হাসপাতালের সবচেয়ে পুরোনো দুই ভবনের দেয়ালে ঝুলছে গণপূর্ত বিভাগের একটি সতর্কবার্তা-‘ঝুঁকিপূর্ণ ভবন’। সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, ‘ভবনটি ব্যবহার ও বসবাস না করার জন্য সকলকে বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। ভবনটি অতিসত্বর খালি করা সাপেক্ষে ভাঙার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে’। কিন্তু সেই ভবনের ভিতরেই চলছে স্বাভাবিক চিকিৎসা কার্যক্রম, চলছে মানুষের বসবাস। সরেজমিনে দেখা যায়, শত বছরের পুরোনো গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি বিভাগের ভবনটি বেশ নাজুক অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে। দেয়ালে ফাটল, খসে পড়েছে পলেস্তারা। দেয়ালের ভিতর থেকে বেরিয়ে এসেছে বটগাছ। তবু সেখানে নিয়মিত রোগী দেখা হচ্ছে, চালু রয়েছে ব্লাড ব্যাংকের কার্যক্রমও। ওপরের তলাগুলোতে কাঠের পার্টিশন দিয়ে বানানো ছোট ছোট কক্ষে পরিবার নিয়ে থাকছেন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীরা। হাসপাতালের অন্য ভবনেও দেখা গেছে একই চিত্র- জীর্ণ কাঠামো, নড়বড়ে অবস্থা, তবু থামেনি ব্যবহার। সেখানে চিকিৎসাসেবা দেওয়া ও সেবাগ্রহীতা উভয়ই জানালেন আতঙ্কের কথা। এরপরও জীবন বাঁচাতে জীবনের ঝুঁকি নিচ্ছেন তারা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক রোগীর স্বজন বলেন, ভবনটি এতটাই ঝুঁকিপূর্ণ যে, এটির পাশে দাঁড়াতেই ভয় লাগে। এর পরও স্বজনের জীবন বাঁচাতে রক্ত দিতে আসছি। যেকোনো সময় ভবন ধসে পড়লে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এদিকে ঝুঁকিপূর্ণ ১ নম্বর ভবনের নিচতলায় চিকিৎসা কার্যক্রম চললেও দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলা পুরোটাই কর্মচারীদের আবাসস্থল। দ্বিতীয় তলায় গিয়ে কথা হয় মাইনুল নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে। একটি রুমের সামনে দুই সন্তান নিয়ে খেলতে থাকা মাইনুলকে দেখলেই বোঝা যায়, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই সুখের সংসার পেতেছেন তিনি। নিজেকে হাসপাতালের স্টাফ পরিচয় দিয়ে মাইনুল বলেন, তার বাড়ি বরিশালে। স্ত্রী ও দুই সন্তানের ডেঙ্গু হওয়ায় ডাক্তার দেখাতে এসে এখানে সাময়িক সময়ের জন্য উঠেছেন। জানতে চাইলে হাসপাতালের চতুর্থ শ্রেণি সরকারি কর্মচারী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেন বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ঝুঁকির বিষয়টি আমরা জানি। কিন্তু কম বেতনে ঢাকায় আলাদা বাসা নেওয়া কঠিন। এখানে থাকলে অন্তত খরচটা কিছু সামলানো যায়। আমি নিজেও এখানে থাকি। বিনিময়ে ১১০০ টাকা গ্যাস-বিদ্যুৎ বিল দিই।