Image description

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) আগামী বৈঠকে ছয়টি নতুন প্রকল্প প্রস্তাব বিবেচনার জন্য উপস্থাপন করা হবে। এতে গুরুত্ব পাচ্ছে দেশের স্বাস্থ্যসেবা ও রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন। এ ছাড়া চলমান ছয়টি প্রকল্পের সংশোধন এবং ব্যয় বৃদ্ধি ছাড়াই মেয়াদ বাড়ানোর জন্য আরও চারটি প্রকল্পসহ মোট ১৬টি উন্নয়ন প্রকল্প এ বৈঠকে তোলা হচ্ছে।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, নতুন ছয়টি প্রকল্পে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১২ হাজার ৯৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৮ হাজার ৩৮৬ কোটি টাকা সরকার নিজস্ব তহবিল থেকে বহন করবে এবং বাকি ৩ হাজার ৭১৩ কোটি টাকা বৈদেশিক সহায়তা হিসেবে পাওয়া যাবে। গত ৬ এপ্রিলের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর বিভিন্ন প্রশ্নের সন্তোষজনক জবাব দিতে না পারায় পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় প্রকল্প যাচাইবাছাই আরও কঠোর করার উদ্যোগ নিয়েছে। এ লক্ষ্যে আজ একটি বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে একনেকে উপস্থাপনের অপেক্ষায় থাকা প্রকল্পগুলো পর্যালোচনা করা হবে। সভায় সভাপতিত্ব করবেন পরিকল্পনা বিভাগের সচিব এস এম শাকিল আখতার। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর এবং পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি উপস্থিত থাকতে পারেন।

কর্মকর্তারা জানান, এ পর্যালোচনায় প্রতিটি প্রকল্পের যৌক্তিকতা, প্রধান উপাদানের প্রয়োজনীয়তা এবং ব্যয়ের খাতভিত্তিক বিশ্লেষণ করা হবে। ঢাকায় জরুরি পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে স্থানীয় সরকার বিভাগ ৯২১ কোটি টাকার একটি প্রকল্প প্রস্তাব করেছে। এতে ৬২টি নতুন গভীর নলকূপ স্থাপন এবং ৭২৮টি বিদ্যমান নলকূপ পুনর্বাসনের মাধ্যমে প্রতিদিন অতিরিক্ত ৫৭ কোটি ৬০ লাখ লিটার পানি উত্তোলনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ঢাকা শহরে জরুরি পানি সরবরাহ শীর্ষক প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে ঢাকা ওয়াসা। তবে পরিকল্পনা কমিশন ও বিশেষজ্ঞরা এ প্রকল্পের সমালোচনা করেছেন। তাদের মতে, এটি ঢাকা ওয়াসার মাস্টারপ্ল্যানের পরিপন্থি। ওই পরিকল্পনায় ২০১১ সালের ২০ শতাংশ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে ৭০ শতাংশ পানি পৃষ্ঠস্থ উৎস থেকে সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের প্রকল্প ঢাকার পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে এবং ৩৩ হাজার ১৩৬ কোটি টাকার পৃষ্ঠস্থ পানি প্রকল্পে অগ্রগতির ঘাটতি আড়াল করার চেষ্টা হতে পারে। এদিকে সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগ ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা সীমান্ত এলাকায় পাঁচটি জলবায়ু সহনশীল সেতু নির্মাণে ৩ হাজার ৬৭৭ কোটি টাকার একটি প্রকল্প প্রস্তাব করেছে। এতে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক সম্ভাবনা বৃদ্ধির আশা করা হচ্ছে।

প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক ২ হাজার ৭৬৫ কোটি টাকা ঋণ সহায়তা দেবে। আলজিয়ার্সে অনুষ্ঠিত সংস্থাটির বার্ষিক সভায় বাংলাদেশ ২৪ কোটি ১৩ লাখ ডলারের ঋণচুক্তি স্বাক্ষর করে, যা পরবর্তীতে সরকারের নন-কনসেশনাল ঋণ কমিটি অনুমোদন দেয়। ময়মনসিংহ বিভাগে পাঁচটি জলবায়ু সহনশীল সেতু নির্মাণ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগ এবং ২০৩১ সালের জানুয়ারির মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। এ ছাড়া শহুরে জনগোষ্ঠীর জন্য সমন্বিত স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ সম্প্রসারণে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ১ হাজার ১৫৭ কোটি টাকার একটি প্রকল্প প্রস্তাব করেছে। এর মধ্যে ২০৮ কোটি টাকা সরকার দেবে এবং বিশ্বব্যাংক ৯৪৯ কোটি টাকা ঋণ সহায়তা দেবে। অন্যদিকে বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলের রেললাইন রক্ষণাবেক্ষণ ও পুনর্বাসনের (প্রথম ধাপ) জন্য ২ হাজার ২৯ কোটি টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে, যা পুরোপুরি সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়িত হবে। এ ছাড়া রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলার সীমান্ত সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের দ্বিতীয় ধাপের ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৬৬৬ কোটি টাকা।