Image description
আইনগত কাস্টডিয়ান কে?

হাসিনার দীর্ঘ ফ্যাসিবাদী শাসনকালে বহু মানুষ গুম হয়েছেন। খুন হয়েছেন বহু নাগরিক। গুম হওয়া ব্যক্তিদের অনেকেই আর ফিরে আসেননি। ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালে হাসিনার পালিয়ে যাওয়া পর্যন্ত সংঘটিত গুম-খুনের ঘটনা তদন্তের জন্য ২০২৪ সালের ২৭ আগস্ট অধ্যাদেশের মাধ্যমে গঠিত হয় ‘কমিশন অব ইনকোয়ারি’। ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ-২০২৫’-এর আওতায় ‘কমিশন অব ইনকোয়ারি’ কার্যক্রম পরিচালনা করে।

হামলা ও গায়েবি মামলার পাশাপাশি হাসিনার ফ্যাসিবাদী শাসনের বড় বৈশিষ্ট্য ছিল হাসিনার শাসনের সমালোচক ব্যক্তিদের গুম ও হত্যা করা। শত শত গুমের ঘটনা ঘটে। বিএনপি নেতা চৌধুরী আলম থেকে শুরু করে ইলিয়াস আলী, সাজেদুল ইসলাম সুমন, সুখরঞ্জন বালী, ব্রিগেডিয়ার আব্দুল্লাহিল আমান আযমী, ব্যারিস্টার আরমান, হুম্মাম কাদের, কর্নেল হাসিনুর রহমানসহ শত শত মানুষকে গুম করা হয়। এদের মধ্যে কয়েকজনকে ‘আয়নাঘর’ থেকে উদ্ধার করা হয় চব্বিশের জুলাই আন্দোলনে হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর। অনেকের লাশও পাওয়া যায়নি। গুম হওয়া ব্যক্তিদের স্বজনরা ‘মায়ের ডাক’ সংগঠনের ব্যানারে বছরের পর বছর আন্দোলন করেন। হাসিনার কাছে স্বজনদের ফিরিয়ে দেয়ার আকুতি জানিয়েও কোনো ফল পাননি। উল্টো আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদেরকে ভয়ভীতি দেখিয়ে দমিয়ে রাখত।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রতিবেদন প্রকাশ করলেও হাসিনা সরকার তা উড়িয়ে দিত। বলা বাহুল্য, হাসিনার গুম, খুনের ইতিহাস হিটলারের কনসেনট্রেশন ক্যাম্পকেও হার মানায়। এটি ছিল বিরোধীদল দমনে হাসিনার ‘হলোকাস্ট’। এই হলোকাস্ট কতটা নৃশংস ও অমানবিক ছিল, তা তার পতনের পর গুম কমিশনের তদন্তে বের হয়ে আসে। ক্যান্টনমেন্টের ভেতর গোপন বন্দিশালার সচিত্র প্রতিবেদন দেখে দেশবাসী শিউরে ওঠেন। যারা জীবনের শেষ প্রান্ত থেকে ফিরে এসেছেন তাদের সঙ্গে কথা বলে গুম কমিশন। এর সাথে কারা কারা জড়িত এবং কীভাবে গুম করা হয়েছে তার অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও জবানবন্দি রয়েছে। গুম-সংক্রান্ত মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারকাজ ত্বরান্বিত করতে তাদের দীর্ঘ অনুসন্ধান ও জেরায় প্রাপ্ত অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্য তো আছেই। অন্তর্বর্তী সরকার বিদায় নেয়ার পরপর গুম কমিশনের মেয়াদ শেষ হয়ে আসছিল। তখন কমিশন সদস্যরা যখন এ বিষয়টি নিয়ে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে চিঠি প্রদানের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তখনই আকস্মিকভাবে মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ (সংশোধনী) বাতিল হয়ে যায়। এতে কমিশন স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকারিতা হারায়। তারা বলেছেন, যেহেতু এসব গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্টের কারণে প্রভাবশালী অনেকে ফেঁসে যেতে পারেন, তাই কার্টনভর্তি ডকুমেন্টগুলো যেকোনো সময় গায়েব হয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। কোনোভাবে বেহাত হলে গোপনীয় তথ্য ফাঁস হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। সেই সঙ্গে পুনরায় চরম নিরাপত্তাহীনতার ঝুঁকিতে পড়বেন গুম হওয়া ব্যক্তিদের স্বজনরা।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, গুম হওয়া ব্যক্তিদের সংগঠিত করে ‘মায়ের ডাক’ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন যুবদল নেতা সাজেদুল ইসলাম সুমনের বোন সানজিদা ইসলাম তুলি। ফ্যাসিবাদী হাসিনার শাসনামলে সংগঠনটি ‘প্রেশার গ্রুপ’ হিসেবে কাজ করত। কিন্তু সেই তুলি এখন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত আসনে এমপি হিসেবে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন। এ প্রেক্ষাপটে সংগঠনটির অস্তিত্ব এবং কার্যক্রমের কী হবেÑ এ নিয়ে রয়েছে প্রশ্ন। ফলে হাসিনা আমলের ‘গুম-খুন’-এর বিচার করার দাবিও আগের মতোই উচ্চারিত হবে কি-না, তা নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে সংশয়।

