Image description

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে কথিত পীর শামীম জাহাঙ্গীর ওরফে আব্দুর রহমানকে হত্যা মামলায় জামায়াত নেতাকে প্রধান আসামি করার প্রতিবাদে দৌলতপুরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিকেলে দৌলতপুর উপজেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামী সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয় এবং দৌলতপুর থানার সামনে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ হয়।

দৌলতপুর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির বেলাল উদ্দিন বলেন, ‘ঘটনাটি সুষ্ঠ তদন্তের দাবিতে শুরু থেকেই তারা প্রশাসনের কাছে ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনার মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের আহ্বান জানিয়ে আসছেন।

তবে পরিকল্পিতভাবে জামায়াত নেতা খাজা আহমেদকে মামলার প্রধান আসামি করা হয়েছে।’

 

তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট এলাকায় খাজা আহমেদের জনপ্রিয়তা ও সম্ভাব্য ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচনে অংশগ্রহণে তার আকাশচুম্বী সমর্থনে ঈর্ষান্বিত হয়ে প্রতিপক্ষ একটি মহল তাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে। একটি স্বার্থান্বেষী চক্র রাতের আঁধারে সাধারণ মানুষের বাড়ি গিয়ে মামলা দেওয়ার ভয় দেখিয়ে অবৈধভাবে অর্থ আদায় করছে।

হত্যার তিন দিন পর নিহত পীরের বড় ভাই ফজলুর রহমান সান্টু বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় একটি মামলা করেন।

মামলায় কুষ্টিয়া জেলা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি ও দৌলতপুর উপজেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য খাজা আহমেদকে হুকুমের প্রধান আসামি করা হয়। এ ছাড়া মামলায় আরো তিনজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে—বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের দৌলতপুর উপজেলা শাখার সভাপতি আসাদুজ্জামান আসাদ (৪৮), জামায়াত সমর্থক রাজিব মিস্ত্রি (৩২) এবং একটি স্থানীয় মাদরাসার শিক্ষক সিহাব (সাফি) (৪৫)। সিহাব (সাফি) বিএনপি সমর্থক বলে বলে জানা গেছে। এ ছাড়া মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় আরো ১৮০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

 

তবে পীর শামীম হত্যার এ ঘটনায় ৬ দিন পার হলেও এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান।

উল্লেখ্য, এর আগে পবিত্র কোরআন অবমাননার অভিযোগ এনে শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুর আড়াইটার দিকে দৌলতপুর উপজেলার দক্ষিণ-পশ্চিম ফিলিপনগর গ্রামে বিভিন্ন বয়সী শতাধিক উচ্ছৃঙ্খল জনতা শামীম জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে স্লোগান দিয়ে তার আস্তানা বা দরবারে হামলা চালায়। হামলাকারী যুবকরা শামীমকে তার কক্ষ থেকে টেনহিঁচড়ে বের করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করে দোতলা থেকে নিচে ফেলে দেয়।