দেশে গ্যাস সরবরাহে কোনো সংকট নেই বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। বরং চাহিদা মেটাতে চলতি এপ্রিল ও আগামী মে মাসে মোট ১৬টি কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার।
সূত্র জানায়, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত রাখতে নিয়মিত আমদানির পাশাপাশি বিকল্প উৎস থেকেও এলএনজি সংগ্রহের প্রস্তুতি চলছে। এতে গ্যাস সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটার কোনো আশঙ্কা নেই বলে মনে করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজসম্পদ কর্পোরেশন (পেট্রোবাংলা)-এর পরিচালক (প্রকৌশল) মো. রফিকুল ইসলাম জানান, এপ্রিল মাসে মোট ৯টি এলএনজি কার্গো আমদানি হচ্ছে। এর মধ্যে ইতোমধ্যে ৪টি দেশে এসে পৌঁছেছে।
তিনি আরও জানান, মে মাসে ১১টি কার্গো আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে ৭টি ইতোমধ্যে নিশ্চিত হয়েছে, বাকি ৪টির প্রক্রিয়া চলছে।
রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড (আরপিজিসিএল) সূত্রে জানা গেছে, এপ্রিলের কার্গোগুলোর উৎস হিসেবে অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও অ্যাঙ্গোলা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশীয় গ্যাস উৎপাদন কমে যাওয়ায় বাংলাদেশ ধীরে ধীরে আমদানিনির্ভর হয়ে পড়ছে। ফলে বিশ্ববাজারে এলএনজির দামের ওঠানামা দেশের জ্বালানি ব্যয়ে সরাসরি প্রভাব ফেলছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. বদরুল ইমাম বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতায় এলএনজির দাম বাড়ছে, যা আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জন্য চাপ তৈরি করছে। তিনি ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ার মতো তুলনামূলক নিকটবর্তী উৎস থেকে আমদানির পরামর্শ দেন।
সরকার বলছে, ভর্তুকি দিয়ে হলেও জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা হবে এবং দেশের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণে সব ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।
সূত্র: বাসস