Image description

জ্বালানি তেলের সংকটের কারণে জামালপুর শহরে গভীর রাত থেকেই ডিলার পয়েন্টের সামনে দীর্ঘ সারিতে অপেক্ষা করতে দেখা যায় শত শত মোটরসাইকেল চালককে। এতে যেমন চরম দুর্ভোগ তৈরি হয়েছে, তেমনি নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) দিবাগত রাত প্রায় ১টার দিকে শহরের পিটিআই এলাকার জুই এন্টারপ্রাইজের সামনে এমন চিত্র দেখা যায়।

সরজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, বাঁশ দিয়ে তৈরি অস্থায়ী সারিতে মোটরসাইকেল দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে। দীর্ঘ সারিতে চালকরা কেউ মোটরসাইকেলের ওপর বসে, কেউ আবার রাস্তায় শুয়ে রাত কাটাচ্ছেন।

মোটরসাইকেল চালকদের অভিযোগ, মশার কামড়, ঘুমের অভাব এবং নিরাপত্তা ঝুঁকি- সব মিলিয়ে এক অসহনীয় পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে হচ্ছে তাদের। শুধু তেল নেওয়ার আশায় পুরো রাত রাস্তায় কাটাতে হচ্ছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা।

তেল নিতে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবী আক্তারুজ্জামান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘তেলের জন্য রাত ১টায় লাইনে, এটা কি বাংলাদেশ, নাকি যুদ্ধের দেশ? আমাদের দেশে তো যুদ্ধ হচ্ছে না। অথচ সারাদিন কাজ করার পর রাতে বাসায় না গিয়ে তেলের লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। তেলের জন্য রাতে রাস্তায় ঘুমাতে হচ্ছে। দেখা যাচ্ছে আজকে রাতে তেলের জন্য লাইনে দাঁড়িয়েছি, কালকে অফিস করতে পারব না। আবার যদি অফিসে না যেতে পারি, তাহলে আমার ইনকাম সোর্সটা বন্ধ হয়ে যাবে। আমার ইনকাম বন্ধ হয়ে গেলে তো আর আমার ফ্যামিলি চলবে না।’

তেলের অপেক্ষায় রাত থেকেই মোটরসাইকেলের দীর্ঘ সারি। ছবি: এশিয়া পোস্ট
তেলের অপেক্ষায় রাত থেকেই মোটরসাইকেলের দীর্ঘ সারি।

সঞ্জয় বাবু নামে একজন বলেন, ‘শুনলাম এখানে তেল দেওয়া হবে, তাই বন্ধুর বাসা থেকে বালিশ এনে লাইনে মোটরসাইকেল রেখে রাস্তায় শুয়ে আছি। সকালে তেল নিয়ে কাজে যাব। এখন রাত বাজে ১টা। আমার বৃদ্ধ বাবা-মা বাসায়, আমরা শুনেতেছি মন্ত্রিপরিষদ বা সংসদে পর্যাপ্ত তেল আছে। কিন্তু কোথায় তেল? তারা কি দেখতেছে না রাতে আমরা কতটা কষ্ট করতেছি। এগুলো একটু তাদের দেখা দরকার।’

একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে সবুজ মিয়া বলেন, প্রতিদিন এমন কষ্ট করতে হচ্ছে। সারা রাত রাস্তায় থেকে তেল নিতে হয়, আবার সকালে কাজে যেতে হয়। প্রাইভেট চাকরিজীবীদের জন্য এটা খুবই কষ্টকর। দ্রুত এই সমস্যার সমাধান দরকার।

 

রাতে দোকান বন্ধ থাকায় জুই এন্টারপ্রাইজের কোনো দায়িত্বশীল ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।