ব্রাহ্মণবাড়িয়া তুচ্ছ বিষয়ে টেঁটা নিয়ে মাঠে নামার ‘দেশ’ বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বেসরকারি সদস্যদের সিদ্ধান্ত প্রস্তাব উত্থাপনকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা বলেন, মেঘনা ও তিতাস পাড়ের দেশ ব্রাহ্মণবাড়িয়া। ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ কিংবা শচীন দেব বর্মণের দেশ ব্রাহ্মণবাড়িয়া। কীর্তন ও বাউল গানের দেশ ব্রাহ্মণবাড়িয়া। ছানমুখি মিষ্টির অপূর্ব স্বাদের দেশ আমার বামুনভাইরা। দিগন্ত জোড়া হাওরের দেশ ব্রাহ্মণবাড়িয়া। আবার তুচ্ছ বিষয়ে টেঁটা নিয়ে মাঠে নামার দেশও কিন্তু ব্রাহ্মণবাড়িয়া। উল্লেখ্য, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা হলেও তিনি রুপক অর্থে ‘দেশ’ বলে উল্লেখ করেছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের শিল্প, সংস্কৃতির রাজধানী বলা হয় ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে। এ মাটিতে জন্ম নিয়েছেন ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত বা অলি আহাদের (রুমিন ফারহানার মরহুম পিতা বিশিষ্ট রাজনীতিক) মত সংগ্রামী যোদ্ধারা, যাদের কল্যাণে বাংলা রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি পেয়েছে।
আশুগঞ্জ এলাকার শিল্প কারখানার কথা উল্লেখ করেন রুমিন ফারহানা। তিনি বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার গ্যাস যায় সারা বাংলাদেশে। কিন্তু ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষ গ্যাস পায় না।
নিজ নির্বাচনি এলাকা সরাইলের আবাসিক গ্যাস সংযোগ থাকলেও গ্রাহকেরা গ্যাসের সংকটে রয়েছে বলে দাবি করেন রুমিন ফারহানা। তিনি বলেন, সকাল সাতটা থেকে দুপুর ২ টা পর্যন্ত গ্যাসের চাপ থাকে না। চুলা মিটিমিট করে জ্বলে। মন চাইলে একঘণ্টার জন্য গ্যাস আসে। তারপরে রাত পর্যন্ত গ্যাসের খবর নেই। শীতকালে গ্যাসের চাহিদা আরও বাড়ে। অন্যদিকে আছে অবৈধ সংযোগ। লোকবলের অভাবে সংশ্লিষ্ট সংস্থা তদারকি করতে পারছে না বলেও উল্লেখ করেন তিনি। ২০১৬ সালে বাসা-বাড়িতে গ্যাসের সংযোগ দেওয়া বন্ধ করা হলেও অসাধু কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে অবৈধভাবে গ্যাস সংযোগ দেওয়া হচ্ছে, যাতে সরকার রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে। এতে বৈধ সংযোগধারীরা গ্যাস পাচ্ছে না। মানুষ মাটির চুলা, এলপিজি ও বৈদ্যুতিক চুলায় ভরসা করছে।
রুমিন ফারহানা বলেন, আমাদের জীবন মানের এতই উন্নতি হয়েছে, গ্রাম বা মফস্বলের মানুষ ফ্ল্যাটে থাকে, পাকাবাড়িতে থাকে। উঠান অনেকটাই বিলাসিতা। মাটির চুলায় রান্না করা বাস্তবতা বিবর্জিত। অন্যদিকে ১৯৪০ টাকার এলপিজি সিলিন্ডার বলে বটে, কিন্ত ২২শ টাকার নিচে সিলিন্ডার পাওয়া যায় না। আর বিদ্যুতের চুলার কথা বলি যদি, ঢাকা শহরে ১-২ ঘণ্টা লোডশেডিং হলেও গ্রামে সেটা ১৪ ঘণ্টা পর্যন্ত গড়ায়। গ্যাস ছাড়া চুলা জালানোর জ্বালানি নেই।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার গ্যাস সারা দেশে যায় উল্লেখ করে রুমিন ফারহানা বলেন, আমার দাবি থাকবে আগে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার গ্যাস ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষ পাবে, তার এটি অন্য এলাকায় যাবে।