সরকার জ্বালানি তেলের দাম বাড়াতে বাধ্য হয়েছে বলে দাবি করেছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। তিনি বলেছেন, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম দ্বিগুণ বেড়েছে। কিন্তু জনগণের কথা ভেবে আমরা সামান্য দাম বাড়িয়েছি।
রাজধানীর সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির যৌক্তিকতা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থির পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি তেল আমদানিতে সরকারের বাড়তি দুই বিলিয়ন ডলার খরচ করতে হচ্ছে। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের যে দাম ছিল, বর্তমানে তা প্রায় দ্বিগুণ। এই বিশাল মূল্যবৃদ্ধির ফলে সরকারের ওপর ব্যাপক অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি হয়েছে।
নতুন মূল্যবৃদ্ধি প্রসঙ্গে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেছেন, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম প্রায় দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেলেও সরকার জনগণের কথা বিবেচনা করে তুলনামূলকভাবে খুবই সামান্য দাম সমন্বয় করেছে।
সরকার জনগণের স্বস্তির কথা ভাবছে জানিয়ে মন্ত্রী আরও বলেন, আমরা জনগণের স্বস্তির কথা চিন্তা করেই পরিস্থিতির তুলনায় অনেক কম দাম বাড়িয়েছি। সরকার ভর্তুকি প্রদান অব্যাহত রেখে বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে। মূলত জনগণের ভোগান্তি কমাতে এবং দেশের অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সরকার এই বিশাল বাড়তি ব্যয়ের একটি বড় অংশ নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছে এবং অত্যন্ত সীমিত পরিসরে দাম সমন্বয় করা হয়েছে।
ইরান যুদ্ধের পর থেকে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যায়। এর ছোঁয়া লাগল বাংলাদেশেও। দীর্ঘদিন মূল্য স্থিতিশীল রাখার নীতিতে অটল থাকলেও, পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ১৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বাড়িয়েছে সরকার। আজ থেকে নতুন এই বর্ধিত মূল্য কার্যকর হয়েছে।
সরকারের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পেট্রোলের দাম লিটার প্রতি ১৯ টাকা ও অকটেনের দাম লিটার প্রতি ২০ টাকা করে বেড়েছে। সেইসঙ্গে ডিজেলের দাম বেড়েছে প্রতি লিটারে ১৫ টাকা।
এর ফলে, বর্তমানে প্রতি লিটার অকটেনের দাম দাঁড়িয়েছে ১৪০ টাকা, পেট্রোলের দাম হয়েছে ১৩৫ টাকা এবং ডিজেলের দাম হয়ে গেছে ১১৫ টাকা।
নতুন সিদ্ধান্তে দাম বাড়ানো হয়েছে কেরোসিনেরও। ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি লিটার কেরোসিন এখন বিক্রি হচ্ছে ১৩০ টাকায়।