হাসিনার আমলের গুম-খুনের তদন্তে গঠিত হয়েছিল তদন্ত কমিশন। হাইকোর্ট বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মঈনুল ইসলাম চৌধুরী নেতৃত্বধীন কমিশনে সদস্য ছিলেন পাঁচজন। অন্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ফরিদ আহমেদ শিবলী, মানবাধিকারকর্মী নূর খান, সাজ্জাদ হোসেন এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নাবিলা ইদ্রিস।

এই কমিশন চলতি বছর ৪ জানুয়ারি অন্তর্বর্তী সরকারের তৎকালীন উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে প্রতিবেদন দাখিল করে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, গুমের ঘটনাগুলো মূলত রাজনৈতিক উদ্দেশে ঘটানো হয়েছিল। এগুলোর কোনোটিই কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছিল না। মূলত হাসিনা তার ইচ্ছাধীন ও নৃশংস স্বৈরশাসন অনন্তকালের জন্য দীর্ঘায়িত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং বিভিন্ন সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের দ্বারা অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে শত শত গুম-খুনের ঘটনা ঘটান। ‘গুম কমিশন’ তদন্তকালে হাসিনার শাসনামলের প্রভাবশালী গোয়েন্দা কর্মকর্তাসহ সামরিক-বেসামরিক এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অনেক কর্মকর্তাকে গুলশানস্থ অস্থায়ী কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে। তাদের কেউ কেউ লিখিত বক্তব্য পাঠিয়েছেন। কেউ সশরীরে হাজির হয়ে গুমের বিবরণ দিয়েছেন। এদের মধ্যে রয়েছেনÑ প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদফতরের (ডিজিএফআই) সাবেক একাধিক মহাপরিচালক, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা-এনএসআই এবং র‌্যাব ও পুলিশের সাবেক উচ্চপদস্থ কয়েকজন কর্মকর্তারা।

তাদের জিজ্ঞাসাবাদের অডিও-ভিডিও রেকর্ড করা হয়েছে। সেই সঙ্গে গুম কমিশনের বিশেষ অনুসন্ধান টিম র‌্যাব এবং ডিজিএফআই পরিচালিত একাধিক গোপন বন্দিশালা থেকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ আলামত ও তথ্য-প্রমাণ উদ্ধার করেছে। পরবর্তীতে গুম কমিশন এসব বন্দিশালা অবিকৃত অবস্থায় রাখার অনুরোধ জানিয়ে সরকারকে চিঠি দেয়। কমিশনের অনুসন্ধানে বেশ কিছু ফোনকল রেকর্ড, এসএমএস এবং সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পাওয়া যায়, যেখানে অপরাধের সঙ্গে বিভিন্ন বাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সংশ্লিষ্ট অকাট্য প্রমাণ রয়েছে। হাসিনার বিশেষ আস্থাভাজন কর্মকর্তা এবং ডিজিএফআইয়ের সাবেক প্রভাবশালী মহাপরিচালক (ডিজি) লে. জেনারেল (অব.) আকবর হোসেন কমিশনে হাজির হয়ে গুমের একাধিক ঘটনা স¤পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। এছাড়া র‌্যাব ও সেনাবাহিনীর বেশ কয়েকজন সদস্য গুম ও খুনের একাধিক ঘটনার অন্যতম প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন। এর বাইরে গুমের শিকার একাধিক ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যর অভিযোগ রেকর্ড করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের জবানবন্দি ছাড়াও কয়েকটি গোয়েন্দা সংস্থা, র‌্যাব, ডিবি, সিটিটিসিসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দফতর থেকেও বেশ কিছু গোপন নথিপত্র উদ্ধার করে কমিশন। অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর তথ্য-প্রমাণের এসব নথি এখন যথাযথ সংরক্ষণের অভাবে বিনষ্ট কিংবা হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

