নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) উপাচার্যের দপ্তরের নামফলক এবং উপাচার্যের বাংলোসহ ক্যাম্পাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ‘গুপ্ত’ লিখে তার ওপর ‘ক্রশ’ চিহ্ন দিয়েছে ছাত্রদল।
বুধবার (২২ এপ্রিল) দুপুরে চট্টগ্রাম সিটি কলেজে ছাত্রশিবিরের সঙ্গে সংঘর্ষের প্রতিবাদে আয়োজিত এক বিক্ষোভ মিছিল শেষে এই দেয়াল লিখন কর্মসূচি পালন করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার দুপুরে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাসে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি প্রশাসনিক ভবনের দ্বিতীয় তলায় উপাচার্যের দপ্তরের সামনে পৌঁছালে নেতাকর্মীরা দপ্তরের প্রবেশপথে উপাচার্যের নামফলকের ঠিক পাশে ও নিচে দুই জায়গায় লাল কালিতে ‘গুপ্ত’ লিখে তাতে ‘ক্রশ’ চিহ্ন দেন। একইভাবে উপাচার্যের বাসভবনের (বাংলো) প্রধান ফটকের দেয়ালেও এই লেখাটি দেখা যায়।
বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি জাহিদ হাসান বলেন, এটি কোনো ব্যক্তি বিশেষকে লক্ষ্য করে করা হয়নি। ক্যাম্পাসে গুপ্ত রাজনীতির বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান জানান দিতে আমরা এই দেয়াল লিখন কর্মসূচি পালন করেছি। আমরা লিখেছি— ‘গুপ্ত রাজনীতির দিন শেষ, সবার আগে বাংলাদেশ’। লেখাগুলো যাতে সবার নজরে পড়ে, সে জন্য উপাচার্যের দপ্তরসহ বিভিন্ন স্থান বেছে নেওয়া হয়েছে।
নোবিপ্রবি আইন ২০০১-এর ধারা ৪৭ (৫) ও (৬) অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা বা কর্মচারীদের রাজনৈতিক মতাদর্শ প্রচার বা কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়ার সুযোগ নেই। তা সত্ত্বেও বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ছাত্রলীগ এবং বর্তমান সময়ে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের রাজনৈতিক তৎপরতা ক্যাম্পাসে দৃশ্যমান।
উপাচার্যের নামফলকের পাশে এ ধরনের লেখাকে ‘মর্যাদাহানি’ হিসেবে দেখছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ শিক্ষকরা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন শিক্ষক বলেন, ক্যাম্পাসে রাজনীতি নিষিদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও এ ধরনের কার্যক্রম কাম্য নয়। দাবি আদায়ের জন্য পুরো ক্যাম্পাস পড়ে থাকলেও উপাচার্যের নামফলককে বেছে নেওয়াটা অবমাননাকর।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপাচার্য অধ্যাপক মুহাম্মদ ইসমাইল জানান, তিনি নিজ দপ্তরে অবস্থান করলেও লেখাটি দেখেননি। তিনি মন্তব্য করেন, এসব লিখলে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা লিখতে পারে। অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ তামজিদ হোছাইন চৌধুরী জানান, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন।