চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়নে একটি বিপন্ন প্রজাতির মেছো বিড়ালকে পিটিয়ে হত্যার পর বৈদ্যুতিক পিলারের সঙ্গে বেঁধে রাখার খবর পাওয়া গেছে।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) মুছাপুর এক নম্বর ওয়ার্ডের বশিরিয়া আবাসিক গলির পূর্ব পাশে, রাস্তার দক্ষিণ দিকে ‘ছাপ্পান ডাক্তারের বাড়ির’ সামনে এই ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।
স্থানীয়রা জানান, একটি মুরগির খামারে সোমবার রাতে প্রাণীটিকে দেখা যায়। খামার মালিকের পাতা ফাঁদে প্রাণীটি আটকা পড়ে। সেখানে মেছো বিড়ালটিকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। পরে মৃত অবস্থায় একটি বৈদ্যুতিক পিলারের সঙ্গে রশি দিয়ে ঝুলিয়ে রাখা হয়। উৎসুক জনতা মৃত প্রাণীটিকে দেখতে সেখানে ভিড় জমায়।
পরিবেশ সচেতনদের মতে, আবাসস্থল ধ্বংস হওয়া এবং খাদ্যের অভাবে এই প্রাণীরা লোকালয়ে চলে আসে। মেছো বিড়াল মূলত ক্ষতিকর ইঁদুর ও সাপ খেয়ে কৃষকের উপকার করে। ‘বাঘ’ মনে করে এদের হত্যা করা পরিবেশের ভারসাম্যের জন্য চরম হুমকি।
বাংলাদেশে বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন-২০১২ অনুযায়ী, মেছো বিড়াল একটি সংরক্ষিত প্রাণী। এ ধরনের প্রাণী হত্যা করা দণ্ডনীয় অপরাধ। এই আইনের ৩৬ ধারা মোতাবেক–সংরক্ষিত বন্যপ্রাণী হত্যার জন্য অপরাধীর সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে।
বিষয়টি সম্পর্কে উপকূলীয় বন বিভাগের সন্দ্বীপ রেঞ্জের ডেপুটি রেঞ্জার মো. নিজাম উদ্দীনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি জানান, তিনি ঘটনার শুনেছেন। তাৎক্ষণিক সেখানে বন বিভাগের লোক পাঠিয়েছেন।
তিনি বলেন, ঘটনাস্থল থেকে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। তদন্ত করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।