ঘোষণা দিয়েও চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (এসি) কোচ সংযোজনের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল। একই কোচগুলো দিয়ে ঢাকা-কক্সবাজার রুটে বিশেষ ট্রেন চালুর বিষয়ে চলছে তোড়জোড়। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন চট্টগ্রামের যাত্রীরা। তাদের অভিযোগ, ঘোষণার পরও এসি কোচ যুক্ত না করা চট্টগ্রামবাসীর সঙ্গে প্রতারণা।
রেলওয়ে সংশ্লিষ্টরা জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে চলাচলরত মহানগর এক্সপ্রেসে নতুন কোচ যুক্ত হয়। মহানগর এক্সপ্রেস থেকে অবমুক্ত হওয়া ইন্দোনেশিয়ান পুরোনো কোচগুলো চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে যুক্ত করার পরিকল্পনা নিয়েছিল রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল। চারটি এসিসহ ১৬টি কোচ নিয়ে পহেলা বৈশাখ থেকে এই সার্ভিস চালুর প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিল তারা।
বিভিন্ন পর্যায় থেকে তদবিরের কারণে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল। মহানগর এক্সপ্রেসের অবমুক্ত কোচগুলো দিয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে বৃহস্পতিবার থেকে শনিবার পর্যন্ত বিশেষ ট্রেন চালানোর বিষয়ে তোড়জোড় চলছে। বর্তমানে এই রুটে পর্যটন এক্সপ্রেস ও কক্সবাজার এক্সপ্রেস নামে যে দুইটি ট্রেন চলছে এগুলো বিরতিহীন। বিশেষ ট্রেনটি বিভিন্ন স্টেশনে বিরতি দিয়ে চলাচল করবে। এতে এই রুটের বিভিন্ন জেলার স্টেশন থেকে যাত্রী কক্সবাজার যাওয়ার সুযোগ পাবে।
জানতে চাইলে বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক (পূর্ব) মো. সুবক্তগীন জানান, ঢাকা থেকে কক্সবাজার আরেকটি ট্রেন চালু হতে পারে। এক সপ্তাহের মধ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হতে পারে। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে আরও ভালো সার্ভিস দেওয়ার পরিকল্পনা আছে।
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইনের ভাষ্য, ‘চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে আরামদায়ক উন্নতমানের ট্রেন সেবা চালুর দাবি ছিল দীর্ঘদিনের। এসি কোচ চালু হওয়ার ঘোষণায় আমরা আশাবাদী ছিলাম। মনে করেছিলাম চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজারে যাতায়াতের দুর্ভোগ কমবে। ঘোষণার পর এসি কোচ সংযোজন না করা চট্টগ্রামের মানুষের সঙ্গে প্রতারণা। আমরা আশা করছি রেলওয়ে এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসবে।’
২০২৩ সালের ১ ডিসেম্বর দোহাজারী-কক্সবাজার রেলপথ চালু হয়। এরপর এই রুটে উন্নতমানের ট্রেনের দাবি ছিল দীর্ঘদিনের।
বর্তমানে ‘সৈকত’ ও ‘প্রবাল’ এক্সপ্রেস নামে দুটি ট্রেন চলাচল করলেও সেগুলো পুরোনো দ্বিতীয় শ্রেণীর কোচে পরিচালিত হচ্ছে। এতে যাত্রীসেবার মান নিয়ে অভিযোগ রয়েছে।
একটি মাত্র রেক (ইঞ্জিন ও একাধিক বগি মিলে একটি রেক) দিয়ে দিনে চারবার চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে যাতায়াত করছে ট্রেন দুটি। এতে প্রায়ই সময়সূচি বিঘ্নিত হচ্ছে। যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়ছে।