Image description
Rumor Scanner এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকদের মারফতে যতটুকু জেনেছি, তাতে আজকে ছাত্রদল এবং শিবিরের উত্তেজনার মূল কারণ 'অরণ্য আবির' নামে একটি প্রোফাইল। তিনি নিজেকে আওয়ামী লীগের ক্র্যাক প্লাটুন হিসেবে পরিচয় দেন। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে বিএনপি সরকারের 'অপকর্মের' কাউন্ট করছে।
 
তবে সম্ভবত বট আইডি। ছবি তথ্য কিছু নেই। প্রোফাইল জন্ম হয়েছে ২০২৪ সালের ৭ অক্টোবর (লিঙ্ক কমেন্টে)। তো অরণ্য আবির নামক প্রোফাইল থেকে আজ একটি স্ক্রিনশট শেয়ার করা হয়, যাতে দাবি করা হয়, ডাকসুতে শিবিরের প্যানেল থেকে নির্বাচন করা আবদুল্লাহ আল মাহমুদ, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং জাইমা রহমানকে নিয়ে নোংরা এআই ছবি পোস্ট করেছে।
 
তবে Rumor Scanner ফ্যাক্ট চেক করে জানায়, আবদুল্লাহ আল মাহমুদ এমন কোনো পোস্ট দেননি। পোস্টটি দেওয়া হয়েছে, 'এহসান চৌধুরী' নামের একটি প্রোফাইল থেকে (হা‌দির ছ‌বি দেওয়া যে প্রোফাইল এখন গা‌য়েব)। অর‌ণ্য আবির নামে প্রোফাইলটি স্ক্রিনশট এডিট করে আবদুল্লাহ আল মাহমুদের নাম দিয়েছে। (লিঙ্ক কমেন্টে।)
 
ঘটনা এখানে শেষ হতে পারত। কিন্তু অরণ্য আবিরের প্রোফাইল থেকে আবারও পোস্টটি শেয়ার করে ছাত্রদলকে প্রতিশোধ নেওয়ার আহ্বান জানায়। এতে লেখা হয়, "যদি চুড়ি না পরে থাকেন কোনো মায়ের গর্ভ থেকেই জন্ম নেন তাহলে উনার প্রতি শ্রদ্ধা দেখিয়ে হলেও এই শিবিরের মানসিক বিকারগস্তদের আইনের আওতায় আনুন, ধন্যবাদ।"
 
তো এই ঘটনার পর আবদুল্লাহ আল মাহমুদ ফেসবুক পোস্টে দিয়ে জানান, তিনি তারেক রহমান এবং জাইমা রহমানকে নিয়ে পোস্টই দেননি। তিনি লেখেন, "একটা ছাত্রলীগ পান্ডা আমার নামের এডিটেড একটা নোংরা ফোটোকার্ড শেয়ার দিয়ে উস্কানিমূলক পোস্ট দিয়ে কমেন্টে আবার আমার আইডির লিংক দিয়ে রাখছে।" এরপর আবদুল্লাহ আল মাহমুদ শাহবাগ থানায় যান এ ঘটনার ডিজি করতে।
 
তিনি সম্ভবত সেখানে প্রথমে হামলার মুখে পড়েন। এরপর জুবায়ের এবং মোসাদ্দেক নামের ডাকসুর দুই নেতা মাহমুদকে উদ্ধার করতে যান। তখন ছাত্রদল পরিচয় দেওয়া কিছু ছেলে সাংবাদিক, যুবায়ের এবং মোসাদ্দেককে বেধরক মারধর করে। তা ঠেকান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, শিপন আগলে রেখেছেন আক্রান্তদের। কিন্তু নিবৃত্ত করা যাচ্ছে না, হামলাকরীদের।
তো খুব সাধারণ প্রশ্ন হচ্ছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নিজে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়ে নিষেধ করার পরও, তাঁকে আঘাত করে কী সংগঠনটির নেতাকর্মীদের কাউকে মারধর করার কথা? এটা তো কোনো যুক্তিতে আসে না। থানায় ঢুকে সাংবাদিক সমিতির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদককে মেরেছে।
 
যারা ছাত্র রাজনীতি করে, তারা ক্যারিয়ার ঠিক রাখার জন্য সমিতি সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকদের খুশি রাখে। উল্টো তাদেরকে তো মারধর করার কারণই নেই। তো যারা থানায় দঙ্গল করেছে, তারা ছাত্র রাজনীতি করে- এটা যুক্তিতে টেকে না।
 
দ্বিতীয় প্রশ্ন হচ্ছে, আবদুল্লাহ মাহমুদ নামের ছেলেটি যদি ওই পোস্ট দিত, তাহলে কী সে জিডি করতে যেতো? (পোস্ট যে তিনি দেননি, তা ইতিমধ্যে ফ্যাক্টচেকে প্রমাণ হয়েছে)। ওদিকে যে এই ভুয়া স্ক্রিনশট ছড়িয়েছেন, সেই 'অরণ্য আবির' নামের প্রোফাইল থেকে শাহবাগ থানায় মারধরের ঘটনাকে ব্যাপক ভাবে উদযাপন করা হচ্ছে। এর মধ্যে চারটি পোস্ট দিয়ে উল্লাস প্রকাশ করেছে।