মিয়া বলেন, শিবির প্যানেল রাস্তায় দাঁড়িয়ে কারো সাথে কথা বললে সেটা নিয়ে জকসুর পেইজে পোস্ট হয়, কিন্তু আমি এত বড় প্রোগ্রাম করলাম— সেটা নিয়ে কোনো পোস্ট হয় না।

জকসুর গঠনতন্ত্রের ১১(৩) ধারা অনুযায়ী, নির্বাহী কমিটির সভায় কমিটির অর্ধেক সদস্য উপস্থিত থাকলে কোরাম পূর্ণ হবে। এ অবস্থায় ২১ সদস্যের সংসদে কোরাম পূর্ণ হতে ১১ জন উপস্থিত হতে হয়। অপর ধারায় সিদ্ধান্ত গ্রহণে উপস্থিত সদস্যদের সংখ্যাগরিষ্ঠের ঐকমত্যের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ফলে ন্যূনতম সদস্য নিয়ে কোরাম পূর্ণ হলে সেখানেও অন্তত ৬ জন একমত হলেই যেকোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারে জকসুর নির্বাহী কমিটি।

জকসুর পাঠাগার ও সেমিনার সম্পাদক মো. রিয়াসাল রাকিব জানান, শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে গত ৬ জানুয়ারি জকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু নির্বাচনের পর থেকেই ছাত্রশিবিরের নেতৃবৃন্দ জকসুর প্ল্যাটফর্মকে দলীয় কর্মসূচি বাস্তবায়নের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, যা এই ছাত্র সংসদের স্বচ্ছতা ও কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বারবার প্রতিবাদ জানানোর পরও তারা এই অপচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের পূর্বে দেওয়া ইশতেহারের একটিও তারা এখনো বাস্তবায়ন করতে পারেনি; বরং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়নেই তাদের বেশি সক্রিয় দেখা যাচ্ছে।

রিয়াসাল রাকিব অভিযোগ করে বলেন, এই আগস্টের পূর্ববর্তী সময়ে শিবিরের শীর্ষ নেতৃত্বরা সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে কর্মসূচি পালন করলেও নিজেদের দলীয় পরিচয় প্রকাশ করতেন না। ১২ ফেব্রুয়ারির পর থেকে তারা শিবিরের ব্যানার ব্যবহার না করে সব প্রোগ্রামই জকসুর ব্যানারে করছে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের এই অরাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মটিকে ব্যবহার করে তারা তাদের দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে।

এদিকে জকসুর গঠনতন্ত্রের ১১(৩) ধারা অনুযায়ী, নির্বাহী কমিটির সভায় কমিটির অর্ধেক সদস্য উপস্থিত থাকলে কোরাম পূর্ণ হবে। এ অবস্থায় ২১ সদস্যের সংসদে কোরাম পূর্ণ হতে ১১ জন উপস্থিত হতে হয়। অপর ধারায় সিদ্ধান্ত গ্রহণে উপস্থিত সদস্যদের সংখ্যাগরিষ্ঠের ঐকমত্যের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ফলে ন্যূনতম সদস্য নিয়ে কোরাম পূর্ণ হলে সেখানেও অন্তত ৬ জন একমত হলেই যেকোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারে জকসুর নির্বাহী কমিটি।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের এক নেতা দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, যেকোনো সিদ্ধান্ত নিতে নির্বাহী কমিটির বৈঠকে অর্ধেকের একমত হওয়া প্রয়োজন। জাতীয় জরুরি ইস্যুতে আমরা কমিটির সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকি। সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতের ভিত্তিতে নেওয়া সিদ্ধান্তকে মাত্র ৪ জন সদস্য উপেক্ষা করতে পারেন কিনা কিংবা এর প্রেক্ষিতে আমাদের দোষী সাব্যস্ত করতে পারেন কিনা— তা প্রশ্নসাপেক্ষ বিষয়।