Image description

তেলের পাম্পে ভোগান্তি কমাতে সরবরাহ বাড়িয়েছে সরকার। এতে আগের চেয়ে কমতে শুরু করেছে লাইন। ফুয়েল পাস বাধ্যতামূলক এমন পাম্পে আরও ৫ শতাংশ বেশি তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই ওই সব পাম্পে আগের চেয়েও কম সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। তবে ফুয়েল পাসের আওতায় আসা পাম্পগুলোর বেশির ভাগেই পাস থাকার কঠোরতা নেই। পাস থাকলেই অতিরিক্ত তেল নিতে পারছেন। পাস না থাকলেও হাজার টাকার তেল পাচ্ছেন বাইকাররা। বুধবার ঢাকার একাধিক পাম্প সরজমিন ঘুরে এসব চিত্র দেখা গেছে।

রোববার জ্বালানি সরবরাহ বাড়ানোর কথা জানিয়ে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) একটি আদেশ জারি করে। বাজারের চাপ সামাল দিতে সোমবার থেকে অকটেনে ২০ শতাংশ এবং ডিজেল ও পেট্রোলে ১০ শতাংশ বাড়তি বরাদ্দ দেয়ার কথা জানায় বিপিসি।

ওদিকে, সরবরাহ বাড়ানোয় পাম্পগুলোতে তেল নেয়ার জন্য দীর্ঘ অপেক্ষা কমতে শুরু করেছে। অবশ্য পাম্প মালিকরা সরকারকে আগ থেকে তাগিদ দিয়ে আসছে, তেলের দাম বাড়িয়ে সরবরাহ বাড়িয়ে দিতে। কয়েকদিন এভাবেই চলতে থাকলে চলমান সংকট কাটিয়ে ওঠা যাবে বলে তারা জানান। সেটির সুফল পেতে যাচ্ছে নাগরিকরা। পাম্প সংশ্লিষ্টরাও জ্বালানি বাড়তি পাচ্ছেন বলে জানান। বিশেষ করে যে সমস্ত পাম্পে ফুয়েল পাস চালু রয়েছে ওই সমস্ত পাম্পে পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহ মিলছে।

বুধবার দুপুরের দিকে শাহবাগ এলাকার মেঘনা মডেল সার্ভিসে গিয়ে দেখা যায়, ফুয়েল পাস দেখে তেল দেয়া হচ্ছে। কয়েক ঘণ্টা লাইন ধরে এসেও ফুয়েল পাস না থাকলে বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে লাইনের বাইরে গিয়ে ফুয়েল পাসের রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করে এরপর নিতে পারছেন তেল। তবে, ফুয়েল পাসের রেজিস্ট্রেশনের জন্য লাইনের বাইরে গেলে এরপর ওই বাইকার তেল নিতে গেলে লাইন ধরতে হচ্ছে না। ওই পাম্পের বাইকাররা এমনিতেই আগে ২ থেকে চার ঘণ্টা অপেক্ষা করে তেল নিতেন। তবে, গতকাল আড়াই ঘণ্টায়ও তেল নিয়েছেন এমন চিত্রও দেখা গেছে।

পাম্পটির বিপরীত দিকে আরেকটি লাইন ছিল গণমাধ্যমকর্মী ও পুলিশসহ সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য। যেখানে রোজ ভিড় লেগে থাকলেও গতকাল সেখানেও অনেকটাই ফাঁকা দেখা গেছে। তেজগাঁওয়ের ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশনের গিয়ে দেখা গেছে, সেখানে বাইকারদের লাইন সর্বোচ্চ জাহাঙ্গীর গেটের কাছে বিএএফ শাহীন কলেজ পর্যন্ত গিয়েছে। যা আগে মহাখালী বাসস্ট্যান্ড পর্যন্তও যেতো। পাম্পটিতেও ফুয়েল পাস থাকলে ১০ লিটার করে তেল দেয়া হচ্ছিল। তবে, ফুয়েল পাস না থাকলে কোনো কড়াকড়ি ছিল না। না থাকলে ১ হাজার টাকার অক্টেন দেয়া হয়েছে বাইকারদের। মঙ্গলবার রাতে রামপুরার হাজিপাড়া ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, তেল নিতে বাইকারদের লাইন দেড়শ’ মিটারের বেশি ছিল না। অথচ এর এগে ওই পাম্পে প্রায় দুই কিলোমিটার লম্বা লাইন দেখা যেতো।

সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত মেঘনা মডেল সার্ভিসের ম্যানেজার হাবিবুল্লাহ মানবজমিনকে বলেন, গতকাল আমাদের পাম্পে ২৭ হাজার লিটার তেল এসেছিল। আজ সরবরাহ বেড়েছে প্রায় ১০ হাজার লিটার। ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশনের শিফট ইনচার্জ করপোরাল জসিম বলেন, আগে পাম্পে প্রায় ৪০ হাজার লিটার তেল পাওয়া যেতো। গতকাল আরও ৯ হাজার লিটারের মতো বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে।