Image description
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের প্রভাব

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের প্রভাবে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সবচেয়ে বেশি নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে নেপালে। গতির মন্থরতায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। যুদ্ধের প্রভাবে প্রায় সব দেশেরই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার কমছে। তবে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে প্রবৃদ্ধির দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে ভারত। মন্দার মধ্যেই দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। এমনকি এশিয়ার অনেক দেশের চেয়ে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির হার বেশি হচ্ছে। তবে অনেক দেশের তুলনায় বাংলাদেশে মূল্যস্ফীতির হার এখনো অনেক বেশি। চলতি অর্থবছর শেষে এ হার ৯ দশমিক ২ শতাংশ হতে পারে। সম্প্রতি প্রকাশিত আইএমএফের একাধিক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

প্রতিবেদন থেকে পাওয়া তথ্যে দেখা দেখা যায়, আইএমএফ পূর্বাভাস দিয়েছে চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হবে ৪ দশমিক ৭ শতাংশ। গত বছরের অক্টোবরে সংস্থাটি বলেছিল ৪ দশমিক ৯ শতাংশ হবে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের নেতিবাচক প্রভাবের কারণে সংস্থাটি বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি কমিয়েছে দশমিক ২ শতাংশ।

অপর এক প্রতিবেদনে সংস্থাটি বলেছে, চলতি অর্থবছর শেষে বাংলাদেশের মূল্যস্ফীতির হার বেড়ে ৯ দশমিক ২ শতাংশ হতে পারে। সম্প্রতি বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো তথ্য দিয়েছে, গত মার্চে এ হার ৮ দশমিক ৭১ শতাংশে নেমেছে। এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে এ হার ছিল ৯ দশমিক ১৩ শতাংশ।

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি হবে ভারতের। চলতি বছরে ভারতের প্রবৃদ্ধি হবে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ। গত অক্টোবরে সংস্থাটি বলেছিল তাদের প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ২ শতাংশ হবে। আগের তুলনায় প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দশমিক ৩ শতাংশ বাড়িয়েছে। চলতি বছরে পাকিস্তানের প্রবৃদ্ধি হবে ৩ দশমিক ৬ শতাংশ। একই সময়ে মূল্যস্ফীতি হবে ৭ দশমিক ২ শতাংশ। একই সময়ে মালদ্বীপের প্রবৃদ্ধির হার ৩ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। তাদের মূল্যস্ফীতি হবে ৩ শতাংশ।

আইএমএফের পূর্বাভাস অনুযায়ী মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে নেপালের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সবচেয়ে বেশি নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। যে কারণে দেশটির প্রবৃদ্ধির হার সবচেয়ে বেশি কমানো হয়েছে। চলতি বছরে নেপালের প্রবৃদ্ধি হবে ৩ শতাংশ। গত অক্টোবরে সংস্থাটি বলেছিল প্রবৃদ্ধি হবে ৫ দশমিক ২ শতাংশ। আগের তুলনায় কমেছে ২ দশমিক ২ শতাংশ।

এদিকে এশিয়ার অন্য দেশগুলোর মধ্যে চীনের প্রবৃদ্ধি হবে ৪ দশমিক ৪ শতাংশ। গত অক্টোবরে সংস্থাটি বলেছিল দেশটির প্রবৃদ্ধি হবে ৪ দশমিক ২ শতাংশ। তাদের ক্ষেত্রে দশমিক ২ শতাংশ বৃদ্ধি করেছে। চীনের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়ার কারণে তাদের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাসও বাড়িয়েছে আইএমএফ।

মালয়েশিয়ার প্রবৃদ্ধি হবে ৪ দশমিক ৭ শতাংশ। গত অক্টোবরে বলেছিল প্রবৃদ্ধি হবে ৪ শতাংশ। এখন প্রবৃদ্ধির হার দশমিক ৭ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। দেশটিতে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়ায় ও রপ্তানি পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রবৃদ্ধির হারও বাড়ানো হয়েছে। মিয়ানমারের প্রবৃদ্ধি হবে ৩ শতাংশ। অক্টোবরের তুলনায় প্রবৃদ্ধির হার অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। থাইল্যান্ডের প্রবৃদ্ধি হবে ১ দশমিক ৫ শতাংশ। যা অক্টোবরের তুলনায় দশমিক ১ শতাংশ কম।