কারণ, নির্বাচিত সরকার ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ-২০২৫’-কে আইনে পরিণত করেনি। ফলে গুম কমিশনের আইনি কোনো অস্তিত্ব এখন নেই। গুম কমিশন বিলুপ্ত করার আগে কমিশনের কমিশনারদের মতামতের ভিত্তিতে দাফতরিক ফাইল ছাড়াও গুম সংক্রান্ত ডকুমেন্টভর্তি ২৪টি কার্টন রাজধানীর কাওরানবাজারস্থ ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন’ কার্যালয়ে রেখে যায়। কিন্তু ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (সংস্কার) অধ্যাদেশও সরকার সংসদে পাস করেনি। এ প্রেক্ষাপটে এই সংস্থাটির চেয়ারম্যানসহ সব কমিশনারও পদত্যাগ করেন। ফলে মানবাধিকার কমিশনেরও এখন কোনো কার্যক্রম নেই। কমিশনের ৯১৭ নম্বর কক্ষে গুম কমিশনের রেখে যাওয়া তথ্য-প্রমাণ স্তূপাকারে ফেলে রাখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কাগজপত্র ভর্তি অন্তত ২৪টি কার্টন। তদন্তের কাজে ব্যবহৃত কয়েকটি ল্যাপটপ। গুম প্রতিরোধ কমিশনের সংগৃহীত সাক্ষ্য-প্রমাণ, ফোনকল রেকর্ড, এসএমএস এবং সিসি ক্যামেরার ফুটেজের মতো স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ রয়েছে। ‘আয়নাঘর’-খ্যাত হাসিনা আমলের গোপন বন্দিশালার আলোকচিত্র, ভিডিওসহ বহু আলামত রয়েছে। এসব আলামত সংগ্রহ কত কষ্টসাধ্য ও ঝুঁকিপূর্ণ ছিল সেটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলামের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়ে ওঠে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের পাশেই একটি বন্দিশালার আলামত সংগ্রহ করতে গিয়ে তার নেতৃত্বাধীন একটি টিম বোমা হামলার ঝুঁকিতে পড়েছিল।

বাস্তবতা হচ্ছেÑ ঘটনার গুরুত্ব ও ঐতিহাসিকতার তুলনায় এসব নথি যে প্রক্রিয়ায় অযতেœ ফেলে রাখা হয়েছে, তাতে নথি ও তথ্য-প্রমাণের পুরোটা কিংবা অংশ বিশেষ গায়েব হয়ে যাওয়া, চুরি হওয়া, আগুনে পুড়ে কিংবা তাপমাত্রার কারণে বিনষ্ট হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। কাচের দেয়ালে আবদ্ধ হলেও সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা নেই। আইনগতভাবে এসব তথ্যের সুরক্ষা দেয়া জাতীয় মানবাধিকার কমিশন কার্যক্রমের দাফতরিক দায়িত্বের আওতায়ও পড়ে না। জানা গেছে, নথিগুলোর আর কোনো কপিও রাখা হয়নি। নথি চুরি কিংবা বিনষ্ট হলে নতুন করে সেগুলো সংগ্রহ করাও সম্ভব নয়। এ অবস্থা থেকে নথি-প্রমাণাদি, ক্যামেরা ফুটেজগুলো চুরি, গায়েব কিংবা বিনষ্ট হলে দায়ী করার মতো কাউকে পাওয়া যাবে না। বড় আশঙ্কার কথা হচ্ছেÑ এসব দলিলাদি ও তথ্য-উপাত্ত অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিচারে প্রমাণক দলিল হিসেবে কাজ করবে। নথিপত্রগুলো সংরক্ষণ করা না হলে ভবিষ্যতে গুম-সংক্রান্ত মামলার কোনো বিচারও অসম্ভব হয়ে পড়বে।

গুম কমিশনের নথি সুরক্ষা-প্রশ্নে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সচিব (জেলা ও দায়রা জজ) কুদরত ই এলাহী ইনকিলাবকে বলেন, অনন্তর্বর্তী সরকার জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (সংশোধনী অধ্যাদেশ) এবং ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ-২০২৫’ জারি করে। এ অধ্যাদেশের আওতায় ‘কমিশন অব ইনকোয়ারি’ গঠিত হয়। নির্বাচিত সরকার দায়িত্বে আসার পর অধ্যাদেশ দু’টি সংসদে পাস করেনি। ফলে দু’টি অধ্যাদেশের এখন কোনো অস্তিত্ব নেই। কমিশনের মেয়াদও শেষ হয়ে যায়। তবে মেয়াদ থাকাকালে গুম কমিশন এবং মানবাধিকার কমিশন এই মর্মে একটি সিদ্ধান্ত নেয়, সরকার আইন প্রণয়ন না করা পর্যন্ত গুমের তদন্ত-সংক্রান্ত নথি-প্রমাণাদি এবং অনিষ্পন্ন নথি জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের জিম্মায় থাকবে। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের কাছে নথিগুলো হস্তান্তর করা হয়। তখন থেকে এগুলো আমাদের জিম্মায় রয়েছে।

‘এ পরিস্থিতিতে নথি বা প্রমাণাদির পরিপূর্ণ কিংবা অংশ বিশেষ বিনষ্ট হয়ে গেলে আইনত: জাতীয় মানবাধিকার কমিশন জবাবদিহি করতে বাধ্য কি না’-জানতে চাইলে মানবাধিকার কমিশনের সচিব কুতরত ই এলাহী বলেন, আমাদের অফিস আছে। জনবল আছে। আমাদের ‘লক ইন কীতেই’ আছে। কোনো হারানো কিংবা বিনষ্ট হলে জবাবদিহি তো আমাদেরই করতে হবে। নথি পাহারা দিচ্ছি। এখন অপেক্ষায় আছি সরকারের নির্দেশনার। অদ্যাবধি এ বিষয়ে সরকারের কোনো নির্দেশনা আমাদের কাছে আসেনি।

এদিকে পরিবেশ ও মানবাধিকার সংগঠন ‘হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ-এইচআরপিবি’র প্রেসিডেন্ট অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ গুম-সংক্রান্ত নথির আইনগত ‘কাস্টডিয়ান’ প্রশ্নে বলেন, এসব নথি বিনষ্ট হওয়ার দায়-দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট দফতরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের। গুম কমিশনের মেয়াদ শেষ। কিন্তু কমিশন একটি প্রতিবেদন অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে হস্তান্তর করেছে। সেটিতেই তো সব তথ্য-উপাত্ত রয়েছে। অধ্যাদেশের মাধ্যমে গঠিত হলেও এটি ছিল একটি সরকারি দফতর। সরকারই এসব নথির আইনগত কাস্টডিয়ান। এখন দেখতে হবে, কোন মন্ত্রণালয়ের অধীনে গুম প্রতিরোধ কমিশন গঠন হয়েছিল। যে মন্ত্রণালয়ের অধীনে এই সংস্থা গঠিত হয়েছে সেই মন্ত্রণালয়ই তথ্য-প্রমাণ দেখভাল করবে। কারণ, ভবিষ্যতে এগুলো বিচার কিংবা গবেষণার কাজে প্রমাণক হিসেবে দরকার হবে। যদি কারো অবজ্ঞা-অবহেলার কারণে নথি বিনষ্ট হয় তাহলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এর জন্য দায়ী হবেন।
আইন মন্ত্রীর বক্তব্য মতে, গুম কমিশন অধ্যাদেশ এখন আর প্রয়োজন নেই। কারণ ১৯৭৩ সালের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন সংশোধন করে গুম-খুনের ‘অপরাধ’ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ট্রাইব্যুনালে গুম-খুনের বেশ কয়েকটি মামলার বিচারিক কার্যক্রমও চলমান রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে গুম কমিশনের রেকর্ডপত্রের পরিণতি কী হবেÑ জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলামের সঙ্গে। একাধিকবার ফোন করা হলেও এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত (বুধবার, সন্ধ্যা ৮টা) অপরপ্রান্ত থেকে কোনো সাড়া মেলেনি।